শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
32 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমরহস্য উদঘাটনএকটি নিখোঁজ ডায়েরি, অতঃপর লাশ

একটি নিখোঁজ ডায়েরি, অতঃপর লাশ

ডিটেকটিভ ডেস্ক
,

রফিক সাহেব থানার বড় দারোগা সাহেবের রুমে বসে আছেন। দারোগা সাহেব তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন একটি জিডির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দারোগা সাহেব একটি ফাইল এগিয়ে দিলেন। রফিক সাহেব ফাইলটি খুলে দেখলেন—ভেতরে একটি সাধারণ ডায়েরি। এর পেছনে আরও কয়েকটি কাগজ সংযুক্ত আছে।তিনি মনোযোগ দিয়ে জিডির বিবরণীতে চোখ বুলাতে লাগলেন। একই সঙ্গে দারোগা সাহেব বৃত্তান্ত বর্ণনা করছিলেন—কী ধরনের অভিযোগ, কী কী বিষয় খুঁজে দেখতে হবে ইত্যাদি। সব মিলিয়ে রফিক সাহেব যা বুঝলেন—এটি একটি নিখোঁজ মামলা। একজন নারী নিখোঁজ হয়েছেন।নিখোঁজ নারীর নাম আলেয়া। সাধারণ ডায়েরির বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর আলেয়া কাউকে কিছু না বলে তার স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তার স্বামীর নাম করিম আলী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার জেরে হয়তো তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে আলেয়া বেগমের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।সাধারণ ডায়েরিটি করেছেন আলেয়ার সৎমা রহিমা বানু। বিবরণীতে এর বাইরে তেমন কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।রফিক সাহেব আলেয়া বেগমের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ভাবতে লাগলেন। তিনি কোথায় যেতে পারেন—এই প্রশ্নটাই ঘুরছিল মাথায়। যেহেতু জিডিটি করা হয়েছে মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে, সেক্ষেত্রে সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে এসেছেন—এমন কোনো আলামতও পাওয়া যাচ্ছে না।তবু রফিক সাহেব আলেয়ার স্বামী করিম আলীকে ফোন করলেন। জানতে চাইলেন, তার স্ত্রী বাড়িতে ফিরেছেন কি না। করিম আলী শান্ত গলায় জানালেন—না, তিনি ফেরেননি। ফোন রাখার আগে রফিক সাহেব আরও কিছু প্রশ্ন করলেন। কিন্তু ফোন রাখার পর থেকেই তার ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করতে লাগল। মনে হলো, সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। মেয়েটি কোথায় আছে—এটা এখনই বের না করলে বড় ঝামেলা হয়ে যেতে পারে।দ্রুত রফিক সাহেব মেয়ের বাবার বাড়ির আশপাশে খোঁজ নিতে শুরু করলেন। পাশের এক প্রতিবেশীর কাছে আলেয়া বেগমের কথা জিজ্ঞেস করতেই যে তথ্য তিনি পেলেন, তাতে রফিক সাহেবের মুখ আতঙ্কে কালো হয়ে গেল।প্রতিবেশী জানালেন, আলেয়ার সৎমা রহিমা বানু অনেক আগেই তাকে ওই বাড়িতে আসতে বারণ করেছিলেন। আলেয়ার বাবার সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আরও জানা গেল, আলেয়ার স্বামী করিম আলী আসলে ওই সৎমার আত্মীয়। ঘটনার দিন আলেয়া ওই বাড়িতে এসেছিলেন। সেদিনও নাকি সৎমার সঙ্গে তার প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। দুজনই একে অপরকে হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন।

এভাবেই কেটে যায় আরও দুই দিন। হঠাৎ একদিন দুপুরে আসে সেই ভয়ংকর দুঃসংবাদ, যার আশঙ্কা রফিক সাহেব করছিলেন।আলেয়ার লাশ পাওয়া যায় পাশের একটি ধানক্ষেতে। আলেয়ার স্বামীর বাড়ির কাছেই একটি বড় বন রয়েছে। সেই বনের পাশের ঝোপঝাড় সংলগ্ন ধানক্ষেতেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।প্রথমে শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। কিন্তু পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, আলেয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।রফিক সাহেব সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দেন আলেয়ার স্বামী করিম আলী ও সৎমা রহিমা বানুকে গ্রেফতারের জন্য। দুজনকে আটক করে থানায় আনা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে করিম আলী জানান, আলেয়ার সঙ্গে তার ঝগড়া হচ্ছিল মূলত পাশের বাড়ির এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে আলেয়ার পরকীয়া সম্পর্কের কারণে। এ নিয়েই ঘটনার দিনও ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের কথাও ওঠে। এই বিষয় নিয়ে আগেও পারিবারিকভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছিল।
অন্যদিকে সৎমা রহিমা বানু বলেন, তার সঙ্গে আলেয়ার ঝগড়ার কারণ ছিল ভিন্ন। আলেয়া বেশ কিছুদিন ধরে তার স্বামীকে তালাক দিয়ে নতুন একজনকে বিয়ে করতে চাচ্ছিল। সে জন্য বাবার সম্পত্তির অংশ তার নামে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছিল। আলেয়ার বাবা মারা যাওয়ায় উত্তরাধিকারী হিসেবে কেবল আলেয়া ও তার সৎমাই ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত।এর মধ্যেই রফিক সাহেব গ্রেফতার করেন আলেয়ার পরকীয়া প্রেমিক জহিরকে। তবে জহির ভিন্ন কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, আলেয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ঘটনার দিনগুলিতে তার সঙ্গে আলেয়ার কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেন।পুলিশ এবার আরও গভীর তদন্তে নামে। জহিরের এক প্রতিবেশীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনের বিষয়ে জহির পুরো সত্য বলেননি। আসলে সেদিন জহির ও আলেয়া দুজনেই সৎমা রহিমা বানুর বাসায় গিয়েছিলেন। জহির লুকিয়ে ছিল। কিন্তু এখানেই ঘটনা শেষ নয়।তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, সেদিন আলেয়ার স্বামী করিম আলীও রহিমা বানুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেদিনও তিনি ও আলেয়া মুখোমুখি হন।ঘটনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছিল। তবে রফিক সাহেব বুঝতে পারছিলেন—তিনজনই তাদের বক্তব্যে কোথাও না কোথাও ভুল করছে। সেই ভুলগুলো খুঁজে বের করতে পারলেই মামলার সমাধান মিলবে।

ডিটেকটিভের
পাঠকদের জন্য প্রশ্ন:
এখন প্রশ্ন রইল পাঠকদের কাছে- 

  • গল্পের শেষটা কী হতে পারে?
  •  খুনটা কে করেছে?
  •  এই তিনজনের মধে ̈ কে হত্যাকারী? 
  • আর কেনই বা সে এই খুন করল?

উত্তর পাঠাও:
 contact@detectivebp.com
 সাবজেক্ট লিখুন: “শখের গোয়েন্দা”
হোয়াটসঅ্যাপে:
+৮৮০১৩২০-০৮৯০৯৯

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ