পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কর্তৃক আড়াইহাজার থানাধীন শ্রীনিবাসদী সাকিনস্থ বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মস্তকবিহীন অজ্ঞাতনামা যুবক হত্যাকান্ডের ঘটনায় ০৪ দিনের মধ্যে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত একজন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১৬/১২/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন শ্রীনিবাসদী সাকিনস্থ জনৈক আফজাল এর বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি মস্তকবিহীন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ দেখতে পেয়ে এলাকার স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। থানা পুলিশের মাধ্যমে উক্ত সংবাদ পেয়ে পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম তড়িৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মস্তকবিহীন লাশের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে লাশের পরিচয় সনাক্ত করে । ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায় ডিসিস্ট এর নাম আবরাহাম খান প্রকাশ আলিম খান (২৭) যিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার অধিবাসী ।
ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায় ভিকটিম গত ১৫/১২/২৫ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ০৭:০০ ঘটিকার সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি হতে বের হন এবং একই তারিখ সকাল অনুমান ০৮:৩০ ঘটিকার সময় সর্বশেষ ভিকটিমের বোন মিনুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হওয়ার পর থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক লাশ সনাক্ত হওয়ার পর উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের এর পিতা মোঃ ওয়াজেদ আলী খান (৫৬) বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই এর সিডিউল ভুক্ত মামলা হওয়ায়, পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) মোঃ জাহিদ হোসেন রায়হানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় এসআই মোঃ জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার অভিযানিক টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিম আবরাহাম খান প্রকাশ আলীম খান (২৭) হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বি (২৬), পিতা- মোঃ মনজু শেখ, মাতা- মোছাঃ রেহেনা খাতুন, সাং- ফরিদপুর, পোস্ট-কাচারীপাড়া, থানা- পাংশা, জেলা- রাজবাড়ি কে গত ১৯/১২/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ২০:৩০ ঘটিকায় ডিএমপি ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বি (২৬) ভিকটিম আবরাহাম খান প্রকাশ আলিম খান (২৭) এর হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেন। আসামীর জবানবন্দী,তথ্য প্রযুক্তি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। ভিকটিম আবরাহাম খান প্রকাশ আলিম খান (২৭) এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে ভিকটিম গ্রেফতারকৃত আসামীর খালাকে ব্লাক মেইল করা শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে আসামী মোঃ রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বি ও তার খালা অজ্ঞাতনামা আসামীসহ ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীর খালাকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করে গত ১৫/১২/২০২৫ ইং তারিখ ভিকটিমকে তার নিজ বাড়ী রাজবাড়ীর জেলার পাংশা থানা হতে পূর্ব-পরিকল্পনা মোতাবেক আড়াইহাজারে ডেকে নিয়ে আসে এবং আসামীরা মিলে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক দা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে মস্তক আলাদা করে এবং ভিকটিমের পরিহিত জামা কাপড় খুলে নিয়ে মস্তক ও দা ব্যাগে ঢুকিয়ে তা পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেয় যাতে ভিকটিমকে কেউ চিনতে না পারে। উল্লেখ্য ভিকটিম আব্রাহাম খান প্রকাশ আলিম খান এর খন্ডিত মস্তক ,হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা ও পরিহিত জ্যাকেটের অংশ বিশেষ ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী খাল থেকে স্থানীয় লোকজনের দেখানো মতে গত ১৮/১২/২০২৫ ইং তারিখে থানা কর্তৃক উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীর খালাসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা অব্যাহত আছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত আসামীকে অদ্য ২০/১২/২০২৫ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে উক্ত আসামী তার নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত আছে।
