বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২৬
29 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধএমআরটি পুলিশঃআধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তায় জাগ্রত প্রহরী

এমআরটি পুলিশঃআধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তায় জাগ্রত প্রহরী

 সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান
,

দেশের জনসাধারণের জীবনের নিরাপত্তায় আত্মনিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশ। জনগণের দৈনন্দিন চলাফেরা সুরক্ষিত করতেও তৎপর এই বাহিনী। আর আধুনিক নগরে মানুষের যাতায়াতকে গতিশীল করতে এক যুগান্তকারী গণপরিবহন ব্যবস্থা হলো মেট্রোরেল। খুব বেশিদিন হয়নি ঢাকাবাসী মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে। তবে এটুকু সময়ের মধ্যেই এই গণপরিবহন ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে নতুন নতুন সব চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ যে আসবে না, তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। আর এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ, সেটি হলো নিরাপত্তা বজায় রাখা। এই কষ্টসাধ্য কাজটিই যথাযথ দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে নতুন এক বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট—এমআরটি পুলিশ।

মেট্রোরেল হিসেবে পরিচিত হলেও এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নাম মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। মোট ছয়টি লাইন নিয়ে গড়ে উঠবে ঢাকার মেট্রোরেল ব্যবস্থা। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বর্তমানে যে মেট্রোরেল সেবা চালু রয়েছে (কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ চলমান), সেটি এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের অধীন। ২০১৯ সালে গৃহীত এক সিদ্ধান্তের আলোকে ২০২৩ সালের ২১ মে তৎকালীন সরকার ২৩১টি পদের অনুমোদন দিয়ে বিশেষায়িত এমআরটি পুলিশ ইউনিট গঠন করে। অবশ্য এই ইউনিটের নিজস্ব জনবল এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছেনি। অন্যান্য ইউনিট থেকে প্রেষিত সদস্যদের সমন্বয়ে এমআরটি পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই ইউনিট প্রতিদিন ট্রেন, স্টেশন, প্লাটফর্ম, প্রবেশ ও বহির্গমন গেট, কনকোর্স এলাকা, নারীদের জন্য সংরক্ষিত বগিসহ সমগ্র পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে।

এমআরটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্টেশনে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ। ইউনিটটি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানে সবসময় প্রস্তুত। দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম এমআরটি পুলিশকে একটি কার্যকর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।

প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার সমন্বয়
মেট্রোরেলের মতো একটি আধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, বরং একটি পরিপূর্ণ সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। আর এই সমন্বয় থাকতে হবে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উভয় প্রেক্ষাপটেই। মেট্রোরেল প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ও বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেট্রোরেল প্রকল্পের নিরাপত্তায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রালাইজড কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রিয়েলটাইম ট্র্যাকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার এই সমন্বয় মেট্রোরেলকে করেছে আরও অধিক নির্ভরযোগ্য ও যাত্রীবান্ধব।

মেট্রোরেল একটি কেপিআই
মেট্রোরেল প্রকল্পকে সরকার ১(ক) শ্রেণির কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর অর্থ হলো, এই অবকাঠামোটি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও সংবেদনশীল স্থাপনার অন্তর্গত। মেট্রোরেলের কৌশলগত গুরুত্ব, দৈনন্দিন বিপুল যাত্রী চাপ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করেন, যা একে একটি অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে মেট্রোরেল এখন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং একটি কৌশলগত জাতীয় সম্পদ, যার প্রতিটি কার্যক্রম, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উপাদান রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচিত। এর ফলে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এখন একটি জাতীয় নিরাপত্তা কর্তব্যে পরিণত হয়েছে।

যেকোনো ধরনের নাশকতা, সাইবার আক্রমণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা অগ্নিকাণ্ড একদিকে যেমন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলতে পারে, তেমনি এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গত বছর মেট্রোরেল স্টেশনে আগুন লাগা, গেট সিস্টেমে বিভ্রাট কিংবা বৈদ্যুতিক লাইনে ঘুড়ি আটকে পড়ার ঘটনা ভবিষ্যতের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এমআরটি পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। প্রতিটি স্টেশন ও রেললাইনকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত উদ্যোগসমূহ

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে স্থাপনা নিরাপত্তা এবং সার্ভার নিরাপত্তা। জাপানের মেট্রো ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত, যেখানে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ব্যবহার করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি যাত্রীদের রেলপথে অননুমোদিত প্রবেশও রোধ করা হয়। স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী এবং উন্নতমানের ক্যামেরা দ্বারা প্রতিটি স্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ভিডিও নজরদারি ও ফেসিয়াল রিকগনিশনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। চীনে বিমানবন্দরের মতো এক্স-রে স্ক্যানার ও মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে যাত্রীদের ব্যাগ পরীক্ষা করা হয়, যা সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাশাপাশি, সার্ভার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে লন্ডনের টিউবের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় ফায়ারওয়াল, ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম এবং নিয়মিত সাইবার অডিট করা হয়। কানাডার মেট্রো সিস্টেমে ডেটা এনক্রিপশন ও মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। এই সকল উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনী এবং সুনির্দিষ্ট জরুরি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে মেট্রোরেল ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা হয়, যা যাত্রীদের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুরক্ষিত যাত্রার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

এমআরটি পুলিশ: টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থার প্রহরী

মেট্রোরেল হলো আমাদের আধুনিক নগরজীবনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। ঠিক এই আধুনিকতার ছোঁয়ায় শুরু থেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল অতি জরুরি। সেই কারণেই ২০২৩ সালের ২৪ মে সরকার মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মেট্রোরেল পুলিশ ব্যবস্থা গঠনের অনুমোদন দেয়। এরপর থেকে পুলিশের একজন উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) নেতৃত্বে মোট ২৩১ জন সদস্য নিয়ে মেট্রোরেল ট্রানজিট পুলিশ চালু হয়েছে।

এই মেট্রোরেল পুলিশের অফিসিয়াল ঠিকানা হলো উত্তরার দিয়াবাড়িতে, যা মেট্রোরেলের ডিপো সংলগ্ন। তবে বর্তমানে তাদের কার্যক্রম পুলিশ সদর দপ্তর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে মেট্রোরেলের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১ জন ডিআইজি, ১ জন পুলিশ সুপার, ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৮ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৬ জন উপপরিদর্শক (এসআই), ৪১ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ৫ জন নায়েক, ১৬৩ জন কনস্টেবল, ২ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ১ জন উচ্চমান সহকারী, ১ জন হিসাবরক্ষক এবং ১ জন কম্পিউটার অপারেটর। নিরাপত্তা বাহিনীর সুব্যবস্থার জন্য রয়েছে ১০টি মোটরসাইকেল, ৪টি পিকআপ ভ্যান এবং ১টি জিপ।

যদিও মেট্রোরেল পুলিশের সদস্য সংখ্যা ২০০ জন বাড়ানো হয়েছে, সেটা নিয়েও নিরাপত্তার চাহিদা পূরণে অনেকটা কমই পড়ছে। প্রতিটি মেট্রোরেল স্টেশনে বর্তমানে একজন এএসআই অথবা এসআই-এর নেতৃত্বে তিনজন পুলিশ কনস্টেবল কাজ করছে এবং একজন পরিদর্শক চারটি স্টেশন তদারকি করছেন। কারণ, স্টেশনগুলোতে যাত্রী চলাচলের জন্য রয়েছে সিঁড়ি এবং প্লাটফর্ম, যেগুলো মেট্রোরেলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। আগারগাঁও থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল পুরোপুরি চালু হলে নিরাপত্তার চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এমআরটি পুলিশ শুধু নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এছাড়া অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম জনবল অপরিহার্য। ডিজেল জেনারেটর, হাইড্রোলিক পাম্প হাউস, সিগন্যালিং কক্ষ ও ট্র্যাক কন্ট্রোল ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন এখন সময়ের দাবি।

মেট্রোরেল শুধুই শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেনি, বরং এটি নগর পরিকল্পনাতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পরিবহনের ফলে ধীরে ধীরে কমে আসছে ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা। ফলে যানজট যেমন হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি দূষণও কমছে। এমআরটি লাইন-৬ চালু হওয়ার পর বছরে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৭৬২ টন কার্বন নিঃসরণ কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি দেশের পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এক বড় সাফল্য। মেট্রোরেলে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ যাতায়াত করছেন। পরিবহন খাতে এই ব্যতিক্রমী অগ্রগতি দেশে গণপরিবহন সংস্কৃতির এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে, যাকে এক ধরনের ‘নীরব বিপ্লব’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

সক্ষমতা বৃদ্ধিতে করণীয়

১. জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে এমআরটি ইউনিটকে শক্তিশালীকরণ: পুলিশের কাজ শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সহায়তায় এগিয়ে আসা। এই প্রেক্ষাপটে, পুলিশের বিদ্যমান ইউনিটে জনবল বৃদ্ধি করা হলে তারা আরও কল্যাণমুখী হয়ে মানুষের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে।

২. উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন: এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা, বায়োমেট্রিক অ্যাকসেস কন্ট্রোল, অগ্নি ও বিস্ফোরণ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, চেহারা শনাক্তকরণ (ফেসিয়াল রিকগনিশন) এবং ড্রোন নজরদারি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

৩. জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম: যাত্রীদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে নিয়মিত ক্যাম্পেইন, ভিডিও বার্তা, ব্রোশিওর বিতরণ ও স্টেশনভিত্তিক ওয়ার্কশপের আয়োজন করা উচিত।

৪. অর্থনৈতিক কোড সৃজন: এমআরটি পুলিশের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ এবং অর্থনৈতিক কোড নির্ধারণ করলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে।

৫. এমআরটি পুলিশ এবং মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি: এমআরটি পুলিশের নির্ধারিত দায়িত্ব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে, মেট্রোরেলের বিভিন্ন পর্যায়ে কোথায় এবং কীভাবে তারা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সেবা প্রদান করতে পারে তা নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি, প্রতিটি স্টেশনে সমন্বয়ের জন্য একজন কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা উচিত।

৬. অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় লাগেজ স্ক্যানার জরুরি: প্রতিদিন যেহেতু তিন লাখ ষাট হাজার যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করে, সেহেতু এই অধিক সংখ্যক যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি ও মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য লাগেজ স্ক্যানার বিশেষভাবে জরুরি। কারণ লাগেজ স্ক্যানারের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক যেকোনো দ্রব্য শনাক্ত করা অত্যন্ত সহজ।

উপসংহার

মেট্রোরেল শুধু একটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা সংস্কৃতির এক যুগান্তকারী অধ্যায়। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এমআরটি পুলিশের কাঠামো, জনবল ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় যুগোপযোগী ও টেকসই পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি স্টেশন, প্রতিটি ট্রেন যেন হয় নিরাপত্তার আধুনিক দুর্গ—এই লক্ষ্যে গড়ে তুলতে হবে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমআরটি পুলিশ তো রয়েছেই, পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বদা নিবেদিত।

লেখক
ডিআইজি
এমআরটি
বাংলাদেশ পুলিশ

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ