ধানমন্ডির অভিজাত পাড়ায় শিল্পপতি রায়হান চৌধুরীর বাড়িতে এক রহস্যময় চুরির ঘটনা ঘটে। তার বহুমূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ‘সুলতানি আমলের মুদ্রা’, সিন্দুক থেকে উধাও হয়ে যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাড়ির অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অক্ষত ছিল এবং চুরির কোনো আলামত ছিল না। মনে হচ্ছিল, যেন মুদ্রাগুলো জাদুর মতো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
গোয়েন্দা রাশেদ এই মামলার দায়িত্ব নেন। তিনি প্রথমেই চারজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেন: রায়হান সাহেবের বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত সহকারী হাসান, যিনি বাড়ির সব গোপনীয় বিষয় জানতেন; রায়হানের ব্যবসায়িক অংশীদার আসিফ, যিনি সম্প্রতি ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন; রায়হানের দীর্ঘদিনের ড্রাইভার জাহিদ, যিনি বাড়ির বাইরে এবং ভেতরে অবাধে চলাচলের সুযোগ পেতেন; এবং বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক শোভন, যিনি সবসময় বাড়ির দেখভাল করতেন।
তদন্ত শুরু হলে প্রত্যেকের জবানবন্দি নেওয়া হয়। হাসান জানান, চুরির রাতে তিনি রায়হানের সঙ্গে অফিসের কাজ করছিলেন। আসিফ দাবি করেন, তিনি একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে ছিলেন। জাহিদ বলেন, তিনি বাইরে গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন এবং শোভন তার নিজের ঘরে ছিলেন।
গোয়েন্দা রাশেদ প্রতিটি জবানবন্দি থেকে অসংগতি খুঁজে বের করেন। তিনি দেখতে পান, লকারের ওপর কোনো ভাঙার চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি খোলা ছিল। লকার খোলার কোডটি রায়হান, হাসান এবং আসিফ, এই তিনজনেরই জানা ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৯:০০টায় ১৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায় এবং এই সময়ের মধ্যেই চুরিটি ঘটে।
এরপর আসে ফরেনসিক প্রমাণ। লকারের ভেতর থেকে একটি পুরোনো সিগারেট লাইটার পাওয়া যায়, যাতে জাহিদের আঙুলের ছাপ ছিল। আলমারির হাতলে ছিল আসিফের হাতের ছাপ। শোভনের ঘরের মেঝেতে কিছু মাটি পাওয়া যায়, যা বাগানের মাটির সঙ্গে মেলে না। আর হাসানের পকেটে একটি পুরোনো ধাঁচের তালা খোলার চাবি পাওয়া যায়।
গোয়েন্দা রাশেদ এই প্রমাণগুলো নিয়ে তার বিশ্লেষণ শুরু করেন। হাসানের কাছে লকারের কোড থাকা সত্ত্বেও তার পকেটে থাকা চাবিটি কেন রহস্যময়? আসিফের হাতের ছাপ কেন আলমারির হাতলে পাওয়া গেল? বাইরে থাকার কথা থাকলেও জাহিদের লাইটার কেন লকারের ভেতর পাওয়া গেল? আর শোভনের ঘরে ভিন্ন ধরনের মাটিই বা কোথা থেকে এল? এই সব সূত্রগুলো একটি জটিল ধাঁধার মতো। প্রতিটি সূত্র যেন আলাদাভাবে একজন করে আসামির দিকে ইঙ্গিত করছে। কিন্তু সব সূত্রকে এক সুতোয় গাঁথলেই কেবল আসল চোরকে খুঁজে বের করা সম্ভব।
আপনার কী মনে হয়, কে এই চুরির জন্য দায়ী? এবং সে কীভাবে এই চুরি করে? আপনার উত্তর শখের গোয়েন্দা সাবজেক্ট লাইনে লিখে detectivebdp@gmail.com ঠিকানায় পাঠান।
