১৯৯০ সালের ইতালি ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা তথা আর্জেন্টিনার ফুটবলশৈলী ও ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখেই আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রেমে পড়েছিলাম। সেই ছোট্ট বয়সেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জীবনে কখনো সুযোগ পেলে আর্জেন্টিনার মাটি ও মানুষের সান্নিধ্যে হারিয়ে যাব, আর্জেন্টিনার প্রকৃতি ও সৌন্দর্য নিজের চোখে অবলোকন করব।
২০২২ সালের কাতার ফুটবল বিশ্বকাপে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ফ্রান্সকে পরাজিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আর্জেন্টিনার এই বিশ্বজয়ের মধ্য দিয়ে বুকের ভেতর লালিত সেই স্বপ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশি আর্জেন্টিনা ফুটবল সমর্থকদের আর্জেন্টিনা-প্রীতি গণমাধ্যমের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-ভক্তদের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হতে থাকে। ফলে আর্জেন্টিনার সরকার ও জনগণও খুব সহজেই বাংলাদেশের মানুষের আর্জেন্টিনা-ভালোবাসার কথা জানতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের পর ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনা বাংলাদেশে তাদের দূতাবাস চালু করে এবং বাংলাদেশিদের জন্য অফিসিয়াল ভিসা, ট্যুরিস্ট ভিসা ও ওয়ার্কিং ভিসার সুযোগ উন্মুক্ত করে।
আমি ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য মনোনীত হয়ে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির রাজধানী বামাকো গমন করি। এর মধ্য দিয়ে আমার আর্জেন্টিনা ভ্রমণের পথ সুদৃঢ় হয়। আমি ও আমার ব্যাচমেট আবু খায়ের ভাই মিলে পরবর্তী ২১ দিনের ছুটিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও চিলি ভ্রমণের পরিকল্পনা করি।
২০২৪ সালের ১৩ জুন মালির রাজধানী বামাকো থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে করে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা হয়ে পরদিন ১৪ জুন ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে পৌঁছাই। দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ শেষে সাও পাওলোতে পৌঁছাতে আমাদের প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়।
ইচ্ছা ছিল, ওই দিন রাতের বাসে সাও পাওলো থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেব। তাই প্লেন থেকে নেমে সাও পাওলো বিমানবন্দর থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি সাও পাওলো আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালের উদ্দেশে যাত্রা করি। আগে থেকে বাসের টিকিট কাটা না থাকায় ওই রাতে কোনো বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারিনি। অগত্যা বাস টার্মিনালের পাশের একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি।
পরদিন ১৫ জুন বেলা ৩টার পর আমরা ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল থেকে পুলম্যান দ্বিতল বাসযোগে ব্রাজিলের সীমান্তবর্তী এলাকা ফোজ দো ইগুয়াসুর উদ্দেশে রওনা দিই। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পরদিন ১৬ জুন বেলা ৭টার দিকে আমরা ফোজ দো ইগুয়াসু বাস টার্মিনালে পৌঁছাই। হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাশতা করি। এরপর স্থলপথে ল্যান্ডপোর্ট পার হয়ে আর্জেন্টিনা যাওয়ার বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকি। বেলা ৯টার পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই আর্জেন্টিনার স্থলবন্দর পর্যন্ত যাওয়ার জন্য আমরা একটি বাস পেয়ে গেলাম।
স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম শেষ করে যখন আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রাখলাম, সে এক অন্য রকম অনুভূতি। আকাশি-নীল রঙে রাঙানো আর্জেন্টিনার ট্যুরিস্ট বাস আমাদের নিয়ে ঘন ও গভীর অরণ্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা করল। এবারের গন্তব্য আর্জেন্টিনার বিশ্ববিখ্যাত ইগুয়াজু ন্যাশনাল পার্ক। এই পার্কের ভেতরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলজুড়ে বিস্তৃত বিখ্যাত ইগুয়াজু জলপ্রপাত।
৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই আমরা ইগুয়াজু ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে গেলাম। গাড়ি থেকে নেমেই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, তাপমাত্রা প্রায় ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাতের কাছে গরম কাপড় যা ছিল, তা সঙ্গে নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম। পাসপোর্ট, মানিব্যাগ ও মোবাইলের জন্য আলাদা পলিথিন ব্যাগের ব্যবস্থা করলাম। সঙ্গে থাকা ছোট লাগেজটিও সঙ্গে রাখার সাহস করলাম না, কারণ বৃষ্টি মাথায় নিয়েই আমাদের সারা দিন ঘুরতে হবে।
ইগুয়াজু ন্যাশনাল পার্ক সম্পূর্ণ ঘুরে দেখতে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় দিতে পারব না। তাই দ্রুত বুকিং কাউন্টারে গিয়ে আগে লাগেজ জমা দিয়ে এলাম। পার্কের প্রবেশপথে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। আমরাও অন্য পর্যটকদের সঙ্গে পার্কে প্রবেশের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালাম।
সব দেশের পর্যটনকেন্দ্রের মতো এখানেও আর্জেন্টিনার নাগরিকদের জন্য আলাদা প্রবেশ ফি নির্ধারিত, যা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু বিদেশি পর্যটকদের জন্য পার্কের প্রবেশ ফি অনেক বেশি। আমরা জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ ডলারের বিনিময়ে পার্কে প্রবেশের টিকিট কাটলাম, স্থানীয় আর্জেন্টাইন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার পেসো।
পার্কে প্রবেশের পর থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ও কথা হতে থাকে। সকলে মিলে দল বেঁধে পার্কের ভেতরে ঘুরতে শুরু করলাম। প্রতিটি রাস্তায় সাংকেতিক চিহ্ন দিয়ে পর্যটন স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। শুরুতেই অত্যন্ত চমৎকার একটি জাদুঘরের দেখা মিলল। জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করে আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, উদ্ভিদসহ স্থানীয় দুর্লভ প্রজাতির বেশ কিছু দর্শনীয় বস্তু সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। ইচ্ছেমতো ঘুরে, ছবি তুলে মনটাকে প্রশান্ত করলাম।
এরপর বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের দেখা মিলল, যা মূলত পর্যটকদের খাবার ও সাময়িক বিশ্রামের জন্য ব্যবহৃত হয়। পর্যটকদের বনের ভেতর দিয়ে চলাচলের সুবিধার জন্য পার্কজুড়ে দৃষ্টিনন্দন কাঠের ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। এসব ব্রিজের ওপর দিয়ে পর্যটকরা পার্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত হেঁটে বেড়াতে পারেন।
পর্যটকদের চলাচলের জন্য পার্কের ভেতরে অভ্যন্তরীণ ট্রেনের ব্যবস্থাও রয়েছে। ইচ্ছা করলে যে কেউ সেই ট্রেনে চড়ে পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচু পাহাড়-টিলা আর ঘন সবুজ অরণ্যের ভেতর দিয়ে ট্রেন আমাদের নিয়ে গেল পার্কের মাঝামাঝি একটি জায়গায়। সেখান থেকে পর্যটকরা হেঁটে পার্কের বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পাখি ও ছোট ছোট বন্যপ্রাণীর সৌন্দর্য অবলোকন করেন।
ইগুয়াজু ন্যাশনাল পার্ক দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও সংরক্ষিত এলাকা। এটি আর্জেন্টিনার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। বিখ্যাত ইগুয়াজু জলপ্রপাতের সবচেয়ে বড় অংশ এই পার্কের মধ্যেই রয়েছে। পার্কটির অবস্থান আর্জেন্টিনার মিসিওনেস প্রদেশে এবং এর আয়তন প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর।
১৯৩৪ সালে আর্জেন্টিনা সরকার এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় দুই হাজারের বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি, চার শতাধিক পাখির প্রজাতি, জাগুয়ার, ট্যাপির, বানরসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী এবং অসংখ্য প্রজাপতি ও ছোট ছোট প্রাণী। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো ১৯৮৪ সালে পার্কটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ।
ঘণ্টা দুয়েক পার্কের সর্পিল পথে হাঁটাহাঁটি করার পর আমাদের প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগল। তাই পার্কের ভেতরেই স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার সেরে নিলাম। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হয়। কারণ আর্জেন্টিনার অধিকাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস নেই, আর বাকিরা অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। তাদের খাবারের অনেক মেনুতেই শূকরের চর্বি বা শূকরজাত উপাদান থাকতে পারে।
এ ছাড়া এসব দেশের পর্যটনকেন্দ্রে অনেক সময় পানির চেয়ে বিয়ারের দাম কম থাকে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা দুপুরের খাবার বেছে নিলাম। খুব সম্ভবত ভেজিটেবল বার্গার নিয়েছিলাম, সঙ্গে সফট ড্রিংকস হিসেবে কোকাকোলা।
দুপুরের খাবার শেষ করে আমরা দ্রুত রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে এলাম। এবারের গন্তব্য পার্কটির সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান, ইগুয়াজু জলপ্রপাত। তীব্র শীতের কারণে আমাদের শরীরের অবস্থা এমনিতেই বেশ নাজুক ছিল। তার ওপর রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়েই আবার বৃষ্টির মুখোমুখি হলাম। বেলা থেকেই ইগুয়াজু ন্যাশনাল পার্কে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। আমরা সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ইগুয়াজু জলপ্রপাতের দিকে পা বাড়াতেই বৃষ্টি তার গতি আরও বাড়িয়ে দিল। তীব্র শীতের সঙ্গে বৃষ্টির অপূর্ব সমন্বয়। আমরা গরমের দেশের মানুষ, ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় দুজনই কাঁপছিলাম। বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে একটি দোকানে ঢুকে গেলাম। সেখান থেকে ছাতা কেনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম। শেষ পর্যন্ত পাতলা পলিথিনের দুটি রেইনকোট কিনলাম, সেটাও ছাতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে। পলিথিনের রেইনকোটের দাম দিয়ে আমাদের দেশে অনায়াসেই ৮ থেকে ১০টি সৌখিন ছাতা কেনা যেত।
সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তীব্র শীত ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই পাতলা পলিথিন গায়ে জড়িয়ে জলপ্রপাত দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। অন্য পর্যটকেরা বলাবলি করছিলেন, ইগুয়াজু জলপ্রপাত দেখার জন্য নাকি এটাই সবচেয়ে ভালো পরিবেশ। অন্য সব পর্যটকের সঙ্গে আমরাও কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত পায়ে সামনে এগোতে থাকলাম।
ঘন সবুজ অরণ্যের ভেতর দিয়ে কাঠের ব্রিজ ধরে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই বিখ্যাত জলপ্রপাত, ইগুয়াজু ফলস। যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন প্রাণভরে এর অপরূপ রূপ অবলোকন করতে। উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে শত শত ঝরনাধারা তীব্র গর্জনে নিচে পতিত হয়ে এক অপূর্ব সুরের মূর্ছনা তৈরি করে। সেই সুরের আকর্ষণেই সারা বিশ্বের অসংখ্য পর্যটক পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ আর্জেন্টিনায়।
ইগুয়াজু ফলস পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর জলপ্রপাত, যা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সীমান্তে অবস্থিত। এটি ইগুয়াজু নদীর ওপর অবস্থিত এবং প্রায় ২৭৫টি ছোট-বড় জলপ্রপাতের সমন্বয়ে তৈরি এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ইগুয়াজু ফলস শুধু একটি জলপ্রপাত নয়, বরং প্রকৃতির শক্তি, সৌন্দর্য ও বিস্ময়ের এক অসাধারণ মিলনস্থল।
নিজের সমস্ত ইচ্ছাশক্তি একত্র করে সেদিনের মতো ইগুয়াজু জলপ্রপাত দেখে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু আজও নিশীথে কান পাতলে যেন সেই ইগুয়াজু জলপ্রপাতের গর্জন শুনতে পাই। আজও বিস্ময়ে চেয়ে থাকি,মনের জানালায় এখনো উঁকি মারে উঁচু পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে পড়া সেই বিশাল জলরাশির অপরূপ সৌন্দর্য। প্রকৃতির সেই বিশালত্বের সামনে দাঁড়িয়ে সেদিন নিজেকে কত ছোট মনে হয়েছিল। তবু মনে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি। পানির ধারা যখন আকাশ ছুঁয়ে নিচে নেমে আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল, যেন পৃথিবীর সব ক্লান্তি ধুয়ে যাচ্ছে।
সেই ভেজা কুয়াশার স্পর্শ, বাতাসে মিশে থাকা ঠান্ডা স্রোত আর দূর থেকে ভেসে আসা গর্জন, সবকিছু মিলে যেন এক স্বপ্নের হাতছানি। এখনো চোখ বন্ধ করলেই মনে হয়, জলপ্রপাতের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, সেই সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি।
যখনই মনে পড়ে, বুকের ভেতর হালকা এক শূন্যতা অনুভব করি। মনে হয়, আবার যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই মুহূর্তগুলোতে! ইগুয়াজু ফলস শুধু একটি পর্যটন স্পট নয়, এটি এক অনুভূতির নাম, যা একবার হৃদয় ছুঁয়ে গেলে সহজে ভোলার নয়।
লেখক
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)
মাদারীপুর জেলা

