নিখোঁজ ব্যক্তির সাধারণ ডায়েরি এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত একই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার প্রস্তাব উঠেছে পুলিশ সপ্তাহের আলোচনায়। উদ্দেশ্য, অজ্ঞাত লাশের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করা এবং বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের সংখ্যা কমিয়ে আনা।
পুলিশ সপ্তাহের চতুর্থ দিনে আইজিপির সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান মোস্তফা কামাল। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত লাশের তথ্য নিয়ে আলাদা ও সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির কথা বলেন।
এতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা তথ্য দেখার সুযোগ পেতে পারেন এবং বিভিন্ন ইউনিটের তদন্তও একই সূত্রে যুক্ত থাকবে। বর্তমানে নিখোঁজের জিডি ও অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের মামলার তদন্ত অনেক ক্ষেত্রেই আলাদাভাবে পরিচালিত হয়। ফলে এক ইউনিটের তথ্য অন্য ইউনিটের কাছে দ্রুত পৌঁছায় না।
প্রস্তাব অনুযায়ী, থানা, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, পিবিআই, র্যাব, পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে একই ডেটাবেজের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরে এলে বা শনাক্ত হলে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার কথাও বলা হয়েছে।
পিবিআইর তথ্য অনুযায়ী, আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৫৭৭ জন পুরুষ ও ৫৮৪ জন অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ৫ হাজার ৫৭৭টি অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরিচয় শনাক্তে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তির তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে থাকে না। আবার শ্রমজীবী, প্রবীণ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত, পুড়ে যাওয়া বা পচনধরা মরদেহের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ মেলানো কঠিন হয়।
এ কারণে অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তে ছবি, ডিএনএ নমুনা, উদ্ধারস্থল, বয়স, পোশাক, শারীরিক বৈশিষ্ট্যসহ ২২ ধরনের তথ্য সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
