হোমবাহিনীর কথামহাসড়কের নিরাপত্তায়: বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ

মহাসড়কের নিরাপত্তায়: বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ

৫ জুন ২০২৬, গোপালগঞ্জের রাগদী ব্রিজ এলাকায় রাতের মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি বিআরটিসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজে ধাক্কা লাগে; এরপর পেছন থেকে আরেকটি বাস এসে সেটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। রাতের অন্ধকার, ভাঙা যানবাহন আর আতঙ্কিত মানুষের চিৎকারের ভেতর দ্রুত এগিয়ে আসে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা। আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এমন অসংখ্য ঘটনায় মহাসড়কে বিপদগ্রস্ত মানুষের আস্থার নাম হাইওয়ে পুলিশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতার মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে সড়কপথকে কেন্দ্র করে।  দেশের যোগাযোগব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো মহাসড়ক নেটওয়ার্ক, যা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এই মহাসড়কগুলোই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প ও মানুষের দৈনন্দিন চলাচলকে সচল রাখছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং পণ্য পরিবহনের প্রায় ৬৩ শতাংশ সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জীবনযাত্রা কোনো না কোনোভাবে এই মহাসড়কব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এই গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গে সড়কে আছে অগণিত দুর্ঘটনার নির্মম বাস্তবতা। গতি, অব্যবস্থা ও দায়িত্বহীনতার সমন্বয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০,০০০ গাড়িতে ১২৫টি দুর্ঘটনা ঘটে, যা নরওয়ে বা সুইডেনের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি। এই মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাবও গভীর। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত আঘাত ও প্রাণহানির কারণে প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড। এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় একটি অর্থবছরে প্রাপ্ত মোট বৈদেশিক সহায়তার সমান, যা জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি নীতিগত চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে। এত মানুষের জীবনের আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হয়ে থাকা এই বিস্তীর্ণ মহাসড়ককে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখা, এই প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের ধারণা।

প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ও আইনি কাঠামো

স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা মূলত জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০০০-এর পর যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, দূরপাল্লার যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও সড়ক দুর্ঘটনা-অপরাধের বিস্তার মহাসড়ক নিরাপত্তাকে সংকটময় পর্যায়ে নিয়ে যায়। সীমিত জনবল ও সম্পদের কারণে সাধারণ থানার পুলিশ দীর্ঘ মহাসড়কজুড়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছিল; দূরপাল্লার বাসে ডাকাতি, ছিনতাই, যাত্রী হয়রানির চিত্র বারবার জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করছিল। তখন নীতিনির্ধারক মহলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় একে কেন্দ্র করে নিবেদিত একটি বিশেষ বাহিনী গঠন জরুরি। এই বাস্তবতার আলোকে ২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ। শুরুতে মাত্র ৫৫৭ জন সদস্য থাকলেও পরে সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার ও সদর দপ্তর ধীরে ধীরে এ ইউনিটে বিনিয়োগ বাড়াতে থাকে। ২০০৯ সালে প্রণীত “হাইওয়ে পুলিশ বিধিমালা” বাহিনীটিকে পূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো দেয়, যার মাধ্যমে ইউনিটের কর্মপরিধি, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো সুস্পষ্ট হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত বিকাশ লাভ করে। ২০১০-এর পর ইউনিটটি চারটি অঞ্চল (রিজিয়ন), নয়টি জোন, ৩৬টি থানা, ৩৭টি ফাঁড়ি ও ৯টি ক্যাম্পে সম্প্রসারিত হয় এবং রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এর প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন জনবল কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ২,৮৬১ জনে পৌঁছায় এবং বর্তমানে তিন হাজারের ঘরে। এখন পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক ৩,৯৯০ কিলোমিটার ও আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪,৮৯৮ কিলোমিটারসহ মোট প্রায় ৮,৮৮৮ কিলোমিটার মহাসড়কের একটি বড় অংশ হাইওয়ে পুলিশের আওতায় এসেছে, যদিও বর্তমানে কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে চালু রয়েছে মোট নেটওয়ার্কের প্রায় ৩৩.৬৬ শতাংশ এলাকায়। হাইওয়ে পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিশেষ ইউনিট হিসেবে ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন, দণ্ডবিধি (পেনাল কোড, ১৮৬০) এবং ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে পরিচালিত হয়। তাদের প্রধান দায়িত্ব জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা ও সড়ক অপরাধ দমন। গতিসীমা ভঙ্গ, ওভারটেকিং বিধি লঙ্ঘন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চালনা, নিষিদ্ধ যান প্রবেশ, চালকের কাগজপত্র যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশ সরাসরি মামলা ও প্রসিকিউশন করার ক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি চুরি-ডাকাতি, যাত্রী হয়রানি, গাড়ি ছিনতাই, পরিবহন ডাকাতি ও মাদক পাচারের মতো মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এখতিয়ারে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মামলা সার্জেন্টরা ঘটনাস্থলে রুজু করতে পারলেও তদন্তের ক্ষমতা এখনো তাঁদের হাতে নেই; তদন্তভার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশই নেয়। বহু কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকের মতে, মহাসড়কের দুর্ঘটনা তদন্তের কাজে হাইওয়ে পুলিশের বিশেষজ্ঞতা বেশি কার্যকর হতে পারে। তাই দুর্ঘটনা মামলা তদন্তের ক্ষমতা হাইওয়ে পুলিশের হাতে হস্তান্তরের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে; সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সড়ক বিচারব্যবস্থা আরও দ্রুত ও ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনসেবায় হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা ও সাফল্য

সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা রক্ষা ও জনসেবা প্রদানে হাইওয়ে পুলিশ প্রতিনিয়ত বহুমুখী কাজ করে চলেছে। দিনের ২৪ ঘণ্টাই এই বাহিনীর টহল দলগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও হাইওয়েগুলোতে টহল দিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হাইওয়ে পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে নিকটস্থ হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা তড়িৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন, আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পৌঁছানো ও যানবাহন অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মহাসড়কে কোথাও গাড়ি বিকল হলে হাইওয়ে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে ক্রেন/রিকভারির মাধ্যমে গাড়ি সরিয়ে ফেলে, যাতে দীর্ঘ যানজট না সৃষ্টি হয়।

হাইওয়ে পুলিশ টোল ফ্রি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঙ্গে সমন্বিত এবং মহাসড়ক ব্যবহারকারী যেকোনো বিপদে এই নম্বরে ফোন করে দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন। তাছাড়া সম্প্রতি তারা নিজস্ব ‘Hello HP’ অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে যাত্রী ও চালকেরা যেকোনো অভিযোগ জানাতে বা সহায়তা পেতে মোবাইলে সহজেই নিকটবর্তী হাইওয়ে টহল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। হটলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে সংকেত পেলে নিকটস্থ টহল দল ঘটনাস্থলে ১৫ মিনিটের মধ্যে সাড়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এছাড়াও সেখানে গুগল ম্যাপের লাইভ ট্রাফিক আপডেট, মহাসড়কের চলমান অবস্থা, যানজট, সড়ক বন্ধ বা বিকল্প রুটের তথ্য রিয়েল টাইমে পাওয়া যায়। একই প্ল্যাটফর্মে ই-প্রসিকিউশন, অপরাধ পরিসংখ্যান, বিভিন্ন হাইওয়ে থানা ও কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর, নিকটস্থ হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগও উন্মুক্ত রয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা দ্রুত সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। করতে পারেন। বিশেষ করে ঈদসহ বড় উৎসবের সময় লাখো মানুষের মহাসড়কযাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ২০২৫ সালের ঈদযাত্রায় ৩৪০টি বিশেষ টহল টিম সারা দেশের প্রায় ৩,৯০০ কিলোমিটার মহাসড়কে সক্রিয় ছিল যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে। এ সময় মহাসড়কে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়, ডাকাতি বা হয়রানি রোধে তারা যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে এবং যাত্রীদের সম্পদ বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের জনসেবায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন নিঃসন্দেহে তাদের ট্রাভেলারস ম্যাপ ও ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা। হাইওয়ে পুলিশের ওয়েবসাইটে থাকা এই ইন্টারঅ্যাকটিভ ম্যাপের মাধ্যমে যেকোনো ভ্রমণকারী মহাসড়কসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরেই জানতে পারেন। হাইওয়ে থানার লোকেশন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ফিলিং স্টেশন, হাসপাতাল, ওয়ার্কশপ, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কের মোড়সহ প্রয়োজনীয় সব দিকনির্দেশনা এতে পাওয়া যায়। ম্যাপটি গুগল ম্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় ব্যবহারকারী সহজেই তার বর্তমান অবস্থান থেকে নিকটস্থ সেবাপয়েন্টের দূরত্ব কত, কোন রুট দ্রুততম এবং জরুরি মুহূর্তে কোথায় পৌঁছালে সহায়তা পাওয়া যাবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দীর্ঘ ভ্রমণে নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও বাস্তবধর্মী নেভিগেশন নিশ্চিত করাই এই সেবার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি যাত্রীসাধারণের সুবিধার্থে হাইওয়ে পুলিশ চালু করেছে ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েবসাইট।

হাইওয়ে পুলিশের জনসেবামূলক দায়িত্ব শুধু তাৎক্ষণিক উদ্ধার, টহল বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে একটি বিস্তৃত জরিপে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে থাকা ৫৪টি কারণ চিহ্নিত করে হাইওয়ে পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। যেখানে সড়কের অবস্থা, যানবাহনের মান, চালকের আচরণ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতাও খোলাখুলিভাবে উপস্থাপন করা হয়। সমস্যার তালিকার পাশাপাশি সম্ভাব্য করণীয় ও করণীয় বাস্তবায়নের অগ্রাধিকারও সেই প্রতিবেদনে নির্ধারিত ছিল। হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল ও দৃশ্যমান উপস্থিতি মহাসড়কে অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। মহাসড়কে পুরোপুরি শৃঙ্খলা নিয়ে আসতে ও জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণে হয়তো আরও অনেক কিছু করার বাকি, তবে ইতোমধ্যে এই বিশেষ ইউনিটটি অনেকাংশেই নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।

চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা তাদের কার্যকারিতা সীমিত করে দিচ্ছে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:

অপর্যাপ্ত জনবল: জনবল সংকট হাইওয়ে পুলিশের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। দেশের প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার সড়ক নেটওয়ার্ক (জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ) হাইওয়ে পুলিশের আওতায় থাকলেও সেখানে বর্তমানে মোট পুলিশ সদস্য রয়েছেন মাত্র প্রায় ৩ হাজার জন। নিরাপদ মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য আদর্শভাবে ১০ হাজার জনবলের প্রয়োজন, কিন্তু বাস্তবে এক-তৃতীয়াংশ লোকবল দিয়েই পুরো দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে একজন সদস্যকে ২৪ ঘণ্টায় খুব কম বিশ্রাম নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা তাদের কর্মক্ষমতা ও মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে। অধিকাংশ হাইওয়ে থানায় জনবল অপ্রতুল হওয়ায় একজন অফিসারকে একই সঙ্গে প্রসিকিউশন, টহল ও প্রশাসনিক কাজ বহন করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের বর্তমান প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন যে, আইন অনুযায়ী দেশের সব মহাসড়কই হাইওয়ে পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। এলাকা এবং জনবল, যানবাহন ও ইউনিট বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে অবশিষ্ট মহাসড়কসমূহও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

যানবাহন ও সরঞ্জাম সংকট: জনবলের মতোই যানবাহন ও সরঞ্জাম সংকটও প্রকট সমস্যা। হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব হাইস্পিড টহলগাড়ির অভাব রয়েছে; অনেক ক্ষেত্রে রিকুইজিশনকৃত পুরনো পিকআপ বা বেবি ট্যাক্সি দিয়ে তাদের টহল দিতে হয়। অপরদিকে চোরাচালানকারী বা অপরাধীদের গাড়িগুলো আধুনিক ও দ্রুতগতির হওয়ায় তুলনামূলক ধীর ও জরাজীর্ণ পুলিশ গাড়ি নিয়ে তাড়া করা কষ্টসাধ্য হয়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু হাইওয়ে ফাঁড়িতে মাত্র ১-২টি যান আছে, সেগুলোর অবস্থাও বেহাল; তবু সেই স্বল্প সংখ্যক গাড়ির বেশিরভাগই ভিআইপি প্রটোকলে ব্যবহৃত হয়ে যায়, টহলের জন্য খুব সামান্য অবশিষ্ট থাকে। রেকার (টো-ট্রাক) ও অ্যাম্বুলেন্সেরও ঘাটতি রয়েছে; ফলে মহাসড়কে বিকল হওয়া গাড়ি সরাতে অনেক সময় লেগে যায়, দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয়।

ভৌত অবকাঠামো ও কার্যালয় সংকট: হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব সদর দপ্তর বা পর্যাপ্ত থানা ভবন বহু জেলায় নেই। বর্তমান সদর দপ্তরটি রাজধানীতে একটি ভাড়া করা ভবনে চলছে এবং ২২টি জেলায় এখনো হাইওয়ে পুলিশের কোনো স্থায়ী থানা/ফাঁড়ি স্থাপন করা যায়নি। ফলে ওই জেলাগুলোর মহাসড়ক তদারকিতে প্রয়োজনের সময় আশপাশের ইউনিট থেকে ফোর্স পাঠাতে হয়, যা তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটাতে পারে। গ্রামীণ কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার দীর্ঘ মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত হাইওয়ে ক্যাম্প না থাকায় নির্জন স্থানে অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে রাতে লোকাল বাসে ডাকাতি বা যৌন অপরাধ ঘটলেও আশপাশে সাহায্যের লোক না থাকায় তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় ভুক্তভোগীরা পুলিশেও খবর দিতে পারেন না।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ঘাটতি: হাইওয়ে পুলিশের অনেক সদস্যই মূলত নিয়মিত পুলিশ বাহিনী থেকে আসা, যাদের বিশেষায়িত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনা উদ্ধার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছিল না। বর্তমানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও সংখ্যা বিচারে সবাইকে আপডেটেড প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, দুর্ঘটনা তদন্তের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, উচ্চগতির যান থামানোর কৌশল, এসব বিষয়ে আরও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

আইনগত সীমাবদ্ধতা: হাইওয়ে পুলিশের আইনগত ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। যেমন পূর্বে আলোচনা হয়েছে, দুর্ঘটনা মামলা তদন্তের এখতিয়ার না থাকায় অনেক সময় মূল রহস্য উদঘাটনের আগেই স্থানীয় থানার তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হয়ে যান বা মামলা ঝুলে থাকে। আবার মহাসড়কের অপরাধ দমনে জেলার পুলিশের ওপর নির্ভর করতে হয় অনেক এলাকায়, ফলে পৃথক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়েও অসুবিধা দেখা দিতে পারে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে মামলা করা ও জরিমানা আরোপের ক্ষমতা থাকলেও পরবর্তীতে সেসব অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নজরদারির সুযোগ হাইওয়ে পুলিশের থাকে না। এতে কিছু অপরাধী তদবির বা নামমাত্র শাস্তি খেটে আবার সড়কে নামে।

জনআস্থা, সততা ও জবাবদিহির চ্যালেঞ্জ

হাইওয়ে পুলিশের মিশন ও ভিশন অনুযায়ী কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে হলে নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি জনগণ এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আস্থা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে বিগত সময়ের বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক ও মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের একাংশের মধ্যে হাইওয়ে পুলিশ সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, কখনো কখনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই যানবাহন থামানো হয়, হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয় এবং অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর।

এসব অভিযোগ হাইওয়ে পুলিশের জনবান্ধব ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সদস্যদের সততা ও পেশাদারত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ অভিযোগগুলোকে পুরো বাহিনীর সামগ্রিক আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে হাইওয়ে পুলিশকে সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণমুখী ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে প্রতিটি অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেবামুখী আচরণের চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের মধ্যকার নেতিবাচক ধারণা আরও গভীর হতে পারে এবং জনগণের কাছে হাইওয়ে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা ও সহযোগিতা দুটিই কমে যেতে পারে। কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আস্থার ঘাটতি তৈরি হলে সেই সংস্থার যৌক্তিক ও আইনসংগত পদক্ষেপও অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটি তাৎক্ষণিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগে থেকে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পেয়ে পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে। এর একটি উদাহরণ দেখা যায় ২০২৬ সালের ৯ জুন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন চালক ও দুর্বৃত্ত সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালায়। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তবে ঘটনাটি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেয় যে, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা ও কার্যকর যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে আইন প্রয়োগের একটি ন্যায়সঙ্গত ঘটনাও সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ

হাইওয়ে পুলিশ নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরও কার্যকর হতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

আধুনিকায়নের পথে হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের দৃষ্টিভঙ্গি

হাইওয়ে পুলিশ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ ও তাদের কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং হাইওয়ে পুলিশ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ডিটেকটিভের সঙ্গে একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। তাঁর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাহিনীটির কাজের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে এসব সীমাবদ্ধতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে গৃহীত ও পরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনায় প্রথমেই গুরুত্ব পেয়েছে হাইওয়ে পুলিশের প্রতি জনগণ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আস্থা পুনর্গঠন। এ লক্ষ্যে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা, অভিযোগ ও ভুল-বোঝাবুঝিগুলো চিহ্নিত করে সেসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক, মালিক ও মহাসড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যকার একটি পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রধান চারটি এজেন্ডার কথাও উল্লেখ করেন। এগুলো হলো: মহাসড়কের যানজট নিরসন, ডাকাতি বন্ধ, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া মহাসড়কে যানবাহন থামানো ও অপ্রয়োজনীয় চেকপোস্ট পরিচালনা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে অকারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি এবং যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের হয়রানির সুযোগ কমবে।

মহাসড়কে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ সমিতির অনুমোদিত অর্থও মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে সংগ্রহ করা যাবে না। এ ধরনের অর্থ শুধু নির্ধারিত টার্মিনালে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হবে, যাতে মহাসড়কে অর্থ লেনদেনের কারণে যানবাহন থামানো, যানজট সৃষ্টি কিংবা যাত্রী হয়রানির সুযোগ না থাকে। এরপরও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক রদবদল, সদস্যদের মধ্যে সেবামুখী মানসিকতা গড়ে তোলা এবং কেপিআই বা কর্মদক্ষতা সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ মূল্যায়নে শুধু মামলা বা প্রসিকিউশনের সংখ্যা নয়, বরং দ্রুত সাড়া প্রদান, অভিযোগ নিষ্পত্তি, জনসন্তুষ্টি, পেশাগত আচরণ এবং যানজট ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সেবার সামগ্রিক মান বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পেশাদারত্ব, সততা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রশাসনিক সংস্কার এবং অংশীজনদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ প্রধান। মহাসড়কের বিভিন্ন অনিয়ম, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কটির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালু হয়েছে। এ ছাড়া জাইকার সহযোগিতায় ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মহাসড়কে ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এসব ক্যামেরার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার পাশাপাশি ডাকাতি, দুর্ঘটনা এবং অপরাধের পর পালিয়ে যাওয়া যানবাহন চিহ্নিত করাও সহজ হবে। যানজট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, যানজট সৃষ্টি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ক্যামেরা, ট্রাফিক তথ্য ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো স্থানে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করলে দ্রুত টহল দল পাঠানো গেলে যানজট বড় আকার ধারণ করার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি টার্মিনালকে পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল টার্মিনালে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস, রুট পারমিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিজিটালভাবে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি চালকের দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ ও মৌলিক শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে। পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য টার্মিনালেও একই ব্যবস্থা চালু করার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়াও প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণের আওতায় বাস ও ট্রাক মালিকদের জিপিএসভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় যুক্ত করতেও উৎসাহিত করা হবে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট তথ্য হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে বিনিময় করা হলে কোনো যানবাহন নির্ধারিত পথ থেকে সরে যাচ্ছে কি না, অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় কোথাও অবস্থান করছে কি না কিংবা সন্দেহজনক গতিবিধি প্রদর্শন করছে কি না, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে দুর্ঘটনা, ডাকাতি বা যানবাহন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।

মাঠপর্যায়ে যাত্রী, চালক ও পরিবহনশ্রমিকদের কাছে হাইওয়ে পুলিশের সেবা সহজলভ্য করতে আগে চালু হওয়া ‘Hello HP’ অ্যাপকে আরও কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগের কথাও জানান হাইওয়ে পুলিশ প্রধান। তবে এর আগে যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে অ্যাপটি যাত্রী, চালক ও পরিবহনশ্রমিকদের বাস্তব প্রয়োজন কতটা পূরণ করছে, কোথায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ‘Hello HP’-এর সঙ্গে ট্রাভেলার্স ম্যাপের সমন্বয় বাড়িয়ে নতুনভাবে প্রচারণা চালানো হবে, যাতে যাত্রীরা জরুরি সহায়তা, নিকটবর্তী পুলিশ ইউনিট, হাসপাতাল, ওয়ার্কশপ, বিশ্রামস্থল এবং বিকল্প পথের তথ্য সহজেই জানতে পারেন। যেসব যাত্রী, চালক বা পরিবহনশ্রমিক স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তাঁদের কথা মাথায় রেখে ইমারজেন্সি কললাইন চালুর পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।

এসব সমস্যা সমাধানে হাইওয়ে পুলিশের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত, প্রশিক্ষণ ও সহায়ক ইউনিটগুলোকে একই স্থানে সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী সদর দপ্তর ক্যাম্পাস প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ের টহল, উদ্ধার এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বাড়াতে আরও প্রায় ১৬০টি যানবাহনের প্রয়োজন চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংগ্রহের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারী যানবাহন সরানোর জন্য হাইওয়ে পুলিশের হেভি রেকারের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে দুর্ঘটনাকবলিত বা বিকল বাস-ট্রাক দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব না হলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে অঞ্চলভিত্তিক পর্যাপ্ত রেকার ও উদ্ধার সরঞ্জাম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

তবে মহাসড়কের সব সমস্যা শুধু পুলিশি পদক্ষেপে সমাধান সম্ভব নয়। হাইওয়ে পুলিশ প্রধান তাঁর বক্তব্যে কিছু দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত করেন। সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বাজার, অনিয়ন্ত্রিত ফিলিং স্টেশন, থ্রি-হুইলারের চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিং, আন্তঃসংযোগ এবং ফিডার রোড দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ওভারপাস, আন্ডারপাস, সার্ভিস লেন ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে ট্রাক টার্মিনাল ও চারটি ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল ও নিরাপদ বিশ্রামস্থল না থাকায় অনেক চালক মহাসড়কের পাশে যানবাহন থামিয়ে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হন। এতে দুর্ঘটনা, যানজট ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে ট্রমা সেন্টারের অভাবে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চারটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের মতে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, সদস্যদের আচরণ, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, টহল পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে স্থায়ী সদর দপ্তর, পর্যাপ্ত জনবল ও যানবাহন, ট্রমা সেন্টার, ট্রাক টার্মিনাল, ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মতো উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট

সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট গ্রহণ করেছে। ২০২২ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যানবাহন দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা। প্রকল্পটি ‘সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে সড়ক নিরাপত্তাকে কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব হিসেবে না দেখে সমন্বিত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ চালক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ পুলিশ ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুর্ঘটনাপরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করছে। ফলে অবকাঠামো, চালকের আচরণ, পুলিশি নজরদারি এবং চিকিৎসাসেবাকে একই নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেল ও নজরদারি সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার মহাসড়কে উন্নত পুলিশি টহল ও নজরদারি ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এন-৪ ও এন-৬ মহাসড়কে নিরাপদ করিডোর গড়ে তুলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ৩০ শতাংশ কমানো এবং ২১৭ কিলোমিটার সড়কে প্রকৌশলগত নিরাপত্তা উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ, টোল-ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সসেবা চালু এবং জরুরি ঘটনায় সাড়া দেওয়ার সময় ৩০ মিনিট থেকে ২০ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬০ হাজার বাণিজ্যিক চালককে প্রশিক্ষণ, ২০টি পুলিশ স্টেশনে ডিজিটাল দুর্ঘটনা তথ্যব্যবস্থা চালু, নারী-পুরুষভিত্তিক পৃথক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এসব কার্যক্রমের বড় অংশই প্রস্তুতি ও ক্রয়পর্যায়ে ছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন থানা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনবল ও যানবাহন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাহিনীর জনবল প্রায় তিন হাজার থেকে ধাপে ধাপে ছয় হাজারে উন্নীত করা এবং প্রত্যেক থানায় ন্যূনতম চারটি প্যাট্রোল যান সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। এজন্য নতুন গাড়ি ও মোটরসাইকেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা-উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা, অ্যালকোহল শনাক্তকরণ, মাদক পরীক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের প্রতি ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর একটি করে প্যাট্রোলিং সাব-স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো যায়।

বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান এজেন্ডাগুলো হলো:মহাসড়কের যানজট নিরসন, ডাকাতি বন্ধ, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদান।
ফারুক আহমেদ
অ্যাডিশনাল আইজিপি, হাইওয়ে পুলিশ

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি
হাইওয়ে পুলিশের আধুনিকায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে প্রযুক্তির ব্যবহারে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় স্মার্ট সিসিটিভি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। এর আওতায় ১১৪টি ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহজনক যানবাহন শনাক্ত, অতিরিক্ত গতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ির নম্বর চিহ্নিত করা যাবে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি বিশেষ ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সরাসরি মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। উদ্যোগটি সফল হলে দেশের অন্যান্য ব্যস্ত মহাসড়কও পর্যায়ক্রমে একই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের স্পিডগান, আরএফআইডি রিডার, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ডিজিটাল পিওএস মেশিন এবং দুর্ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আকাশপথে মহাসড়ক পর্যবেক্ষণের জন্য নিজস্ব ড্রোন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগব্যবস্থা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন সড়ক ও মহাসড়কের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই মহাসড়কের নিরাপত্তা মানেই মানুষের জীবন, কাজ ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। এই উপলব্ধি সামনে রেখে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনা ও সড়কের বিশৃঙ্খলা কমাতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি জীবন মূল্যবান এবং প্রতিটি যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ, এই বিশ্বাস নিয়ে তারা এগিয়ে চলছে একটি সুশৃঙ্খল, সুরক্ষিত ও জনবান্ধব মহাসড়ক ব্যবস্থার দিকে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ