হোমপ্রবন্ধপুলিশের চোখে নগর ও সমাজ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বজনীন দায়বদ্ধতা

পুলিশের চোখে নগর ও সমাজ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বজনীন দায়বদ্ধতা

মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ
,

‘প্রতিটি অধিকারের সঙ্গে রয়েছে দায়িত্ব; প্রতিটি সুযোগের সঙ্গে বাধ্যবাধকতা; প্রতিটি প্রাপ্তির সঙ্গে কর্তব্য’-জন ডি. রকফেলারের এই উক্তির মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, নাগরিকের প্রতিটি অধিকার আবার দায়িত্ব হিসেবেই ফিরে আসে। প্রত্যেকে যদি তাদের নিজ নিজ কর্তব্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবেই কেবল সবার অধিকার সুরক্ষিত হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে এক অদ্ভুত অপচর্চা লক্ষ করা যাচ্ছে-দায়িত্ব এড়িয়ে অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। নিজের ভুল এড়িয়ে অন্যকে দোষারোপ করা এখন যেন নিত্য সামাজিক চিত্রে পরিণত হয়েছে। এই প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় তখনই, যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী নিয়ে আলোচনা হয়। পান থেকে চুন খসলেই দেশের আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে পুলিশকে দায়ী করার এক ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়েছে সমাজে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতটাই সরল? 

অপরাধ সংঘটনের নেপথ্যে

 অপরাধবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, অপরাধ কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি উপাদান, কারণ বা সীমাবদ্ধতা থেকে জন্ম নেয় না। বরং এটি জন্ম নেয় সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ব্যর্থতা থেকে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, কাঠামোগত দুর্বলতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অকার্যকারিতা-ব মিলেই অপরাধের বীজ বপন হয়। সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট কে. মার্টনের স্ট্রেইন থিওরি আমাদের এটাই অনুধাবন করতে শেখায় যে, যখন সমাজ সম্পদ ও সাফল্যের লক্ষ্য নির্ধারণ করে, অথচ সবার জন্য বৈধ উপায় উন্মুক্ত রাখে না, তখন বঞ্চিত মানুষগুলো হতাশ হয়ে পড়ে। এই হতাশাই অনেককে অবৈধ বা অপরাধমূলক পথে ঠেলে দেয়।

ট্রাভিস হির্শির সামাজিক নিয়ন্ত্রণ তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ যখন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংগঠনের মতো কাঠামোর সঙ্গে বন্ধন হারাতে শুরু করে, তখন তার ভেতরে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বাড়ে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যক্তি ধীরে ধীরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

এর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাও অপরাধ বৃদ্ধির বড় একটি কারণ। যদি অপরাধ করে সহজে পার পাওয়া যায় অথবা দীর্ঘসূত্রতার কারণে শাস্তি এড়ানো সম্ভব হয়, তবে তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। অর্থাৎ কেবল পুলিশের সীমাবদ্ধতার কারণেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা অপরাধ বাড়ছে, তা নয়। বরং সামগ্রিক সামাজিক কাঠামোর বিভিন্ন ফাঁকফোকরও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

কিন্তু সমাজে, বিশেষত গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, শুধু পুলিশের অক্ষমতাকেই বড় করে দেখা হয়; পেছনের গভীর কারণগুলোকে আড়াল করে দেওয়া হয়। চাঁদাবাজি, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই-এসব অপরাধ আমরা প্রতিদিন দেখি। কিন্তু এর সমাধান কি কেবল পুলিশের কঠোর হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? কখনো কি আমরা ভেবে দেখি, একজন পুলিশ এই বাস্তবতাকে কীভাবে মোকাবিলা করছে?

রয়েছে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ

সমাজে আইন হাতে নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় মানুষকে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাতে বাধ্য করছে। অনেকে আবার অধৈর্যবশত দ্রুত ফলাফল চায়। এই পরিস্থিতিতে মব জাস্টিসের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে চলেছে। শুধু ২০২৪ সালে মব সহিংসতায় ১৪৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, এমন আস্থাহীনতা ও সহিংসতার মোকাবিলা কি কেবল পুলিশের বলপ্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব? উত্তর স্পষ্ট-না। এজন্য প্রয়োজন সমাজের সর্বস্তরের সচেতনতা, ন্যায়বিচারে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং মানুষের মধ্যে আস্থা পুনঃস্থাপন।

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী নিজেদের সংস্কারের এক নতুন পথে এগিয়ে চলেছে। ‘জনতার পুলিশ’ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক, উপানুষ্ঠানিক ও দীর্ঘদিনের প্রথাগত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার নিরন্তর চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য একটাই-জনতার বিপক্ষে নয়, বরং জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা।

তবে চ্যালেঞ্জের মাত্রা কতটা কঠিন, তা একটি তথ্য থেকেই স্পষ্ট হয়-দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্বের অধীনে গড়ে প্রায় ৮১৬ জন নাগরিক থাকেন। এটি প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনুপাত প্রায় ১:৬৫০, অর্থাৎ পুলিশ সদস্যপ্রতি ৬৫০ জনের দায়িত্ব থেকে অনেক বেশি। উন্নত দেশগুলোয় সাধারণত এই অনুপাত প্রতি লাখে ৩০০-৪০০ জন পুলিশ, অর্থাৎ ১:২৫০-১:৩৩৩ অনুপাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

বাংলাদেশের এই বিশাল জনসংখ্যার চাপ পুলিশের কাজকে শুধু কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণই করে তোলে না, বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আরও জটিল করে তোলে। সীমিত জনবল দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রকৃত অর্থেই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও বাংলাদেশ পুলিশ এখনো অনেক পিছিয়ে। 

স্যার রবার্ট পিল
(১৭৮৮-১৮৫০)

স্যার রবার্ট পিলের আধুনিক পুলিশিংয়ের নয়টি মূলনীতি

১. পুলিশের মূল উদ্দেশ্য দমন-পীড়ন নয়; বরং অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।
২. জনগণের সম্মতিতেই পুলিশ তাদের ক্ষমতার ব্যবহার করবে।
৩. জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশ কখনো সফল হবে না।
৪. জনসাধারণের আস্থা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব অর্জনের জন্য পুলিশকেই এগিয়ে আসতে হবে।
৫. নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পুলিশ জনসাধারণের আস্থা অর্জন করবে।
৬. দায়িত্ব বা লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. পুলিশ সব সময় জনগণের বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।
৮. পুলিশের কার্যকারিতা পরিমাপ করা হবে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা হ্রাসের মাধ্যমে; গ্রেপ্তার বা বলপ্রয়োগের সংখ্যা দিয়ে নয়।
৯. পুলিশ সব সময় জনসেবায় নিয়োজিত থাকবে এবং তাদের দক্ষতা জনগণের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল হবেযদিও সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে, তবে উন্নত বিশ্বের পুলিশ বাহিনীর হাতে যে পরিমাণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সিস্টেম রয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ সেই পর্যায়ে এখনো পৌঁছতে পারেনি।

বর্তমানে বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করে সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই পরিকল্পনাকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি স্বয়ংক্রিয় পুলিশিংয়ের দিকেও বিশ্ব দ্রুত এগোচ্ছে। তবে আমরা এখনো ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ করে এগোচ্ছি, যা আধুনিক অপরাধ দমনে আমাদের সক্ষমতাকে সীমিত করে।

এর পাশাপাশি পুলিশি খাতে অপর্যাপ্ত বরাদ্দও একটি বড় সমস্যা। পুলিশের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, জীবনযাত্রার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তুলনামূলকভাবে খুবই নিম্নমানের ও অপ্রতুল। এই সীমিত সংস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পুলিশিং নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। পুলিশের আর্থিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা তাদের কর্মদক্ষতা ও আধুনিকায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সর্বজনীন দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণেই সমাধান

এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, পুলিশের একার পক্ষে কি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পাশাপাশি সমাজ ও জনগণের মানসিকতা, আচরণবিধি ও দায়িত্ববোধের ভূমিকাও কম নয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সাধারণত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণকে প্রায় উপেক্ষা করা হয়। এভাবেই সমস্যা তৈরি হয়।

আইন মেনে চলা এক ধরনের অভ্যাস ও দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অংশ। আমরা প্রায়ই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার মানুষের আইনশৃঙ্খলার অনুশীলনের কথা শুনি। তাদের আইন মানার অভ্যাস আমাদের দেশে কতটুকু রয়েছে, তা ভেবে দেখার বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বল যায়, রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় নাগরিকদের রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং রয়েছে। যদি সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে এগুলো ব্যবহার করত, ট্রাফিক সিগন্যাল মানত এবং যত্রতত্র পার্কিং না করত, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকাংশে কমে যেত।

কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখি? আমরা আমাদের মর্জিমাফিক রাস্তায় চলাচল করি, আইনকানুনের তোয়াক্কা করি না। ফুটপাত অনেক সময় হকারদের দখলে চলে যায়। ফলে মানুষ প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে রাস্তায় চলাচল করে, হাত উঁচু করে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হয়। এই অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ যদি জরিমানা করে, তখন উল্টো তাকেই রোষানলে পড়তে হয়।

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে-ট্রাফিক পুলিশ কোথায় ছিল? রেললাইনের ক্রসিংয়ে সিগন্যাল মানলেও অনেক পথচারী বা বাইকচালক তা অমান্য করে। দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হলে দায়ভার কার-রেলওয়ে পুলিশের, নাকি দায়িত্বে অবহেলা করা জনগণের? এই বাস্তবতায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা ও নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। একই সঙ্গে পুলিশের আইন প্রয়োগকেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

সময়ের সঙ্গে মানুষের দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের চ্যালেঞ্জও পুলিশের ওপর চাপ বৃদ্ধি করে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা প্রায়ই দুই পক্ষের চাপের মুখোমুখি হন-এক পক্ষ চায় আইন অমান্য না হোক, অন্য পক্ষ চায় তাদের দাবি পূরণ হোক। এ পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতি অনৈতিক সমালোচনা ও বৈষম্যের প্রদর্শন ঘটে।

উন্নয়নশীল দেশের পুলিশকর্মীরা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের এক জটিল জালে বন্দি হয়ে কাজ করেন। কাগজে-কলমে ১২ ঘণ্টার ডিউটি থাকলেও তাঁরা এর চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ নাগরিক যেখানে নয়টা-পাঁচটার অফিস করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, সেখানে পুলিশ সদস্যরা মানসিক চাপ ও পারিবারিক সময় বিসর্জন দিয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে জটিলতা এবং তথ্য সংগ্রহে সময়সাপেক্ষতা-সব মিলিয়ে তাঁদের কাজ আরও কঠিন। অনেক সময় মানুষ সাহায্যের বদলে ভিডিও বা ছবি ধারণ করতে গিয়ে অনেকেই পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এই বাস্তবতায় সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ে নাগরিকদের যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপও অনেক সময় পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ে, আর দোষ পড়ে পুলিশের কাঁধে। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়।

জনগণকেও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধ বিচ্ছিন্নভাবে সংঘটিত হয় না; বরং একটি জটিল চক্রের মধ্য দিয়ে ঘটে। সমাজের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল এতে যুক্ত থাকে। রাজনৈতিক মদদে পুলিশের হাত বেঁধে ফেলার নজিরও ব্যাপক। অর্থাৎ পুলিশ সব সময় চাইলেই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পারে না। এজন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি প্রয়োজন সামষ্টিক প্রচেষ্টা, যেখানে সকল অংশীজন অংশগ্রহণ করবে।

একটি আধুনিক ও কার্যকর পুলিশ ব্যবস্থার জন্য মডার্ন পুলিশিংয়ের জনক স্যার রবার্ট পিলের নয়টি মূলনীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি মূলনীতিটি হলো-রাষ্ট্রে বিদ্যমান অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা। অর্থাৎ পুলিশ প্রথমে জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং সহযোগিতা ও বোঝানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবে। অন্য সব উপায় ব্যর্থ হলে কেবল তখনই বলপ্রয়োগের আশ্রয় নেবে।

এই নীতি অনুসরণ করলে পুলিশি ব্যবস্থা আরও কার্যকর, গণমুখী ও জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। ফলস্বরূপ জনগণ পুলিশকে তাদের বন্ধু ও রক্ষক হিসেবে দেখবে, যা একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

লেখক
অতিরিক্ত ডিআইজি
অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স
ঢাকা রেঞ্জ

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ