হোমলাইফস্টাইলপুলিশ সদস্যদের মানসিক কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা

পুলিশ সদস্যদের মানসিক কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা

ডা. মো. বাহার হোসেন 
,

দীর্ঘ প্রায় দশ ঘণ্টার বিরতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ডিউটি শেষে একজন পুলিশ সদস্য বাড়িতে ফেরেন। দরজা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই ডিউটির পোশাক খুলে রাখলেও দিনের অভিজ্ঞতা যেন তাঁর ভেতরেই থেকে যায়। টেবিলে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে থাকলেও তিনি সেখানে পুরোপুরি উপস্থিত নন। স্ত্রীর প্রশ্নের জবাব আসে সংক্ষেপে, কখনো রূঢ় স্বরে। সন্তানের কৌতূহলী গল্প বা দিনের আনন্দও তাঁর মনোযোগ টানে না। স্ত্রী বুঝতে পারেন, এর ভেতরে রয়েছে চাপ ও অবসাদের ভার। সন্তান বুঝতে পারে না, কেন বাবা আজ আগের মতো হাসছেন না। অথচ কেউই ঠিক করে বলতে পারেন না, এই নীরব দূরত্বের নাম কী কিংবা কোথায় এর সমাধান খুঁজতে হবে। এই না-বলা চাপ ধীরে ধীরে পরিবারের সম্পর্কের ভেতরেও এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে। পুলিশিং পেশার বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সার্বক্ষণিক উচ্চঝুঁকি ও চাপপূর্ণ কর্মপরিবেশ। দায়িত্ব পালনের সময় একজন পুলিশ সদস্যকে নিয়মিতভাবে সহিংস অপরাধ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু, পারিবারিক বিপর্যয়, সামাজিক অস্থিরতা এবং অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘদিন এই চাপকে পেশার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার ফলে এক ধরনের অদৃশ্য সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব কর্মস্থল ছাড়িয়ে পরিবারেও পৌঁছে যায়। যখন একজন সদস্য দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব পালনের পর পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যেও থাকেন, তখন তাঁর পক্ষে পেশাগত দায়িত্বে সম্পূর্ণ মনোযোগ, সংযম ও স্থিরতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ, বলপ্রয়োগের মাত্রা এবং জনগণের আস্থার ওপর। এই কারণেই আধুনিক পুলিশিং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্নটিকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে কোনো আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে পেশাদার, মানবিক ও কার্যকর থাকা সম্ভব নয়।

গবেষণা ও পরিসংখ্যান

আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো পুলিশ সদস্যদের মানসিক ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, আইন প্রয়োগকারী পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস, ডিপ্রেশন ও উদ্বেগজনিত সমস্যা সাধারণ মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় ১৫–৩০ শতাংশ পুলিশ সদস্য কর্মজীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে পিটিএসডি বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের উপসর্গে ভোগেন, যা মনোযোগ, স্মৃতি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে দুর্বল করে। এই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত এমন নয়, বরং বাংলাদেশের বাস্তবতাতেও এর স্পষ্ট প্রমাণ আছে। ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগ ও ২৭টি জেলার ৪১৩ জন পুলিশ সদস্যের ওপর মুরশেদ ও প্রমুখ (২০২৬) পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ডিপ্রেশন, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিদ্যমান। সেখানে ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে ২৯.৬ শতাংশ, উদ্বেগে ৪৮.৭ শতাংশ এবং স্ট্রেসে ১৮.৪ শতাংশ সদস্য গুরুতর থেকে অত্যন্ত গুরুতর উপসর্গে ভুগছিলেন। গবেষণাটি আরও দেখায়, যারা নিজ ইচ্ছার বাইরে পুলিশে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এসব সমস্যার মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষণার ফলাফল থেকে অন্তত এতটুকু বলা যায় যে, পুলিশ সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীতে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব সংস্থায় নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং এবং ট্রমা-পরবর্তী মনোসামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগ তুলনামূলকভাবে কম, কর্মীদের বার্নআউট ও অনুপস্থিতির হার হ্রাস পেয়েছে এবং পেশাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থিতিশীলতা ও মান উন্নত হয়েছে। এসব প্রমাণ স্পষ্ট করে যে, মানসিক কাউন্সেলিং কেবল সংকটের পর প্রতিক্রিয়া নয়; এটি আগাম প্রতিরোধ ও পেশাগত মানোন্নয়নেরও একটি কার্যকর উপায়।

মানসিক কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব

দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত কাউন্সেলিং জমে থাকা মানসিক চাপ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে হঠাৎ রাগ, অস্থিরতা বা অপ্রত্যাশিত আচরণের ঝুঁকি কমে।

সংকট পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তের মান উন্নয়ন: মানসিকভাবে স্থিতিশীল পুলিশ সদস্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যা ত্রুটিপূর্ণ গ্রেফতার বা অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের ঝুঁকি কমায়। 

নেশা ও মাদক থেকে দূরে রাখা: মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক সহায়তার মাধ্যমে হতাশা ও উৎকণ্ঠা লাঘব হয়, যা নেশা বা মাদকাসক্তির ঝুঁকিকে কমিয়ে দেয় । 

অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ হ্রাস: কাউন্সেলিং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়ায়। ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগের আগে বিকল্প ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া বেছে নেওয়া সহজ হয়।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের সঙ্গে আচরণে ভারসাম্য: মানসিক সুস্থতা পুলিশ সদস্যকে পক্ষপাতহীন ও সংবেদনশীল আচরণে সহায়তা করে, যা অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

বার্নআউট ও কর্মক্ষমতা হ্রাস প্রতিরোধ: প্রাথমিক পর্যায়েই মানসিক ক্লান্তি শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি অবসাদ, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং পেশাগত উদাসীনতা কমে ।

পেশাগত ভুল ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঝুঁকি হ্রাস: মানসিক স্থিতিশীলতা মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। ফলে রিপোর্টিং, তদন্ত ও ফিল্ড অপারেশনে ভুলের হার কমে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ: সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে সামনে আসছে। এর পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক চাপ, পারিবারিক জটিলতা, মানসিক অবসাদসহ নানা কারণ থাকতে পারে। নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই আত্মহত্যার ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব, যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দলগত কাজ ও অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক উন্নয়ন: কাউন্সেলিং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ায়, সহকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কমাতে সহায়তা করে এবং ইউনিটভিত্তিক সমন্বয় শক্তিশালী হয় ।

প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ও জনবিশ্বাস জোরদার: মানসিকভাবে সুস্থ পুলিশ বাহিনী আচরণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাউন্সেলিং

বিশ্বব্যাপী মানসিক রোগ বা মানসিক অবসাদের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই একটি ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। অনেক সমাজেই এটি এখনো আলোচনার বা স্বাভাবিক চর্চার বিষয় হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও কর্মজীবীদের মানসিক চাপ বা অবসাদকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক অবসাদে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেও কাউন্সেলিং বা মানসিক পরামর্শকের সাহায্য নেওয়ার বিষয়টিকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করেন না। তবে এই অবসাদ বা চাপের প্রভাব ঠিকই একজন ব্যক্তির পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবনে পড়ে।

বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত সদস্যদের মধ্যে যারা এমন সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মানসিক কাউন্সেলিং বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে কাউন্সেলিং গ্রহণে তাঁদের উৎসাহী করে তুলতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন প্রশাসন থেকে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিচে এসব উদ্যোগের একটি সামগ্রিক রূপরেখা দেওয়া হলো।

প্রথমত, পুলিশ সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে অন্তত মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন করা প্রয়োজন। এর উদ্দেশ্য হবে ধীরে ধীরে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা যে, মানসিক অবসাদ বা সংকটে পড়লেও সাহায্য চাওয়া যাবে না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, কারণ অল্প কয়েক দিনে কারও মনে বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা ধারণা বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, মানসিক অবসাদ বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার সময় পুলিশ সদস্যরা যেন সহজেই সাহায্য চাইতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রেঞ্জভিত্তিক কাউন্সেলর বা প্রশিক্ষিত মানসিক পরামর্শকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি কল সার্ভিস বা হেল্পলাইনের মতো ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে, যাতে যেকোনো সময় পুলিশ সদস্যরা নির্ভয়ে সহায়তা নিতে পারেন। সার্ভিস বা হেল্পলাইনের মতো ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে, যাতে যেকোনো সময় পুলিশ সদস্যরা নির্ভয়ে সহায়তা নিতে পারেন। 

প্যাট্রোল বাডি হলো ডিউটির সময় একজন পুলিশ সদস্যের পাশে থাকা তাঁর সবচেয়ে কাছের সহকর্মী। যেন বন্ধুর মতো, যে একসঙ্গে কাজ করে, খেয়াল রাখে, আর প্রয়োজন হলে কথা বলে মন হালকা করতে সাহায্য করে। একজন একা না থেকে দুজন মিলে দায়িত্ব পালন করাই হলো প্যাট্রোল বাডির ধারণা।

তৃতীয়ত, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে “প্যাট্রোল বাডি” বা “সহকর্মী” ধারণার সঙ্গে কার্যকরভাবে পরিচিত করাতে হবে। এতে একজন পুলিশ সদস্য ডিউটির সময় নিজের মানসিক চাপ বা অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য অন্তত একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী পাশে পাবেন।

চতুর্থত, উচ্চপর্যায়ের স্বীকৃতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা যখন প্রকাশ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কথা বলেন এবং পরামর্শ বা সাহায্য নেওয়াকে উৎসাহিত করেন, তখন তাঁর অধস্তন সদস্যদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে যায়। এতে তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে আগ্রহী হন।

পঞ্চমত, মানসিক সহায়তাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার পেশাগত সংস্কৃতি পরিত্যাগ করতে হবে। অনেক পুলিশ সদস্যই কাউন্সেলিং বা মানসিক সহায়তা নেওয়াকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন, কারণ দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীর ভেতরে নীরবে সহ্য করার সংস্কৃতিকে পেশাগত সক্ষমতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেকের মধ্যেই এই আশঙ্কা কাজ করে যে, এ ধরনের সহায়তা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে পদোন্নতি বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনি বৈষম্যের শিকার হতে পারেন। এই ভয় দূর না হলে কাউন্সেলিং ব্যবস্থার প্রতি প্রকৃত আস্থা তৈরি হবে না। তাই নেতৃত্বের ইতিবাচক উদাহরণের পাশাপাশি গোপনীয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার বাস্তব নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি, যাতে পুলিশ সদস্যরা মানসিক সহায়তাকে দুর্বলতা নয়, বরং দায়িত্বশীল পেশাগত আচরণের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।

পুলিশ সদস্য বা সাধারণ মানুষের যেকোনো মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশে কিছু নির্ভরযোগ্য সংস্থা রয়েছে, যারা এ ধরনের সহায়তা প্রদান করে। কান পেতে রই তেমনই একটি উদ্যোগ। তাদের হেল্পলাইন প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা অবসাদে যে কেউ নিচের নম্বরে কল করে সহায়তা নিতে পারেন।
০৯৬১২-১১৯৯১১

সবশেষে, পরিবারকেও সচেতনতার পরিধির মধ্যে আনতে হবে। পুলিশ সদস্যের মানসিক চাপ অনেক সময় পরিবারের সদস্যরাই প্রথম লক্ষ্য করেন। সীমিত পরিসরে হলেও পরিবারকেন্দ্রিক সচেতনতা কার্যক্রম বা তথ্যভিত্তিক গাইডলাইন থাকলে পরিবারও বুঝতে পারে, কখন সহানুভূতি প্রয়োজন এবং কখন পেশাদার সহায়তার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। পুলিশ সদস্যদের মানসিক কাউন্সেলিং আধুনিক, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য পুলিশিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টির গুরুত্ব আরও গভীর। একটি কার্যকর কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে তা শুধু পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুস্থতাই নিশ্চিত করবে না; বরং সামগ্রিকভাবে বাহিনীর কর্মদক্ষতা বাড়াবে এবং সেই সঙ্গে পেশাদারত্ব, মানবিকতা এবং আইন প্রয়োগ ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থাকেও দীর্ঘমেয়াদে দৃঢ় করবে।

লেখক:
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল, ঢাকা

সর্বাধিক পঠিত

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ