হোমখবরাখবরঅপরাধ দমনে অনলাইন নজরদারিতে ডেনিশ পুলিশের বিশেষ টিম

অপরাধ দমনে অনলাইন নজরদারিতে ডেনিশ পুলিশের বিশেষ টিম

ডিটেকটিভ ডেস্ক
,

অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় যে কঠোর অবস্থান নিতে হবে, তা নয়। অনেক সময় বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমেও নাগরিকদের অপরাধ থেকে বিরত রাখা যায়, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের। ডেনমার্কের পুলিশ সেই কাজটিই করছে। দেশটির পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষ টিম অনলাইন গেম স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতারণা, যৌন হয়রানির মতো অনলাইন অপরাধ দমনে কাজ করছে। ২০২২ সালে গঠিত এই বিশেষ টিমের নাম ‘পলিটিয়েটস অনলাইন প্যাট্রুলিয়ে’। বর্তমানে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ৭ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি। টিমের সদস্যরা কাউন্টার-স্ট্রাইকের মতো জনপ্রিয় অনলাইন গেম খেলে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এরপর ডিসকর্ড, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে তাদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চালান। এভাবে তারা সন্দেহজনক আচরণের তথ্য সংগ্রহ করেন। এই টিমের সুপারিনটেনডেন্ট সিসে বির্কেবেক বলেন, ডেনমার্কের ৯৯ শতাংশ শিশু প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। তাই আমাদেরও এগুলো ব্যবহার করতে হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১২ জন সদস্যের এই টিম অধিকতর তদন্তের জন্য প্রায় ২৬০টি মামলা করেছে। টিমটির অপারেশন রুমে রয়েছে গেমিং কম্পিউটার, স্ট্রিমিং সরঞ্জাম এবং টিকটক ভিডিও তৈরির জন্য বিশেষ লাউঞ্জ। টিমের অফিসাররা বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাও বিভিন্ন ধরনের। প্রতিটি অফিসারের একটি নির্দিষ্ট নম্বর রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের অনলাইনে চেনা যায়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুলিশ কর্মকর্তারা শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। এসব শিশু-কিশোর হয়তো বাস্তব জীবনে কোনো পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায় না। কিন্তু অনলাইন দুনিয়ার মাধ্যমে তারা সেই সুযোগ পেয়ে যায়। পুলিশও তাদের জিজ্ঞাসা করে, তাদের কোনো সহায়তার প্রয়োজন আছে কি না। প্রতি সপ্তাহে তারা টুইচ প্ল্যাটফর্মে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টার প্রশ্নোত্তর সেশনের আয়োজন করে। সেখানে মোটরসাইকেল চালানোর নিয়ম-কানুন শেখানোর মতো বিষয় থেকে শুরু করে বিশেষায়িত এই টিমের কার্যক্রম সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। পুলিশ সার্জেন্ট মিকেল ওলসেন বলেন, যেভাবে স্থানীয় পুলিশ মাঠে শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলে, আমরাও একইভাবে অনলাইন দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে গেম খেলি। এতে তারা নিরাপদ বোধ করে এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। অনেক তরুণ অনলাইন অপরাধের শিকার হলেও ভয়ে পরিবারকে জানায় না। বিশেষায়িত এই টিমের সঙ্গে কথা বলে তারা গোপনে পুলিশের সাহায্য নিতে পারে।

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ