বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
37 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

বিড়াল রহস্য

মিজানুর রহমান শেলী
,

১.বাসার সামনে অনেক লোকজন। একসঙ্গে এত লোকজন জড়ো হয়নি কখনো। একজন-দুজন করে এসেছে। কারণ রয়া। বাসার সবচেয়ে আদুরে সে। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

রয়ার মা রাংতা একটু পরপর চিৎকার দিয়ে উঠছেন, ‘আমার রয়া!’ চিৎকারের আগে-পরে চিৎপটাং, জ্ঞান হারান। অথচ রয়ার মা একজন ডাক্তার। মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এটা এখন বড় বিষয়। ডাক্তারি বিদ্যা এখানে কাজ করবে না। মায়েদের মন এমন নরম যে, কিছু ঘটলে আর সেটা মেনে নিতে পারেন না। ঘটনা ঘটলে আগে মায়েরা জ্ঞান হারান। মুহূর্তে মাথা ক্রাশ করে। আর বলেন, এমনটা কেন হলো! এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। বিষয়টা যেন রয়া নয়, রয়ার মায়ের। চিৎপটাংয়ের আগে রয়ার মা তার সকল আত্মীয়, বন্ধু এবং রয়ার ক্লাসমেটদের মায়েদের ফোন দিয়েছিলেন। রয়ার বাবা আবু ইউসুফ পাখি। একটি কাজ ভালোভাবে করেছেন, তা হলো পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই এবং র‌্যাবকে ইনফর্ম করেছেন। ইতোমধ্যে এসব বাহিনীর লোকজনও আসা শুরু করেছে। রয়ার বাবা একটি হাসপাতালের মালিক। হ্যান্ডসাম লোক! সফল ব্যবসায়ী। সম্প্রতি একটি জাহাজও কিনেছেন। এই মুহূর্তে ধনসম্পদ তার কাছে তুচ্ছ। মেয়েকে আমার চাই।

২. ড্রয়িং রুমে পুলিশ। আবু ইউসুফের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আপনার মেয়ের বয়স কত?’ আবু ইউসুফ বললেন, ‘বয়স বারো-তেরো হবে। পুলিশের দারোগা মইনুল চোখ বড় করে বললেন, ‘বলেন কী, এ বয়স তো ডেঞ্জারাস বয়স! এ কথা বলা শেষ না হতেই কাজের বুয়া এক গ্লাস সরবত দারোগা সাহেবের নাকের সামনে ধরলেন। ধরে বললেন, ‘খান, ওতার মিলন। বুয়া ওয়াটারমেলনকে ওতার মিলন বললেন। এই দুটি শব্দ সে রয়ার কাছে শুনেছে। সঠিক শুনলেও বলতে সে ভুল করেছে। দারোগা মইনুল বললেন, ‘পুলিশ তদন্ত করতে এসে কারও কাছ থেকে কিছু খায় না। বুয়া এবার আরও নাকের কাছাকাছি ধরে বললেন, ‘মাছের রাজা ইলিশ, জামাইর রাজা পুলিশ। খান, এইডা ঘুষ না। দারোগা মইনুল বললেন, ‘আমি ঘুষ খাই না। বুয়া বললেন, ‘কী ঢং! দেখেন না শরীল দিয়া ঘাম ঝরতাছে, ধরেন এইডা। দারোগা মইনুল আবু ইউসুফের দিকে তাকালেন। আবু ইউসুফ বললেন, ‘নিন, কোনো সমস্যা নেই। ‘আপনার সম্মানে নিচ্ছি তাহলে। দারোগা মইনুল সরবতের গ্লাস হাতে নিলে কাজের বুয়া অস্পষ্ট কিছু একটা বলতে বলতে চলে গেলেন। কী বললেন, বোঝা গেল না। দারোগা মইনুল গ্লাসে চুমুক দিয়ে বললেন, ‘এ বাসায় আর কে থাকেন? 

আবু ইউসুফ বললেন,আমি আর আমার ওয়াইফ থাকি। আর কেউ? না, আর কেউ না। কাজের বুয়া কি থাকেন না? জি, থাকেন। তাহলে বলছেন যে কেউ থাকে না! আমি প্রথমে কথাটি বুঝতে পারিনি। চিন্তা করে বলেন, শুধু কাজের বুয়া, নাকি আর কেউ আছেন? জি, শুধু কাজের বুয়া। আচ্ছা, আমাকে একটু বাসাটা ঘুরে দেখতে হবে। জি, প্লিজ দেখুন। পুলিশ অফিসার এক এক করে সব কয়টি রুম দেখলেন। দেখে চলে গেলেন। এর মধ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন চলে আসেন। আবু ইউসুফ সবাইকে যা যা তথ্য দেওয়ার দিলেন। সবাই তথ্য নিয়ে চলে যান। অনেক আত্মীয়স্বজন এসেছিলেন। তাদের প্রায় সবারই একটাই প্রশ্ন, কীভাবে হলো? আবু ইউসুফ বাধ্য হয়ে যেন সবার উত্তর দিলেন।

৩. রয়ার মা রাংতা এখন কিছুটা স্বাভাবিক। চুপচাপ বসে আছেন রাংতার মা ফুলকলির বুকে মাথা রেখে। রাংতার মা ফুলকলি, অর্থাৎ রয়ার নানো দুদিন আগে বেড়াতে এসেছেন এ বাসায়। তিনি মেয়ের চুলে তেল মেখে দিচ্ছেন। এর মধ্যে রাংতা চোখ খুলে তাকান। তাকিয়ে বলেন, ‘রয়ার বাবা কোথায়? ফুলকলি বললেন, আছোইন, হে রুমে। ফুলকলি থাকেন ময়মনসিংহের এক গ্রামে। তিনি স্থানীয় ভাষায় কথা বলেন। রাংতা আবার বললেন, আমার রয়ার কী হলো মা! তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না কেন? রাংতার মা কিছু বললেন না। মাথায় আরও তেল দিতে থাকলেন। আবু ইউসুফ এই রুমে এলেন। এসে দেখলেন তেল মাখার দৃশ্য। তেল মাখার দৃশ্য দেখে কিছু না বলে আবার সামনের রুমে এলেন। এসে সোফায় বসলেন। বসে জোরে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন। সোফায় গা এলিয়ে দিলেন। চোখ বন্ধ করে থাকলেন কিছুক্ষণ। মাথায় নানা রকম ভাবনা এসে হাজির হচ্ছে। একবার ভাবছেন, কেউ কিডন্যাপ করেছে! কেন কিডন্যাপ করবে আমার মেয়েকে! আবার ভাবছেন, পালিয়ে গেছে হয়তো! পরক্ষণে ভাবছেন, মেয়ে আমার পালিয়ে যাবে না। পালিয়ে যাওয়ার মতো হলে একবার হলেও তা বোঝা যেত। রয়ার সঙ্গে তার মা-বাবার সম্পর্ক বন্ধুর মতো। বাবা-মার সঙ্গে সে সবকিছু শেয়ার করে। মনে মনে বললেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না! মাথায় এবার দারোগা সাহেবের কথাটি বারবার দোল খাচ্ছে। এই বয়স ডেঞ্জারাস বয়স! বিষয়টা তাকে বিষিয়ে তুলছে। ইউসুফ সাহেব সোফায় গা-টা আরও এলিয়ে দিলেন। রাত গভীর হচ্ছে। চারদিকে সুনসান। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে শব্দ করে।

টুং… টুং… টুং…

ঘড়ির শব্দে রাত যেন আরও গভীর হচ্ছে! সোফায় বসে চুপ হয়ে আছেন ইউসুফ সাহেব। রাংতা ও তার মা লিভিং রুমে। কাজের বুয়া বসে আছেন রান্নাঘরে।

৪. রাত প্রায় ২টা। আবু ইউসুফের মোবাইলে রিং বেজে ওঠে। ঘুমের তন্দ্রায় ছিলেন আবু ইউসুফ। এক লাফে ঘুম থেকে উঠলেন। রাংতাও চলে এলেন ফোনের কাছে। এলেন কাজের বুয়াও। আবু ইউসুফ ফোনটি ডাইনিং টেবিলের ওপর থেকে নিলেন। নিয়ে রিসিভ করলেন। রিসিভ করে সালাম দিলেন। বললেন, ‘হ্যালো, কে বলছেন, প্লিজ? সবাই তাকিয়ে আছেন, ওপাশ থেকে কী উত্তর আসে শোনার জন্য।কিন্তু কোনো শব্দ এল না ওপাশ থেকে। আবু ইউসুফ বললেন, ‘প্লিজ বলুন, কে বলছেন?’ হঠাৎ জানালায় শব্দ। বাইরে বাতাস বইছে। সঙ্গে বৃষ্টিও। কাজের বুয়া উঠে গেলেন জানালা বন্ধ করার জন্য। ওপাশ থেকে বলল, ‘রয়ার জন্য কি আপনারা চিন্তিত?’ আপনি কী বলছেন এসব? আমরা সন্ধ্যার পর থেকে ওর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না আর আপনি জানতে চাচ্ছেন চিন্তিত কি না? কথা শেষ না করতেই লাইন কেটে যায়। রয়ার মা চিৎকার দিয়ে উঠলেন। বললেন, ‘আমার মেয়েকে ওরাই নিয়েছে। তুমি একটা কিছু করো। চুপ থাকো, আমি ফোন দিচ্ছি। রাংতা চুপ থাকলেন।ফোন দিলে ওপাশ থেকে কেউ রিসিভ করল না। রাংতা আবার চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে!’ এর মধ্যে ওপাশ থেকে ফোন আসে। আবু ইউসুফ ফোন রিসিভ করলেন। বললেন, ‘কে আপনি? পরিচয় দিন। কিছুক্ষণ চুপ ওপাশে। এরপর বলল, ‘আপনারা কি পুলিশের কাছে যাবেন, নাকি মেয়েকে উদ্ধার করবেন? আপনি বলুন, আমাদের এখন কী করা উচিত? টাকা দিয়ে মেয়েকে অক্ষত উদ্ধার করা উচিত। কত টাকা চান, বলুন? জানি আপনার কাছে টাকা কোনো ব্যাপার না। একমাত্র মেয়ের জন্য এক কোটি টাকা কোনো ব্যাপারই না, কী বলেন? এই বলে ফোন কেটে দিল। আবু ইউসুফ রাংতার দিকে তাকালেন। বললেন, ‘ওরা টাকা চায় এক কোটি। এক কোটি টাকা এখন কোথায় পাব? ওদের বলো, আমরা এখন কিছু দেব, বাকিটা পরে দেব। এই কথা কি আর ওরা মানবে! মানবে না। বলতে বলতে আবার ফোন দিলেন। কিন্তু ফোন বন্ধ। কয়েকবার দিলেন। ওপাশ থেকে বলছে, মোবাইল সুইচড অফ।

৫.কলিংবেল বেজে উঠল। কলিংবেলের শব্দ হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে শব্দ না হয়ে ওয়াজ বেজে উঠেছে। ওয়াজ বাজার পেছনে মূল কারণ হলো কাজের বুয়া।

ডিজিটাল কলিংবেল। বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন শব্দ সেট করা। বুয়া এই ওয়াজ সেট করার জন্য অনেকবার বকাও খেয়েছেন। বকা খেলেও তার এ কাজ মাঝে মাঝে করা চায়। বুয়া গিয়ে দ্রুত দরজা খুললেন।

দরজা খোলার পর নিপুণা ঢুকলেন। সঙ্গে একজন মধ্যবয়সী মানুষ। নিপুণার মাথায় একটা হ্যাট। এই হ্যাটটা সঙ্গে থাকা মানুষটির। হ্যাটের জন্য তিনি হ্যাটম্যান নামে পরিচিত।

কাজের বুয়া এক রকম চিৎকার দিয়ে উঠলেন, ‘নিপুণা আপু আইছেন! আপনি কি জানেন, সন্ধ্যা থেকে রয়া আপুকে পাওয়া যাচ্ছে না?’

নিপুণা কাজের বুয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘চুপ বুয়া, চিৎকার করবে না! তুমি দেখো না, আমি কাকে নিয়ে এসেছি!’ বুয়া এ কথা শোনার পর সঙ্গে থাকা মানুষটির দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন।

রুমে ঢুকে নিপুণা তার মাথার হ্যাটটি খুলে হ্যাটম্যানকে দিতে চাইলেন। দেওয়ার আগেই হ্যাটম্যান তা ছোঁ মেরে নিয়ে নিলেন। হ্যাটম্যান তা হাতে নিয়ে এক সেকেন্ডের মধ্যে সেটি টুকরো টুকরো করে ফেলেন। টুকরো করে তা দ্রুত পকেটে নিয়ে নিলেন।

এই টুকরো করা মানে ছেঁড়া নয়। চেইন দিয়ে টুকরাগুলো লাগানো থাকে, যাতে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যায়।

এর মধ্যে আসেন আবু ইউসুফ। বললেন, নিপুণা তুমি? এত রাতে?

নিপুণা হ্যাটম্যানের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ডিটেকটিভ নিয়ে এসেছি। রয়াকে এখনই উদ্ধার করা হবে।’

আবু ইউসুফ হাত বাড়ালেন হ্যান্ডশেক করার জন্য। হ্যাটম্যানও হাত বাড়ালেন। আর তাকিয়ে বললেন, ‘ইউসুফ সাহেব, পাহাড়ে ওঠা নিশ্চয় আপনার একটা শখ?

আবু ইউসুফ একটু অবাক হলেন। পাহাড়ে ওঠা! ব্যাপারটা তিনি কীভাবে জানেন?

বললেন, জি, আমার শখ। কিন্তু আপনি সেটা জানলেন কীভাবে? হ্যাটম্যান মিটমিট হাসলেন। কিছু বললেন না। রান্নাঘরের দিকে তাকালেন। দেখলেন, একটা বিড়াল জানালা দিয়ে প্রবেশ করছে। প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে বুয়া বিড়ালটির গলা চেপে ধরলেন। চেপে ধরলে বিড়ালটি ‘মেও’ করে একটা চিৎকার দিল।

হ্যাটম্যান হ্যান্ডশেক ছেড়ে দিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলেন। আর বললেন, ‘ইউসুফ সাহেব, ফেস আর হাত দুটি অনেক কালো হয়ে গেছে, তা কি খেয়াল করেছেন?’

আবু ইউসুফ উত্তর দেওয়ার আগেই হ্যাটম্যান রান্নাঘরে চলে এলেন। এসেই বুয়ার কাছ থেকে বিড়ালটি কেড়ে নিলেন। আর বললেন, ‘আপনার দুধ নিশ্চয় অনেক দিন বিড়ালটি চুরি করে খেয়েছে, তাই একে সুযোগ পেলেই মারেন!’

বুয়া বললেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন। এটা…।’ এরপর চুপ থাকলেন।

বুয়ার মনে হলো, সত্যটা বলা ঠিক হয়নি। কারণ, সে নিজে রয়ার দুধ চুরি করে আলাদা পটে রাখেন। পরে সুযোগমতো খেয়ে থাকেন। কিন্তু বিড়ালটি এ সুযোগটি নিয়ে থাকে। প্রায়ই বিড়ালটি বুয়ার আলাদা করে রাখা দুধ খেয়ে ফেলে। আর বুয়া সুযোগ পেলে এটিকে একটু একটু করে মারেন।

হ্যাটম্যান খেয়াল করলেন, বৃষ্টিতে বিড়ালটি ভিজে গেছে। পকেট থেকে এক টুকরো কাপড় বের করলেন। কাপড় দিয়ে বিড়ালের শরীরটা মুছে দিলেন।

বিড়ালটি নিয়ে আগের রুমে ফিরে এলেন। এসে আবার বললেন, ‘ইউসুফ সাহেব, আজই বুঝি নেপাল থেকে এসেছেন?’ ইউসুফ সাহেব আশ্চর্য হলেন। আজব, এ লোক এত কিছু কীভাবে জানেন! বললেন, ‘আচ্ছা, আপনার সঙ্গে কি আমার নেপালে দেখা হয়েছিল? না তো, তা হবে কীভাবে? আমি তো নেপাল যাইনি। তা না হলে এত কিছু কীভাবে জানেন?

হ্যাটম্যান উত্তর দেওয়ার আগে উত্তর দিল নিপুণা। বলল, হ্যাটম্যান যা বলেন, রহস্যের মতোই বলেন। আর যা করেন, রহস্যের মতোই করেন। দেখবেন, রয়াকেও সেভাবেই উদ্ধার করে নিয়ে আসবেন।

আবু ইউসুফ নিপুণার সব কথা মানলেও রয়ার উদ্ধারের বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারলেন না। তাই হ্যাটম্যানের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আপনি বলুন তো, রয়াকে কীভাবে উদ্ধার করবেন? আগে বলুন, এই বিড়ালটি কি রয়ার? হুম, রয়ার। এটা তার খুব আদরের।

‘কী রকম আদরের, একটু বিস্তারিত বলবেন?’

‘জি, বলছি তাহলে। বিড়ালটি তার সবকিছুর সাথি। যেমন পড়ার সময়, খেলার সময়, এমনকি ঘুমানোর সময়ও এটি সঙ্গে থাকবে।’

আবু ইউসুফ খেয়াল করলেন, হ্যাটম্যান বিড়ালের পা নেড়ে নেড়ে কী যেন দেখছেন। তার কথা শুনছেন না। তাই বললেন, ‘আপনি কি আমার কথা শুনছেন?’

‘সবই শুনলাম। আপনি একটু সংক্ষেপে বলেছেন। আমি বলছি, এবার শুনুন। বিড়ালটি পড়ার সময় পায়ের কাছে ঘুরঘুর করত, এমনকি পড়ার টেবিলেও লাফ দিয়ে উঠত। পড়ার টেবিলে লাফ দিয়ে উঠত কেন, জানতেন? না, জানতাম না। বিড়ালটি আপনার মেয়ের এতটা আদর পেয়েছে যে, সে আরও কাছে থাকতে চাইত। এবার বাকিটা শুনুন তাহলে। বিড়ালটি সম্ভবত আপনার মেয়ের স্কুলের গাড়িতেও উঠে যেত স্কুলে যাওয়ার সময়, রাইট?

জি, রাইট।

নিপুণা এবার বলল, ‘দেখছেন আঙ্কেল, হ্যাটম্যান সবকিছু বলে দিতে পারেন। এখানে আমার একটা প্রশ্ন, আপনি স্কুলের গাড়িতে বিড়াল উঠে যায়, এটা কীভাবে নিশ্চিত হলেন? বিড়ালের চারটি পা তা বলে দিচ্ছে। বিড়ালের পা?’ আমি তো তা-ই দেখছি। এর মধ্যে এসে দারোগা মইনুল বাসায় প্রবেশ করলেন।

আবু ইউসুফ বললেন, ‘একটা তথ্য দেওয়ার জন্য আপনাকে আমি ফোন করতে চাইছিলাম। রাংতা এগিয়ে এলেন। বললেন, ‘তোমার ব্যস্ততা দেখে আমি ওনাকে ফোনে সবকিছু বলি। তাই উনি এসেছেন। দারোগা সাহেব হ্যাটম্যানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই তো দেখছি, প্রাইভেট ডিটেকটিভ সাহেব! আর বলবেন না, নিপুণার অনুরোধে বাসায় থাকতে পারলাম না। নিপুণা দারোগার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি নিপুণা। হ্যাটম্যান বললেন, ‘দারোগা সাহেব, আমি একটা বিষয়ে একটু হেল্প চাইব। কী হেল্প করতে পারি আপনাকে?’

‘যারা টাকা চেয়ে ফোন দিয়েছিল, আপনি কি তাদের মোবাইল লোকেশনটি পেয়েছেন? হুম, পেয়েছি। হ্যাটম্যান মোবাইলের স্ক্রিনে কল লোকেশনগুলো দেখে নিলেন। হ্যাটম্যান উপস্থিত সবার উদ্দেশে বললেন, ‘আমাকে পাঁচ মিনিট একটু একা থাকতে হবে। পাশের রুমটা নিশ্চয়ই খালি আছে। আমি ওই রুমটায় গেলাম। আবু ইউসুফ বললেন, জি, ও রুমটায় যেতে পারেন। নিপুণা বলল, ‘আমি কি আপনার সঙ্গে আসতে পারি? হ্যাটম্যান নিপুণার দিকে তাকালেন। এক সেকেন্ড চুপ থাকলেন। ভাবলেন একটু। নিজের চিরচেনা বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। আর তা হলো শিশু ও নারীর প্রতি পজিটিভ থাকা। হ্যাটম্যান বললেন, ‘নিপুণা, তুমি আমার সঙ্গে আসতে পার।’

৬.হ্যাটম্যানের প্যান্টে অনেকগুলো পকেট। পকেটে ডিটেকশন করার অনেক জিনিসপত্র থাকে। একটি সাদা কাগজ বের করলেন পকেট থেকে। কাগজটির ভাঁজ খুলে রাখলেন টেবিলের ওপর। বিড়ালটিকে সাদা কাগজের ওপর হাত দিয়ে ধরলেন। ধরে বিড়ালের পা থেকে মাটি নিলেন। মাটির কালার কিছুটা মরিচার মতো, কিছুটা লাল। নিপুণা পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে। দেখতে দেখতে বলল, ‘একটা প্রশ্ন করতে পারি? অবশ্যই করতে পার। মাটির রংটা কি একটু লাল? হুম, লাল। বিড়াল তো বাসায় থাকে, তো এর পায়ের মাটি লাল কেন?

এর কারণ হলো, তুমি নিজে একজন ডিটেকটিভ হতে যাচ্ছ, তাই। রিয়েলি আমি একজন ডিটেকটিভ হব? হুম, কারণ তুমি সন্দেহ করা শিখে গেছ। সন্দেহ! আমি করেছি? হুম, বাসার বিড়ালের পায়ে লাল মাটি কেন, এটাই হলো সন্দেহ করা শেখা। আর ডিটেকটিভের মূল হলো সন্দেহ করতে শেখা। তাহলে বলুন, মাটি লাল কেন? 

হ্যাটম্যান বললেন, এবার বাকিটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ওকে তাহলে। হ্যাটম্যান মাটির নেচার দেখছেন। মাটি শুকনো নয়। নরম মাটি। ভেজা ভেজা। এর কারণ হলো একটু আগে বৃষ্টি হওয়া। রুম থেকে বের হয়ে হ্যাটম্যান ড্রয়িং রুমে এলেন। বললেন, ‘ইউসুফ সাহেব, আর দুই ঘণ্টা সময় নেব।’ দুই ঘণ্টা! নিপুণা ডান হাত তুলে দুই আঙুল দেখিয়ে জবাব দিল। বলল, জি, দুই ঘণ্টা! বিষয়টা এমন যে, তদন্ত করছে যেন নিপুণা, হ্যাটম্যান নয়। হ্যাটম্যান মিটমিট হাসলেন। ইউসুফ বললেন, ‘আমি এ নিয়ে খুবই চিন্তিত।’ হ্যাটম্যান বললেন, চিন্তা করবেন না, হ্যাটম্যান আছে। চিন্তা হ্যাটম্যানের। দারোগা মইনুলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘নিশ্চয়ই টাকা দাবিকারীদের গ্রেপ্তার করার ব্যবস্থা নিচ্ছেন? দেখি কী করা যায়। এখানে আর দেরি না করে হ্যাটম্যান রওনা দিলেন আসল উদ্দেশ্যে। নিপুণা বলল, ‘আমি? হ্যাটম্যান বললেন, ‘ডিটেকটিভ হওয়ার প্রবল আগ্রহের কারণে তুমি আমার সঙ্গে যাবে। নিপুণা হাত তুলে সবার দিকে ভিকটরি চিহ্ন দেখাল।

৭.হ্যাটম্যান বের হয়ে আসলে দারোগা মইনুল বাসার কাজের বুয়া এবং দারোয়ানকে ডাকলেন। ওরা সামনে এলেন। দারোগা মইনুল বললেন, ‘ইউসুফ সাহেব, আমি এই দুজনকে থানায় নিয়ে যেতে চাই। এদেরকে কেন?একটু জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। আপনার কি ধারণা, এরা এই কাজ করেছে? এই কাজ করেছে কি না জানি না। তবে সন্দেহের বাইরে নয়। কাজের বুয়া এবং দারোয়ান দুজনই দারোগার পায়ে এসে পড়েন। দুজনই বললেন, ‘স্যার, আমরা কিচ্ছু জানি না। এ এ এই সব কী করছেন! ওঠেন, ওঠেন, পা ছাড়েন। দুজনই পা ছেড়ে দাঁড়ালেন। দারোগা কাজের বুয়াকে ধমকের সুরে বললেন, ‘তোমার নাম কী, বলো? আমার নাম ম…ম।  কী মম? ম…ম। নাম তো দেখি সুন্দরই। মম…!
ইউসুফ বললেন, ‘ওর নাম মরিয়ম। ও ভয়ে নাম বলতে পারছে না।’
ও, তাই বলেন।
মরিয়মের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এখন দেখি পেট থেকে কথা বের হয় না। তখন তো দেখলাম, খালি পটপট?’স্যার, আমি করি নাই, দারোয়ান করছে। ওর দোষ।’
দারোয়ানের দিকে তাকাতেই দারোয়ান বললেন, ‘স্যার, আমি করি নাই, ও করছে।’ দারোগা মইনুল বুঝতে পারলেন এরা নিজেকে বাঁচানোর জন্য একজন আরেকজনকে দোষ দিচ্ছে। দারোগা মইনুল ইউসুফ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি তাহলে ওদের নিয়ে গেলাম।

মরিয়ম ঝপ করে আবার পায়ে ধরে বসলেন। বললেন, ‘স্যার, আমি তো আপনাকে জুস বানাইয়া খাওয়াছি। আমাকে ছাইড়া দেন।

দারোগা মইনুল হতভম্ব হয়ে পড়লেন। বললেন, ‘এই জন্য আমরা ঘটনাস্থলে কখনো কিছু খাইতে চাই না।

দারোগা তার ফোর্সকে বললেন, এই দুজনকে থানায় নিয়ে যেতে। এর মধ্যে এসিপি সানি এলেন। এসে বললেন, ‘আমরা কিডন্যাপারদের ধরার প্ল্যানটা এখনই করে ফেলি।
দারোগা বললেন, ‘স্যার, টিম ফুল রেডি। আপনার প্ল্যানমতো আমরা অ্যাকশন নেব।

৮. ঘড়ি দেখলেন হ্যাটম্যান। প্রায় তিনটা। বললেন, ‘নিপুণা, তোমার সাহস কেমন? আমার সাহস কখনো পরীক্ষা করার সুযোগ পাইনি। তবে তেলাপোকা আর টিকটিকিতে আমার খুব ভয়। এখানে তেলাপোকা ও টিকটিকি কোনোটাই নেই। সুতরাং ধরে নিতে পারি, এখানে তোমার সাহসের পরীক্ষাটা দেখানোর সুযোগ পাবে।আমাকে কি কাউকে ঘুষি মারতে হবে? শুধু ঘুষি নয়, প্রয়োজনে যা দরকার, তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
ওকে, তা-ই হবে। তারপর হ্যাটম্যানের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দেখেন তো, আমাকে কেমন লাগছে?
একেবারে ভল্লুকের মতো দেখতে। কিডন্যাপাররা কি ভল্লুককে ভয় পায়? ভয় পেলেও পেতে পারে। তবে আমি তোমাকে এই বক্সটি প্রেস করার জন্য বলব। এটা কীভাবে করতে হয়? খুব ইজি। তুমি শুধু এই বাটনটা চেপে ধরবে। আর তখনই দেখবে, ভল্লুকের মতো করে ডাকছে। আর আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে ওরা তোমার দিকে মনোযোগ দেবে। আমরা তখন ওদের পেছন দিক দিয়ে এসে হিট করব। খুবই এক্সাইটেড লাগছে নিজেকে! অবশ্যই তাই। তুমি ডান দিকের পাহাড়টায় পেছন দিক দিয়ে উঠবে। উঠেই বাটনটা টিপবে। আমরা তোমার ভল্লুকের ডাকের জন্য অপেক্ষা করব। ভল্লুকের ডাক পেলেই আমরা অ্যাকশনে যাব। আর শোনো, তোমার ভয় না পাওয়ার জন্য বলছি, আমরা সবাই তোমাকে ফলো করব। সুতরাং, তুমি পাহাড়ে একা আছ, এটা মনে করে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আমার সঙ্গে কেউ না থাকলেও ভয় পাব না আশা করি। সেটা আমি অলরেডি বুঝতে পেরেছি। তোমার আগ্রহের কারণে এখানে সাহস বেড়েছে। ওকে, আমি তাহলে মুভ করলাম। শিওর। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন অনেকক্ষণ ধরে মনের ভেতর আটকে আছে। সেটা আবার কী? পুলিশ তো কিডন্যাপারদের ধরতে গিয়েছে, নাকি? হুম, সঠিক। তো আমরা এখানে? অপারেশনের পর সবকিছু পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। তোমার আর দেরি করা ঠিক হবে না। ওকে, আমি মুভ করলাম।

৯. পাহাড়ে উঠে নিপুণার প্রথমে একটু ভয় করছিল। বাটন টিপতে পারছিল না। পরে ঠিকমতোই বাটন টিপে ধরে। বাটন টেপার সঙ্গে সঙ্গে হ্যাটম্যান দেখতে পেলেন, কিডন্যাপাররা ভল্লুকের ডাক শুনে বের হয়েছে। তারা পরিপূর্ণভাবে এখন ভল্লুকের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে।

হ্যাটম্যান আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে সামনে এগিয়ে গেলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে প্যান্টের পকেট থেকে লোহার স্টিকটা বের করে হাতে নিলেন। পেছন দিক দিয়ে ওদের ঠিক কাছাকাছি এলেন। তখনই দেখলেন, একজন ভল্লুকের দিকে পিস্তল তাক করছে।

হ্যাটম্যান দেখলেন, গুলি করা হলে নিপুণা মারা পড়বে। তাই আর এক মুহূর্তও দেরি করলেন না। হ্যাটম্যান লোহার স্টিক দিয়ে ঠাস করে পিস্তলওয়ালার মাথায় আঘাত করলেন। আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে পিস্তলটি মাটিতে পড়ে যায়। হ্যাটম্যান পিস্তলটি দ্রুত মাটি থেকে তুলে নিলেন।

ওরা তিনজন। অন্য দুজনের হাতে দুটি চাকু ছিল। একজন চাকু ছুড়ে মারল। হ্যাটম্যান সতর্ক ছিলেন, এ রকম কিছু একটা ঘটতেই পারে। তাই চাকু মারার সঙ্গে সঙ্গে মাথাটা বাঁদিকে বাঁকিয়ে নিলেন। আর চাকুটা উড়ে চলে গেল পেছনে।

হ্যাটম্যান বললেন, ‘আর বৃথা চেষ্টা করে লাভ নেই। হ্যান্ডস আপ, একটুও নড়ার চেষ্টা করবে না। ওরা হাত ওপরে তুলল। এর মধ্যে নিপুণা চলে এল। নিপুণার পেছনে এল ডিবি পুলিশের একটা টিম। ডিবি পুলিশ ওদের গ্রেপ্তার করল। হ্যাটম্যান ডিবি পুলিশের প্ল্যানটা এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গেই করেছিলেন। নিপুণা বলল, ‘রয়া কোথায়? হ্যাটম্যান সামনের পাহাড়টি দেখিয়ে বললেন, ‘পাহাড়ের ওই বাঁকটায় তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।’
অপেক্ষা!
ইয়েস, শত্রু খাঁচায় বন্দি হলে ভিকটিম তখন বান্ধবীর জন্যই অপেক্ষা করে। নিপুণা এক লাফে যেন বাঁকটায় চলে এল। এসে দেখল, রয়ার মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ করা আর হাত দুটি পেছনে বাঁধা। দ্রুতই মুখের টেপটা খুলে দিল। রয়া চিৎকার দিয়ে ওঠে, ‘নিপুণা, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে! আর চিন্তা করো না। কিডন্যাপাররা আমাদের হাতে ধরা পড়েছে। ওদের আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই। বলতে বলতে রয়ার হাত দুটি খুলে দিল। রয়া নিপুণাকে জড়িয়ে ধরল। তার চোখ দিয়ে আনন্দাশ্রু পড়ছে। রয়া বলল, ‘নিপুণা, তুমি কীভাবে জানলে ওরা আমাকে এখানে এনেছে? আমি নই। জেনেছে হ্যাটম্যান।’
‘হ্যাটম্যান!’
ইয়েস, ডিটেকটিভ হ্যাটম্যান।’
হ্যাটম্যান এসে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘এই কৃতিত্ব নিপুণারও। রয়া বলল, ‘আর ইউ হ্যাটম্যান? নো, আমি ম্যান, একজন হিউম্যান। এরপর ঘড়ি দেখে বললেন, ‘আমাদের এখনই বাসায় ব্যাক করা উচিত। কারণ দুই ঘণ্টা সময় শেষ হতে আর বেশি বাকি নেই। রয়া বলল, ‘দুই ঘণ্টা! হুম, আমরা তোমার বাবাকে বলেছিলাম, দুই ঘণ্টার মধ্যে তোমাকে হাজির করব। নিপুণা বলল, ‘ও তাই তো! আমি সে কথা ভুলে বসে আছি। সবাই রয়ার বাসার দিকে রওনা দিল।

১০. রয়াদের বাসার ছাদে রয়ার বন্ধুরা এসেছে। এসেছে অমিতা, টগর, আরিসা ও নিপুণা। হ্যাটম্যানকে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অন্য অ্যাসাইনমেন্ট থাকায় আসা হয়নি। নিপুণা রয়া উদ্ধারের পুরো অপারেশনটা হ্যাটম্যানের কাছ থেকে জেনে নিয়েছে। যদিও সে অনেক প্ল্যানের সঙ্গে ছিল। নিপুণা সবাইকে কীভাবে উদ্ধার করা হলো, তা বলল। টগর বলল, ‘হ্যাটম্যান কীভাবে শিওর হলেন যে, রয়াকে কিডন্যাপ করে লালমাই পাহাড়ে রাখা হয়েছে? বৃষ্টি হওয়ায় বিড়ালের পায়ে পাহাড়ের লাল মাটি লেগেছিল। তার মানে বিড়ালটা কি রয়ার সঙ্গে চলে এসেছিল? ঠিক,বিড়ালটা রয়াকে এত পছন্দ করে যে, রয়াকে কিডন্যাপ করার সঙ্গে সঙ্গে এদের গাড়িতে বিড়ালটা লাফিয়ে উঠে পড়ে। অমিতা বলল, ‘তাহলে বিড়াল আবার বাসায় ফেরত এল কেন?তখন খুব বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সঙ্গে তুফানও ছিল। তাই সে পাহাড়ের ওখানে না থাকতে পেরে বাসায় ফিরে আসে।অমিতা আবার বলল, ‘বিড়ালটা তাহলে কীভাবে বাসা চিনল? ও, সেটা একটা রহস্য! আমি হ্যাটম্যানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বললেন, এটা বিড়ালের আশ্চর্য রকম এক ক্ষমতা। বিড়ালকে নাকি বস্তায় ভরে কয়েক মাইল দূরে রেখে এলেও সে আবার বাসায় ফেরত আসে। আরিসা বলল, ‘কিডন্যাপাররা যে টাকা চেয়েছিল? ওরা ছিল ভুয়া কিডন্যাপার। রয়া কিডন্যাপ হয়েছে শুনে ওরা টাকা কামানোর জন্য একটা ফাঁদ পাতে। হ্যাটম্যান মোবাইল লোকেশন নিয়ে দেখেন, ওরা লালমাই পাহাড় থেকে অনেক দূরে বসে টাকা চাচ্ছে। তখন তিনি বিড়ালের পায়ের লাল মাটির সঙ্গে ক্রস করে বের করেন, যারা টাকা চাচ্ছে, এরা আসল নয়। ওরা হয়তো কোনোভাবে জানতে পেরেছে রয়া কিডন্যাপ হয়েছে। আর এই সুযোগেই ওরা টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল।’ অমিতা বলল, ‘হ্যাটম্যানকে একবার দেখতে যেতে হবে। সবাই বলল, ‘চলো তাহলে একদিন যাই। এর মধ্যে রয়ার মা ও বাবা ছাদে আসেন। ছাদে এলে নিপুণার সাহসের বিষয়টি গর্বের সঙ্গে আলোচিত হলো। নিপুণার সাহসের কথা শুনে সবাই ডিটেকটিভ হতে চাইল।

লেখক
উপপুলিশ কমিশনার
ট্র্যাফিক-গুলশান বিভাগ, ডিএমপি

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ