উত্তর দিকের কনকনে হাওয়া আর গভীর রাতের কুয়াশা জানিয়ে দিচ্ছে—শীত এখন আর দরজায় নয়, আমাদের জীবনের ভেতরেই ঢুকে পড়েছে|রাস্তার বাতির নিচে ভেসে থাকা সাদা ধোঁয়াটে কুয়াশা, নিঃশ্বাসে ধোঁয়া ওঠা, আর গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সকালের ডিউটিতে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের পরিচিত দৃশ্য| শীতের সকাল যেমন আরামদায়ক ও কবিতার মতো রোমান্টিক, তেমনি এই ঋতু হঠাৎ সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, জয়েন্ট পেইন কিংবা জ্বর নিয়ে বেশিরভাগ সময়ই অপ্রস্তুত করে ফেলে| অনেকেই ডিউটির মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন, আবার কেউ কেউ শারীরিক অস্বস্তির কারণে প্রিয় এই মৌসুমকে উপভোগ করতেই পারেন না|এই অস্বস্তি, বিরক্তি বা অসুস্থতা থেকে দূরে থাকতে চাই কিছু অতিরিক্ত সচেতনতা—বিশেষত সেই পুলিশ সদস্যদের জন্য, যাদের কাজের সময়, স্থান বা দায়িত্ব আবহাওয়ার থেকে কোনো ছাড় পায় না |
শীতের সময় যেসব সমস্যা বেশি দেখা দেয়
সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, জয়েন্টে ব্যথা, ত্বক-চুলের শুষ্কতা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া—এসব সমস্যা শীতে খুব সাধারণ| বাইরে দীর্ঘক্ষণ ডিউটি, হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন, ঘাম হওয়ার পর ঠান্ডা হাওয়া লাগা—এসবই ঝুঁকি বাড়ায়| অ্যালার্জি প্রবণ সদস্যদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হয় |
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে যা করবেন
শীতকালে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বেশি—তাই চাই ভেতর থেকে সুরক্ষা| দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী থাকলে কাজের চাপ, ডিউটির পরিবর্তন ও পরিবেশগত পরিবর্তনেও অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে|
- শীতকালীন শাকসবজি ও ফল বেশি খান—ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, গাজর, মটরশুঁটি, পেয়ারা, কমলা, শালগম ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রচুর থাকে, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়|
- কুসুম গরম পানি পান—শীতে ঠান্ডা পানি অনেকের গলা খারাপ করে; কুসুম গরম পানি শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখে| চাইলে অল্প পরিমাণ মধু মেশানো যেতে পারে|
- ভেষজ উপাদান পরিমিত গ্রহণ—তুলসী, আদা, কালোজিরা, মধু, দারুচিনি ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক| ডিউটি থেকে ফিরে গরম পানিতে আদা-তুলসী-কালোজিরা মিশ্রণ অনেকেই উপকারী মনে করেন|
- ঘুম ও বিশ্রামকে গুরুত্ব দিন—রাতের ডিউটি বা টানা দায়িত্বের পর শরীর বিশ্রাম না পেলে রোগ সহজেই ধরতে পারে|
ত্বক ও চুলের যত্ন – প্রাকৃতিকভাবেই সমাধান
শীত এলেই ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ| কেমিক্যাল-সমৃদ্ধ প্রসাধনী দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে| বরং—
- নারিকেল বা অলিভ অয়েল মৃদু মালিশে ত্বক ও মাথার ত্বক আদ্র থাকে|
- শেভিংয়ের পর অ্যালোভেরা বা সরিষার তেল ব্যবহার করলে ত্বক কম শুষ্ক হয়|
- মধু + চিনি অল্প গরম পানিতে মিশিয়ে স্ক্রাব করলে মৃত কোষ দূর হয়|
- গরম পানিতে অতিরিক্ত গোসল না করা—এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়|
হাত-পা গরম রাখতে করণীয়
হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হওয়া মূলত রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার লক্ষণ| ডিউটির সময় এটি অস্বস্তিকর এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়|
- হাতের গ্লাভস ও পায়ের মোজা পরা—বিশেষ করে রাতের ডিউটিতে|
- হালকা গরম সরিষার তেল মালিশ—রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে|
- দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ডিউটি হলে মাঝে মাঝে হাঁটা-নড়াচড়া করা|
- অ্যানিমিয়া থাকলে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা|
শীতের সময় দায়িত্ব যেমন কমে না, রোগের ঝুঁকিও তেমন কম নয়| তাই যথাযথ পদক্ষেপ হবে—ডিউটি, শরীর এবং বিশ্রামকে সমান গুরুত্ব দেওয়া| সামান্য সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্নই একজন পুলিশ সদস্যকে সারা মৌসুম সুস্থ, কর্মক্ষম এবং দায়িত্বে নির্ভরযোগ্য রাখতে পারে|
