আমেরিকা মহাদেশজুড়ে পরিবেশগত অপরাধ দমনে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে ২২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। INTERPOL–এর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানের নাম অপারেশন ‘মাদ্রে তিয়েরা–৭’, যা চলেছে ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।
INTERPOL-এর সেন্ট্রাল আমেরিকা আঞ্চলিক ব্যুরোর নেতৃত্বে নয়টি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণে অভিযানে বন উজাড়, বন্যপ্রাণী পাচার, অবৈধ মৎস্য আহরণ, অবৈধ খনন ও দূষণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত অপরাধ শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৪০০টির বেশি পরিবেশগত অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বনজ ও অবৈধ কাঠ পাচার এবং বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনাই সবচেয়ে বেশি।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ জীবিত বন্যপ্রাণী, কাঠ, অস্ত্র, নৌযান ও যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল বিরল পাখি, সরীসৃপ, বানর, বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী, পাশাপাশি হাঙর ও রে মাছের পাখনা এবং সুরক্ষিত প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী। বিভিন্ন দেশে অবৈধ বন উজাড়ের বড় বড় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানামায় এক বড় মামলায় অবৈধ স্বর্ণখননের সঙ্গে শিশু শ্রম, মানব পাচার ও পারদ দূষণের প্রমাণ মিলেছে। অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রতিবেদন আগামী নভেম্বরে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এই অভিযান পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিবেশগত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।
