“আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর হতে পুলিশের প্রয়োজন জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা” – প্রফেসর টম আর. টাইলার
রফিক সাহেব মিরপুরের একটি মহল্লায় থাকেন। কয়েক দিন ধরে তিনি লক্ষ করছেন, এলাকার কয়েকজন কিশোর স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এক দোকানদারের কাছে টাকা দাবি করার ঘটনাও তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। বিষয়টি এখনো বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ নেয়নি, তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো প্রয়োজন মনে হলেও রফিক সাহেব থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাঁর মনে নানা প্রশ্ন ঘুরছে। পুলিশ কি তাঁর কথাটি গুরুত্ব দিয়ে শুনবে? তাঁর পরিচয় কি গোপন রাখা হবে? অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিষয়টি জানতে পারলে তিনি নিজেই কোনো ঝামেলায় পড়বেন না তো? তথ্য দেওয়ার পর তাঁকে কি বারবার থানায় যেতে হবে, নাকি অপ্রয়োজনীয় কোনো জটিলতার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে হবে? এসব আশঙ্কার কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি পুলিশের কাছে যেতে দ্বিধা বোধ করছেন। এই দ্বিধা শুধু রফিক সাহেবের একার নয়, দেশের বড় সংখ্যক মানুষের মনেই রয়েছে এই দ্বিধা। মানুষের মনে এমন ধারণা একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের কিছু নেতিবাচক অভিজ্ঞতা, অভিযোগ গ্রহণে অনীহা বা বিলম্ব, অসম আচরণের অভিযোগ এবং পুলিশ ও নাগরিকের মধ্যকার দূরত্ব ধীরে ধীরে এই অবিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছে। সব পুলিশ সদস্য কিংবা সব থানার আচরণ এক রকম না হলেও কিছু নেতিবাচক ঘটনা পুরো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। পুলিশের প্রতি আস্থা দুর্বল হলে নাগরিক শুধু সেবা নিতে সংকোচ বোধ করেন এমনই নয়, বরং অপরাধ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতেও পিছিয়ে যান। অথচ কার্যকর পুলিশিং অনেকাংশেই নাগরিকের সহযোগিতা ও তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। একজন নাগরিক তাই নিশ্চিত হতে চান, পুলিশ তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে, সম্মানজনক আচরণ করবে, তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেবে এবং অভিযোগ বা তথ্য দেওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জানাবে। এখানেই মূলত সামনে আসে তত্ত্বগত কিছু প্রশ্ন। প্রচলিত আইন প্রয়োগকেন্দ্রিক পুলিশিং মডেল অনুযায়ী পুলিশ কি কেবল আইন প্রয়োগের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান, নাকি কমিউনিটি ও সেবামুখী পুলিশিংয়ের ধারণা অনুযায়ী এমন একটি জনসেবা প্রতিষ্ঠান, যার কাছে নাগরিক নিরাপদে নিজের উদ্বেগ জানাতে পারেন? পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা কি শুধু কতজন অপরাধী গ্রেফতার হলো, কতটি মামলা করা হলো কিংবা কতটি অভিযান পরিচালিত হলো, এ ধরনের ফলাফলভিত্তিক সূচক দিয়ে নির্ধারণ করা যায়? নাকি আধুনিক প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার ও পুলিশি বৈধতার তত্ত্ব অনুযায়ী একজন সাধারণ নাগরিক পুলিশের কাছে যেতে কতটা নিরাপদ, সম্মানিত ও আস্থাশীল বোধ করেন, সেটিও কার্যকর পুলিশিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড? জুলাই গণঅভ্যুত্থান এসব প্রশ্নকে নিয়ে এসেছে তাত্ত্বিক আলোচনার মোড়কের বাইরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কিছু পুলিশ সদস্যের বিতর্কিত ভূমিকা পুলিশ ও জনগণের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সংকটকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের অধীনে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর যে ভূমিকা দেখা যায়, তা পুলিশের প্রতি জনআস্থায় গভীর আঘাত করে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের অনুসন্ধানে সাবেক সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সহিংস গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর পদ্ধতিগত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে জুলাইয়ের ঘটনাকে শুধু কিছু বিপথগামী কর্মকর্তার বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। নিঃসন্দেহে কিছু কর্মকর্তা আইন, পেশাগত নীতি ও মানবিকতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তাঁদের ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এর পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব, প্রশ্নহীনভাবে আদেশ পালনের সংস্কৃতি এবং কার্যকর স্বাধীন তদারকির অভাবও বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংকট হিসেবে কাজ করেছে। ফলে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণের পাশাপাশি পুলিশিং কাঠামো, পেশাগত স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
জনআস্থার পতন কেন এত গভীর হলো?
পুলিশের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, আইন প্রয়োগ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলা করা এবং নাগরিকের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ। এসব দায়িত্বের কারণে পুলিশ সাধারণ কোনো সরকারি বিভাগ নয়, বরং নাগরিকের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের আইনগত কর্তৃত্বের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিনিধিগুলোর একটি। একজন নাগরিক যখন বিপদে পড়েন, অপরাধের শিকার হন কিংবা জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো সংকটের মুখোমুখি হন, তখন সহায়তা ও প্রতিকারের জন্য সাধারণত প্রথমে পুলিশেরই শরণাপন্ন হন। ফলে বিপদের মুহূর্তে পুলিশের কোনো অন্যায়, পক্ষপাতমূলক বা অসম্মানজনক আচরণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করার পাশাপাশি নাগরিকের কাছে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঠিক সেভাবেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনপরিসরে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ের কিছু পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক নাগরিকের কাছে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও জননিরাপত্তা রক্ষার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আন্দোলন মোকাবিলায় বলপ্রয়োগের মাত্রা, গুলিতে মৃত্যু, ব্যাপক গ্রেফতার, ভীতিকর পরিস্থিতি-সব বিষয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এর ফলে পুলিশের প্রতি আগে থেকেই থাকা অবিশ্বাস আরও গভীর হয় এবং পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে। আর ক্ষয়ে যাওয়া এই আস্থা শুধু সংবাদ সম্মেলন, স্লোগান কিংবা বাহ্যিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ আস্থা একটি অনুভূতি হলেও তা গড়ে ওঠে পুলিশের দীর্ঘদিনের দৃশ্যমান আচরণ, ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং নাগরিকের ধারাবাহিক ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। তবে আরেকটি সত্যও সমানভাবে স্বীকার করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের শেষ পর্যায় এবং পরবর্তী সহিংসতায় কিছু পুলিশ সদস্য নিহত হন, বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, অস্ত্র ও সরঞ্জাম লুট হয় এবং মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মনোবল ও নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘের অনুসন্ধানে বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সাধারণ পুলিশ সদস্যদের অধিকাংশই অভ্যুত্থানকালীন কর্মকৌশল নির্ধারণ করেননি কিংবা তৎকালীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও পুরো বাহিনীর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ক্ষোভ, সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব তাঁদেরই বহন করতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ফলে জনআস্থা পুনর্গঠনের আলোচনায় একদিকে যেমন নাগরিকদের ক্ষত, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে স্বীকার করতে হবে, অন্যদিকে সৎ ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, মনোবল এবং পেশাগত আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
পুলিশের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী কিছুদিন বহু থানা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সাধারণ অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, টহল এবং জরুরি সাড়ায় তৈরি হয় বড় শূন্যতা। পুলিশের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং মাঠপর্যায়ে দুর্বল উপস্থিতির সুযোগে কিছু সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বভাবতই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণেও বিভিন্ন হত্যা, চুরি, ছিনতাই ও সহিংস ঘটনা ঘটার চিত্র লক্ষ করা যায়। সেই অবস্থা থেকে পুলিশ সদস্যদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা, থানাগুলো সচল করা এবং দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ২০২৫ সালে তৎকালীন আইজিপি পুলিশ সদস্যদের আবার কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনাকে আগের বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের আরও সুযোগ রয়েছে। পুলিশের মনোবল ফিরে আসার আরেকটি ভিত্তি ছিল সাধারণ দায়িত্বে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান প্রত্যাবর্তন। থানা সচল করা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান, অপরাধ দমন, জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফেরানো, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা রক্ষা-এসব কাজ বাহিনীকে আবার কার্যকর প্রতিষ্ঠানের ভূমিকায় ফিরিয়ে আনে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে জাতিসংঘের সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর জবাবদিহিমূলক, মানবাধিকারভিত্তিক এবং নাগরিক-সংবেদনশীল নির্বাচন পুলিশিংয়ের জন্য দেশব্যাপী পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে। এতে গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নিরাপত্তা, বলপ্রয়োগের বৈধতা, নেতৃত্ব এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভোটের দিন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, দৃশ্যমান নিরাপত্তা এবং অনেক ভোটারের ভয়-ভীতিহীন সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা ফেরানোর মুহূর্ত হয়ে ওঠে। তবে একটি সফল নির্বাচনকে জনগণের আস্থার চূড়ান্ত পুনরুদ্ধার বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে, কারণ আস্থা একদিনে বা কোনো একটি ঘটনার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাঠে নিরপেক্ষ থাকা যেমন জরুরি ছিল, ঠিক তেমনই থানায় অভিযোগ গ্রহণ, রাস্তায় তল্লাশি, গ্রেফতার, তদন্ত এবং দৈনন্দিন কথাবার্তায়ও একই ন্যায়সঙ্গত আচরণ দেখাতে হবে। বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এ আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনকেন্দ্রিক পুলিশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাঠামোগত সংস্কার, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং জনআস্থা পুনর্গঠনের বাস্তব উদ্যোগ কি যথেষ্ট দৃশ্যমান হয়েছে?
নাগরিককেন্দ্রিক পুলিশিং বলতে কী বোঝায়?
নাগরিককেন্দ্রিক পুলিশিং মানে নাগরিক যা চাইবেন, পুলিশ তা-ই করবে, এমন নয়। পুলিশকে আইন প্রয়োগ করতে হবে, অপরাধী গ্রেফতার করতে হবে, কখনো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে হবে। কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া। এখানে নাগরিক ‘শাসিত প্রজা’ নন; তিনি রাষ্ট্রের অংশীদার। পুলিশও কোনো রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক নয়; তারা সংবিধান, আইন এবং জনগণের নিরাপত্তার পেশাদার রক্ষক। ক্যাম্পবেল কোলাবোরেশনের প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার-বিষয়ক গবেষণা, জাতিসংঘের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বলপ্রয়োগ-সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালা, যুক্তরাজ্যের কলেজ অব পুলিশিংয়ের এলাকাভিত্তিক পুলিশিং নির্দেশনা এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) পুলিশি জবাবদিহি কাঠামোর আলোকে নাগরিককেন্দ্রিক পুলিশিংয়ের কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায়। সেগুলো যথাক্রমে: প্রথমত, নাগরিককে নিজের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্ত নিতে হবে আইন, প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত পক্ষপাত, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের ভিত্তিতে নয়। তৃতীয়ত, বলপ্রয়োগকে সর্বশেষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং তা হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক ও পর্যালোচনাযোগ্য। চতুর্থত, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যা শনাক্ত, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। পঞ্চমত, পুলিশি ভুল বা অসদাচরণের অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, জবাবদিহিতা এবং প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। ম্যাজারোল ও তাঁর সহকর্মীদের একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুলিশ যদি নাগরিকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, সম্মানের সঙ্গে আচরণ করে এবং নিজের সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে, তাহলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও সহযোগিতার মনোভাব বাড়তে পারে। কিন্তু এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। শুধু কমিউনিটি সভা, উঠান বৈঠক বা প্রচারণা আয়োজন করলেই আস্থা বাড়ে না। ছয়টি উন্নয়নশীল দেশের সমন্বিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া প্রচলিত কমিউনিটি পুলিশিং কর্মসূচি আস্থা বা অপরাধ কমাতে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। অর্থাৎ নাগরিককেন্দ্রিক পুলিশিংকে আনুষ্ঠানিক জনসংযোগে সীমাবদ্ধ রাখলে তা ব্যর্থ হবে। এর সঙ্গে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি, সেবার মান, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং ফলাফল পরিমাপ যুক্ত করতে হবে।
যেভাবে পুলিশের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছে দেশ-বিদেশে
রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্নীতি, পক্ষপাতমূলক আচরণ কিংবা বলপ্রয়োগের অপব্যবহারের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, কেবল প্রচারণা বা বাহ্যিক পরিবর্তনের বদলে প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সেবার মান এবং নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
উত্তর আয়ারল্যান্ড
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের কারণে উত্তর আয়ারল্যান্ডে পুলিশের প্রতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আস্থায় গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির পর প্যাটন কমিশন এমন একটি নতুন পুলিশব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করে, যা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং হবে নিরপেক্ষ, মানবাধিকারভিত্তিক ও জবাবদিহির আওতাভুক্ত। এর ধারাবাহিকতায় পুরোনো রয়্যাল আলস্টার কনস্ট্যাবুলারির পরিবর্তে পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বা পিএসএনআই গঠন করা হয়। সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় জনগোষ্ঠী থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ, মানবাধিকারভিত্তিক আচরণবিধি, কমিউনিটিকেন্দ্রিক পুলিশিং এবং পুলিশের কার্যক্রম তদারকির জন্য স্বাধীন পুলিশিং বোর্ড ও পুলিশ ওমবাডসম্যানের ব্যবস্থা করা হয়। প্যাটন কমিশনের সময় পুরোনো বাহিনীতে ক্যাথলিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ; নতুন নিয়োগনীতির মাধ্যমে এই ভারসাম্য পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ২ হাজার ৫০০ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর পরিচালিত সরকারি জরিপে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা পিএসএনআইকে নিজেদের এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর বা অত্যন্ত কার্যকর বলে মত দেন। একই জরিপে ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুলিশের সামগ্রিক কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ৯২ দশমিক ১ শতাংশ প্রয়োজন হলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাস জানান।
জর্জিয়া
২০০৩ সালের রোজ বিপ্লবের আগে জর্জিয়ার ট্রাফিক পুলিশ ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ ও হয়রানির প্রতীক হয়ে উঠেছিল। পুলিশের সঙ্গে নাগরিকের দৈনন্দিন যোগাযোগ প্রায়ই অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরিস্থিতি পরিবর্তনে দেশটির সরকার ধীরে ধীরে সংস্কারের পরিবর্তে পুরোনো ব্যবস্থাকে আমূল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৪ সালে একদিনেই প্রায় ১৬ হাজার ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের জায়গায় ২ হাজার ৩০০ জন নতুন রোড প্যাট্রোল পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মোট জনবলও প্রায় ৬৩ হাজার থেকে কমিয়ে ২৭ হাজারে আনা হয়। নতুন ব্যবস্থায় উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ, উন্নত বেতন, নতুন প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত সেবা এবং ঘুষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ ও নাগরিকের সরাসরি আর্থিক লেনদেন কমাতে ইলেকট্রনিক জরিমানা, ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাও চালু করা হয়। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে এই সংস্কারকে জর্জিয়ার সরকারি সেবায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় পুলিশের প্রতি আস্থা ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। ২০১০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৮৪ শতাংশে পৌঁছায়। এই পরিবর্তন পুলিশের পোশাক, গাড়ি বা ভবন বদলানোর কারণে হয়নি, বরং নাগরিকেরা দৈনন্দিন সেবায় ঘুষের পরিমাণ কমতে, দ্রুত সাড়া পেতে এবং পুলিশের আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পেয়েছিলেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক হলো, পুলিশের দুর্নীতির সুযোগ কমানো, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা আনা, সদস্যদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নাগরিককে দ্রুত ও সম্মানজনক সেবা দেওয়া। পাশাপাশি এসব সংস্কারের সঙ্গে স্বাধীন জবাবদিহিতা না থাকলে প্রাথমিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
রুয়ান্ডা
১৯৯৪ সালের গণহত্যার সময় তৎকালীন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রুয়ান্ডার মানুষের মধ্যে গভীর ভয় ও অবিশ্বাস তৈরি করেছিল। এমন একটি পরিস্থিতিতে নতুন পুলিশব্যবস্থার সামনে শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং জনগণের কাছে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জও ছিল। রুয়ান্ডা ন্যাশনাল পুলিশ পরবর্তী সময়ে কমিউনিটি পুলিশিংকে তার অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে। এর মূল ধারণা ছিল, নিরাপত্তা শুধু পুলিশের একক দায়িত্ব নয়; স্থানীয় মানুষও সমস্যা শনাক্তকরণ, তথ্য প্রদান এবং অপরাধ প্রতিরোধে অংশ নেবেন। এই ব্যবস্থার অধীনে গ্রাম ও সেক্টর পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গড়ে তোলা হয়। এসব কমিটির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন। তাঁরা এলাকার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ পুলিশকে জানান, অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করেন এবং স্থানীয় সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালের পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৭৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি সক্রিয় ছিল। এসব কমিটির সদস্যদের অপরাধের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ, তথ্য প্রদান এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রুয়ান্ডার সরকারি মূল্যায়নগুলোতে নিরাপত্তা খাতে উচ্চ জনসন্তুষ্টির চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের রুয়ান্ডা গভর্ন্যান্স স্কোরকার্ডে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাত ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ স্কোর অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল্যায়নে এই খাতের স্কোর ছিল ৯০ দশমিক ০২ শতাংশ। এসব ফলাফল কমিউনিটি অংশীদারিত্ব, দৃশ্যমান নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। তবে রুয়ান্ডার মডেল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দেশটির কমিউনিটি পুলিশিং কাঠামো অনেকটাই কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত এবং অধিকাংশ সন্তুষ্টির তথ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে। ফলে নিরাপত্তার উচ্চ অনুভূতির পাশাপাশি স্বাধীন অভিযোগব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পুলিশি কর্মকাণ্ডের স্বাধীন তদারকি কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এই তিন দেশের পদ্ধতি এক নয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রতিনিধিত্ব, মানবাধিকার ও স্বাধীন জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জর্জিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে দুর্নীতির সুযোগ কমানো, পেশাদার নিয়োগ ও দ্রুত সেবা। রুয়ান্ডায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিককে নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশীদার করা এবং পুলিশকে সামাজিকভাবে দৃশ্যমান করা। তবে তিনটি দেশের ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বিষয় হলো, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কেবল বক্তব্য, প্রচারণা কিংবা বাহ্যিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ফিরে আসেনি। নাগরিক যখন বাস্তবে নিরপেক্ষ আচরণ, সম্মানজনক ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা, নিরাপত্তায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্য জবাবদিহি দেখতে পায়, তখন ধারাবাহিকভাবে পুলিশের প্রতি তাঁদের আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্গঠিত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুলিশ ও জনগণ উভয়ের জন্যই একটি বেদনাদায়ক মোড়। জনগণ দেখেছে, রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত পুলিশ কত ভয়াবহভাবে বৈধতা হারাতে পারে। পুলিশ সদস্যরাও দেখেছেন, জনআস্থা হারালে অস্ত্র, ইউনিফর্ম ও আইনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও একটি বাহিনী কত দ্রুত একা ও অসহায় হয়ে পড়তে পারে। তাই জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় পুলিশিং শিক্ষা হলো, জনগণের আস্থা পুলিশের জন্য সৌজন্যমূলক কোনো সুবিধা নয়, বরং এটিই কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান শক্তি। পরবর্তী সময়ে থানায় ফেরা, দৈনন্দিন সেবা পুনরুদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনে তুলনামূলক পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং জনকেন্দ্রিক পুলিশ গড়ার নতুন অঙ্গীকার বাহিনীকে পুনরায় দাঁড়ানোর ভিত্তি দিয়েছে। এসব সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে হবে। কারণ ন্যায়সঙ্গত সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের সামাজিক স্বীকৃতিও সদস্যদের মনোবল ও পেশাগত পরিচয় পুনর্গঠনে সহায়ক। কিন্তু অতীতের ভুল ভুলে গিয়ে নয়; সেখান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে হবে। রফিক সাহেব যখন মিরপুর থানায় গিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের কথা বলবেন, তাঁর কথা যেন “এ নিয়ে কোনো মামলা হয়নি” বলে হারিয়ে না যায়। একজন আন্দোলনকারী যখন শাহবাগের রাস্তায় দাঁড়াবেন, তাঁকে যেন শত্রুর বদলে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে দেখা হয়। একজন পুলিশ সদস্য যখন আইনসম্মত দায়িত্ব পালন করবেন, তিনি যেন রাজনৈতিক চাপ, অস্পষ্ট নির্দেশ এবং জনরোষের মধ্যে একা না থাকেন। এই তিন নিশ্চয়তা নাগরিককেন্দ্রিক, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক পুলিশিংয়ের সাথে একই সূত্রে যুক্ত।
বাংলাদেশের জন্য আস্থা পুনর্গঠনের সাতটি ভিত্তি
বাস্তবতা স্বীকার, ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জুলাইয়ের ঘটনাগুলো নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, ব্যক্তিগত ও কমান্ড পর্যায়ের দায় নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার ছাড়া আস্থা পুনর্গঠন অসম্ভব। তবে বিচার যেন প্রতিশোধে পরিণত না হয় এবং পুরো বাহিনীকে সমষ্টিগতভাবে অপরাধী না বানায়। কে নির্দেশ দিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি কোন পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সেটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, পুরো সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এ ছাড়া গত দুই বছরে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে বিবাদী সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইনি উৎসের বাস্তবতায় ভুক্তভোগীদের বিচারপ্রাপ্তিতেও কিছু জটিলতা এবং স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৩২-এর যত্রতত্র প্রয়োগের কথা বলা যায়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাগত পুলিশিং পুলিশ যদি ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তাহলে নাগরিক কোনোভাবেই তাকে নিরপেক্ষ মনে করবেন না। তদন্ত, গ্রেফতার, মামলা গ্রহণ, জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনা এবং বদলি-পদায়নে আইনবহির্ভূত রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে কার্যকর পেশাগত স্বাধীনতা প্রয়োজন। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসপি ও ওসি পদায়নের ফিট লিস্ট, গুরুত্বপূর্ণ পদে ন্যূনতম কর্মকাল এবং বদলি-পদায়নের লিখিত কারণ নিশ্চিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ পুলিশ কমিশন নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদারকি করবে। তবে কমিশনকে শুধু পরামর্শদাতা না রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দিতে হবে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের মতো করে প্রয়োজনে নারী, সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পেশাগত স্বাধীনতার সঙ্গে স্বচ্ছ জবাবদিহিতাও থাকতে হবে।
প্রতিটি সাক্ষাতে প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার ও সেবাপদ্ধতির সংস্কার
নাগরিকের সঙ্গে পুলিশের অধিকাংশ যোগাযোগ ঘটে থানার ডেস্কে, ফোনে, রাস্তায়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বা একটি সাধারণ জিজ্ঞাসার সময়। সেখানেই আস্থা তৈরি বা ভেঙে যায়। অভিযোগ গ্রহণ করা সম্ভব না হলে কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে, বিকল্প পথ জানাতে হবে এবং নাগরিককে অপমানিত বা অসহায় বোধ করানো যাবে না। যেকোনো অভিযোগ গ্রহণ করার পর “আপনার কথা শুনেছি”, “এই সিদ্ধান্তের কারণ এটি” এবং “পরবর্তী ধাপ এখানে”-এই তিন সাধারণ কথা পুলিশি সেবার সংস্কৃতিকে বদলাতে পারে। ন্যায়সঙ্গত আচরণ মানে শুধু ভদ্র ভাষা নয়, এর সঙ্গে সঠিক তদন্ত, নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত এবং সময়মতো সেবা নিশ্চিত করতে হবে। জর্জিয়ার মতো করে পুলিশি সেবা, জরিমানা, অভিযোগ ও মামলার অগ্রগতি ডিজিটাল ও অনুসরণযোগ্য করলে হয়রানি এবং অনানুষ্ঠানিক লেনদেন কমানো সম্ভব।
পরিচিত বিট কর্মকর্তা ও যৌথ স্থানীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা
একটি এলাকার মানুষ জানবেন তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কে, কীভাবে যোগাযোগ করবেন এবং এলাকার অগ্রাধিকার সমস্যা কী। বিট কর্মকর্তাকে ঘন ঘন বদলি করা, নিয়মিত অন্য কাজে ব্যবহার করা কিংবা শুধু আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে জনগণের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হবে না। স্থানীয় নিরাপত্তা সভায় শুধু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু, শ্রমজীবী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। রুয়ান্ডার কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো নাগরিকেরা সমস্যা শনাক্ত ও অপরাধ প্রতিরোধে অংশ নেবেন। তবে এসব সভা শুধু তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না রেখে সমস্যা নির্বাচন, দায়িত্ব বণ্টন ও ফলাফল মূল্যায়নেও নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সভায় উত্থাপিত সমস্যা লিখিতভাবে নথিভুক্ত হবে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে, দায়িত্ব ভাগ করা হবে এবং পরবর্তী সভায় অগ্রগতি জানানো হবে।
বলপ্রয়োগে স্পষ্ট সীমা, নথি ও স্বাধীন পর্যালোচনা
জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, জনসমাবেশ বা প্রতিবাদকে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ হিসেবে দেখা যাবে না। প্রথমে যোগাযোগ, সতর্কতা, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, নিরাপদ পথ তৈরি, উত্তেজনা কমানো এবং মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। বলপ্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন হলে তা ধাপে ধাপে, আইনসম্মতভাবে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বৈধ বলপ্রয়োগ করা হবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে কে নির্দেশ দিয়েছেন, কী তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোন পর্যায়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তার ফলাফল কী হয়েছে, তা লিখিত ও ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু মাঠপর্যায়ের সদস্যকে নয়, প্রয়োজন হলে নির্দেশদাতা ও তদারককারী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করতে হবে। গুরুতর আহত বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে নিয়মিত পুলিশি চেইন অব কমান্ডের বাইরে স্বাধীন পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ডিজিটাল লগ এবং পরবর্তী স্বাধীন পর্যালোচনা নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যকেও ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।
স্বাধীন অভিযোগব্যবস্থা ও পুলিশ সদস্যের কল্যাণ
নাগরিক পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করলে তদন্তের জন্য যেন আবার সম্পূর্ণভাবে একই পুলিশি কমান্ডের ওপর নির্ভরশীল না হন। গুরুতর অভিযোগের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তিযোগ্য তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে নাগরিক অভিযোগের অগ্রগতি ও সিদ্ধান্তের কারণ জানতে পারবেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশিং বোর্ড ও পুলিশ ওমবাডসম্যানের অভিজ্ঞতার আলোকে নীতিগত তদারকি এবং ব্যক্তিগত অভিযোগ তদন্ত আলাদাভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি, বলপ্রয়োগ, সাড়াদানের সময়, তদন্তের মান, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অগ্রগতি ও নাগরিক সন্তুষ্টির তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। জাতিসংঘের পুলিশি জবাবদিহি-বিষয়ক নির্দেশনায় অভিযোগ করা সহজ করা, বাহ্যিক পর্যালোচনা এবং পুলিশের কার্যক্রমে জনসাধারণের মতামতের সুযোগকে জনআস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যের কল্যাণ, নৈতিক নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের অভাব, আবাসন, চিকিৎসা, মানসিক চাপ, প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও অনিশ্চিত পদায়নের মতো সমস্যা সমাধান করতে হবে। ক্লান্ত, আতঙ্কিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাবঞ্চিত সদস্যের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে মানবিক ও মানসম্মত সেবা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। পুলিশের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে মানবাধিকার, নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ, উত্তেজনা প্রশমন, নৈতিক সিদ্ধান্ত এবং প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচারে আরও গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। সদস্যরা যেন অবৈধ নির্দেশ বা অনিয়মের বিষয়ে নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য গ্রিভেন্স রিড্রেসাল ব্যবস্থাকে কার্যকর ও পরিচিত করার পাশাপাশি গোপনীয় এবং সুরক্ষিত অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নেতৃত্বের মূল্যায়নে অভিযান ও গ্রেফতারের পাশাপাশি নাগরিক অভিযোগ, বলপ্রয়োগ, তদন্তের মান এবং জনআস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বহুমুখী জনযোগাযোগ ও ডিজিটাল সম্পৃক্ততা
পুলিশ সাধারণত খুব কমই ইতিবাচক কারণে সংবাদের শিরোনাম হয়। অথচ পুলিশের বড় একটা অংশের কার্যক্রমই জনসেবামূলক। নেতিবাচক কর্মকাণ্ড যে ঘটে না, তা নয়; তবে পুলিশের মানবসেবামূলক কাজগুলোর অধিকাংশই জনসাধারণের কাছে অজ্ঞাত থেকে যায়। এজন্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের উপযুক্ত ব্যবহার প্রয়োজন। তবে আশার কথা, বাংলাদেশ পুলিশের সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে নিয়মিত কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখন প্রয়োজন একে শুধু নিয়মিত অফিসিয়াল তথ্য প্রচারের মাধ্যম না রেখে নাগরিকের সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত করা। সামাজিক মাধ্যমকে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক বিষয়ের পাশাপাশি সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অভিযোগের অগ্রগতি, গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেক এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সংযোগের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া যেতে পারে। ফেসবুকের পাশাপাশি ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার এক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া লোকাল পুলিশ ও বিভিন্ন ইউনিটগুলো তাদের নিজস্ব বাস্তবতানুসারে জনগণকে সংযুক্ত করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। নেপাল পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে দেখা যায়, বিভিন্ন মিম বা মজাদার ভিডিও শেয়ার করে তার সঙ্গে জনসচেতনতামূলক মেসেজ জুড়ে দিতে, যা ব্যাপক আলোড়িত হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে লন্ডন পুলিশের এ-সম্পর্কিত ব্যয় ছিল প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৫ টাকা। এছাড়া লন্ডনের ‘মিট এনগেজ’ ও যুক্তরাজ্যের ‘Suffolk Connected’-এর মতো ব্যবস্থায় নাগরিকেরা নিজ এলাকার অপরাধ-সতর্কতা ও নিরাপত্তা পরামর্শ পান এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে সরাসরি মতামতও জানাতে পারেন। তবে আস্থা ফিরেছে কি না, তা শুধু পুলিশের নিজস্ব বক্তব্য দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। আস্থার পরিবর্তন বোঝার জন্য নিয়মিত স্বাধীন জনমত জরিপ, থানাভিত্তিক সেবা-অভিজ্ঞতা, অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তুষ্টি, বলপ্রয়োগের ঘটনা, তদন্তের মান, মামলার অগ্রগতি, স্থানীয় সমস্যার পুনরাবৃত্তি এবং নাগরিকের তথ্য দেওয়ার আগ্রহের মতো সূচক ব্যবহার করতে হবে। এসব মূল্যায়নের ফলাফল নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করাও প্রয়োজন। ভালো ফল পাওয়া ইউনিট ও সদস্যদের স্বীকৃতি দিতে হবে। দুর্বল ফলের ক্ষেত্রে শুধু শাস্তির ওপর নির্ভর না করে আধুনিক প্রশিক্ষণ, কার্যকর তদারকি এবং সংশোধন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এতে ভয় ও শাস্তিনির্ভর অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির পরিবর্তে শেখা, পেশাগত উন্নয়ন ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
লেখক
প্রজেক্ট ম্যানেজার, কনটেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ
ইন্টেলিস সল্যুশন লি.

