শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬
30 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমখবরাখবরঅভিযানের খবরকলাবাগানে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে পলায়ন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে...

কলাবাগানে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে পলায়ন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বামী গ্রেফতার

ডিটেকটিভ ডেস্ক
,

রাজধানীর কলাবাগানে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কলাবাগান থানা।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. নজরুল ইসলাম (৫৯)। তাকে ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক নয়টা দশ মিনিটে বংশাল থানাধীন নবাবপুর রোড এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

কলাবাগান থানা সূত্রে জানা যায়, ১২ অক্টোবর রাত এগারোটার দিকে নজরুল ইসলাম কলাবাগান থানাধীন প্রথম লেনে অবস্থিত ২৪ নম্বর বাসার ভাড়াকৃত ৬(বি) ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (৪২)-এর প্রতি অবৈধ সম্পর্ক ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার সন্দেহ থেকে তার মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠে। রাত আনুমানিক বারোটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।

হত্যার পর নজরুল ইসলাম লাশটি গামছা দিয়ে বেঁধে বিছানার চাদর ও ওড়না দিয়ে মুড়িয়ে বাসার ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন। এরপর রক্তমাখা তোষক উল্টে রাখা, মেঝে পরিষ্কার করা এবং নিজের কাপড় ধুয়ে আলামত গোপনের চেষ্টা করেন।

পরদিন সকালে নজরুল ইসলাম তার বড় মেয়ে নাজনীন আক্তারকে জানান, তাদের মা অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। তবে নাজনীন আক্তার ঘরের দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। এরপর নজরুল

ইসলাম দুই মেয়েকে নানার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আদাবরে তাদের ফুফুর বাসায় রেখে নিজ প্রাইভেটকারে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে সন্দেহ হলে ভিকটিমের ছোট ভাই নাঈম হোসেন ও ভিকটিমের দুই মেয়ে ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টা ত্রিশ মিনিটে কলাবাগান থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি টিম ভিকটিমের ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে ডিপ ফ্রিজ খুলে ভেতরে চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় তাসলিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর রাতে নাঈম হোসেন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা রুজুর পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় কলাবাগান থানা পুলিশ নজরুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ১৪ অক্টোবর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক এগারোটা ত্রিশ মিনিটে নিজ বাসার ওয়্যারড্রোব থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও তাসলিমা আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ এবং সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা থেকেই তিনি স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এই চরম সন্দেহ ও নিয়ন্ত্রণমূলক মানসিকতা থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ