সময়টা ছিল ১৮ জানুয়ারি ২০২৬। সাভার সদর থানা পুলিশ অফিসে অন্যদিনের মতো সেদিনও ছিল ব্যস্ততাপূর্ণ একটি সকাল। হঠাৎ খবর এল, সাভারের একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া গেছে দুটি লাশ। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, লাশ দুটিকে বীভৎসভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যাতে করে সব ধরনের আলামতও মুছে যায়।
এ নিয়ে গত সাত মাসে একই স্থান থেকে উদ্ধার হয় মোট পাঁচটি লাশ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে। সবার মাঝেই একধরনের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা ভর করে। এদিকে থানা পুলিশ রীতিমতো পর্যুদস্ত। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপও বাড়তে থাকে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের সরেজমিন পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ থানার সবাইকেই আরও ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।
যাই হোক, পুলিশ এবার আটঘাট বেঁধেই নামে। আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। শুরু হয় সেগুলোর বিশ্লেষণ। কে এসে লাশগুলো ওই স্থানে রেখে যায়, তা বের করার জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানের ভিডিও রেকর্ড বারবার দেখতে থাকে। চিহ্নিত করা হয় অনেক সন্দেহভাজনকে। এরই সূত্র ধরে হঠাৎ একটি বিষয় জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার মনে সন্দেহের জন্ম দেয়।
সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তাদের চলাচল অনুসরণ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ দেখতে পায়, একজন ভবঘুরে একটি লাশ বহন করে কমিউনিটি সেন্টারের নিচতলা থেকে দোতলায় নিয়ে যাচ্ছে। ভবঘুরে সেই ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, সাভারের সেই কমিউনিটি সেন্টারে পাওয়া সবগুলো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে বেরিয়ে আসে, এর আগেও তার নামে তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে। সাভারের এই ঘটনায় সাড়া পড়ে পুরো দেশে; মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার আশপাশে থাকা ভবঘুরে ধরনের মানুষকে দেখলেই সন্দেহের দানা বেঁধে ওঠে। ধীরে ধীরে আরও বেশি আলোচনায় আসতে থাকে একটি শব্দ-সিরিয়াল কিলার। এই জনৈক ভবঘুরে একজন সিরিয়াল কিলার। প্রশ্ন জাগে, আচ্ছা, যখন তারা একের পর এক মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে অবলীলায় হত্যা করে, তখন এই সিরিয়াল কিলারদের মনস্তত্ত্বে আসলে কী চলে? কোন পারিপার্শ্বিকতা তাদের এই মানুষরূপী পশুতে রূপান্তর করে?
সিরিয়াল কিলিং বা ধারাবাহিক খুন শব্দজোড়া বিখ্যাত হয় বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের মাধ্যমে। ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই শতাংশই কোনো না কোনো সিরিয়াল কিলারের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। আর তখন থেকেই বিশ্ব পরিচিত হয় এই ধারণাটির সঙ্গে।
তবে শুধু এই শব্দের ব্যবহার সত্তরের দশকে শুরু হয় বলে যে এর আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি, তা কিন্তু নয়। সর্বপ্রাচীন সিরিয়াল কিলিং বা ধারাবাহিক খুনের লিপিবদ্ধ প্রমাণ পাওয়া যায় রুথ কারাস ও ক্যাথরিন পিয়ারপোঁর বই সেক্সুয়ালিটি ইন মেডিভাল ইউরোপ-এ, যেখানে ডেম এলিস কিটলারকে একজন সিরিয়াল কিলার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, সিরিয়াল কিলিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো গিলেস দে রেইস, একজন ফরাসি যোদ্ধা, যার বিরুদ্ধে ডজনখানেক শিশুকে, মতান্তরে একশতের ওপরে, হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনা থেকে আমরা ধারাবাহিক খুনের মূল উপাদানগুলোও খুঁজে পাই।
ধারাবাহিক খুনিদের মনোজগৎ
ধারাবাহিক খুনিদের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ধরনের অপরাধ সাধারণত তাৎক্ষণিক লাভ, রাগ বা সুযোগের ফল নয়; বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা মানসিক বিকৃতি, বিকৃত কল্পনা, নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা এবং আচরণগত অভ্যাসের সমন্বিত প্রকাশ। সাধারণত মানুষ ধারণা করে যে প্রায় সব সিরিয়াল কিলারই শৈশবে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার এবং সেখান থেকেই তারা খুনি হয়ে ওঠে। গবেষণা এই ধারণাকে আংশিকভাবে সমর্থন করলেও একে একমাত্র সত্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
রেসলার, বার্জেস, ডগলাস ও ড্যাপুও-এর গবেষণা অনুযায়ী, অনেক ধারাবাহিক খুনির শৈশবে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের ইতিহাস পাওয়া যায়, যা সহিংসতার সঙ্গে একধরনের পরিচিতি বা স্বাভাবিকতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
শুধু একের পর এক মানুষকে হত্যাকারীকেই অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় ধারাবাহিক খুনি বলা হয় না; বরং সেটি হয়ে যায় একাধিক হত্যার ঘটনা। কিন্তু এ ধরনের একাধিক হত্যার ঘটনাকে আমরা তখনই ধারাবাহিক খুন বলতে পারি, যখন দুই বা ততোধিক খুন ঘটবে এবং নিচের বিষয়গুলো সেখানে উপস্থিত থাকবে:
-
একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর খুনগুলো ঘটবে;
-
প্রতিটি ঘটনার মাঝে সময়ের বিরতি থাকবে, যাকে কুলিং-অফ পিরিয়ড বলা হয়;
-
কেবল আর্থিক, রাজনৈতিক বা তাৎক্ষণিক লাভের জন্য হবে না; বরং প্রতিটি হত্যার পেছনে মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক তাড়না থাকবে;
-
ভিকটিম বা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকবে।
অ্যাবি মারোনো, সাশা রেইড, এনযো ইয়াকসিচ ও ডেভিড কিটলির ধারাবাহিক খুনিদের ব্যবহার বিশ্লেষণ সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার ব্যথা বা ভয়-উদ্দীপক ঘটনার মুখোমুখি হলে ব্যক্তির ভেতরে যন্ত্রণার প্রতি সহনশীলতা বাড়ে এবং অন্যকে আঘাত করার মানসিক বাধা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলস্বরূপ, অপরকে আঘাত করার পর ব্যক্তির যে স্বাভাবিক সহানুভূতিমূলক প্রতিক্রিয়া একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশিত, তা ধারাবাহিক খুনিদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়; অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই অনুপস্থিত থাকে।
তবে এখানে মনে রাখা জরুরি, শৈশবের নির্যাতন কখনোই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারাবাহিক খুনিতে পরিণত করে না। কারণ, অধিকাংশ নির্যাতিত মানুষ কখনোই সহিংস অপরাধে জড়ায় না।
কে. এ. ডজ, জি. এস. পেটিট, জে. ই. বেটস ও ই. ভালেন্তে দেখিয়েছেন, শৈশবের নির্যাতন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা ও পরিস্থিতি ব্যাখ্যার ধারায় বিকৃতি তৈরি করতে পারে। এতে করে অন্যের স্বাভাবিক আচরণও তাদের কাছে শত্রুতার ইঙ্গিত বলে মনে হয়। আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়াকেও তারা সহজেই গ্রহণযোগ্য মনে করে এবং সহিংসতাকে যুক্তিসঙ্গত বলে বিবেচনা করতে শুরু করে।
এই ধরনের বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি যদি স্থায়ী রূপ নেয়, তাহলে খুনির কাছে ভিকটিম ধীরে ধীরে একজন মানুষ হিসেবে বিবেচিত না হয়ে একটি “বস্তু” বা “টার্গেট” হিসেবে প্রতীয়মান হতে শুরু করে।
যৌন উদ্দেশ্যে সংঘটিত ধারাবাহিক হত্যার ক্ষেত্রে শৈশবের নির্যাতনের প্রভাব কিছু ক্ষেত্রে বেশি স্পষ্ট হয়ে দেখা দিতে পারে। ২০০৫ সালে গবেষক হেথার মিচেল ও মাইকেল জি. অ্যামোডটের এক গবেষণায় দেখা যায়, যৌন উদ্দেশ্যে সংঘটিত সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে শৈশবের বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ন্ত্রিত নমুনা বা কন্ট্রোল গ্রুপের তুলনায় বেশি। তবে এখানেও সরল ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। সব ধারাবাহিক খুনের পেছনে যৌন তাড়না থাকে না; অনেক সময় এর কেন্দ্রে থাকে ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ আর আধিপত্যের মানসিকতা।
ভিকটিম নির্বাচনও তাই নিছক দৈবচয়নের বিষয় নয়। বরং অপরাধী এমন মানুষকেই বেছে নিতে পারে, যাকে তার কাছে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে হয়।
আবার গণমাধ্যমে যে ধারণা প্রচলিত-প্রোফাইলিং যেন সব বলে দিতে পারে এবং সব সিরিয়াল কিলারই সাইকোপ্যাথ-বাস্তব গবেষণা সেই সরল ছবিকে সমর্থন করে না। প্রোফাইলিং তদন্তে সহায়ক হলেও তার সীমা আছে। আর সব ধারাবাহিক হত্যাকারীকেও একই মানসিক ছকে ফেলা যায় না।
বাংলাদেশে ধারাবাহিক খুনের ধরন
বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলিংয়ের ধারণা খুব নতুন নয়। এখানে রসু খাঁ থেকে শুরু করে সবুজ শেখসহ বহু আলোচিত সিরিয়াল কিলার ছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলারদের অধিকাংশই পুরুষ। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, যৌন নির্যাতন এবং তারপর হত্যার মতো ঘটনা বাংলাদেশে খুব সচরাচর ঘটে থাকে। এই বাস্তবতা ধারাবাহিক খুনের সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক মানসিক কাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত করে।
তবে সিরিয়াল কিলিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাটার্ন হলো ভিকটিম বা ভুক্তভোগী নির্ধারণের ধরন। আগের অংশে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও গবেষণালব্ধ প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে, বাংলাদেশের ধারাবাহিক খুনিদের টার্গেট নির্বাচনে তার প্রায় সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক খুনের ভিকটিম হয়ে থাকে সমাজের প্রান্তিক স্তরের মানুষজন। ভাসমান নারী, যৌনকর্মী, গৃহকর্মী, মানসিক প্রতিবন্ধী নারী, পথশিশু কিংবা একাকী বসবাসকারী দরিদ্র নারী ও শিশুদের মধ্যেই ভিকটিম নির্বাচনের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণত সামাজিকভাবে কম দৃশ্যমান। এ ছাড়া তাদের আইনগত সুরক্ষা তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং নিখোঁজ বা হত্যার মতো ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে নজরের বাইরে থাকার ঝুঁকি বেশি থাকে।
ফলে ধারাবাহিক খুনিদের দৃষ্টিতে তারা হয়ে ওঠে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য টার্গেট, যা সিরিয়াল কিলারদের ভিকটিম নির্বাচনের প্রায় সব শর্ত পূরণ করে।
ভিকটিমদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনেও একটি স্পষ্ট কাঠামোগত ব্যাখ্যা রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক নানা বিশ্লেষণে দেখা যায়, যৌন তাড়না, ক্ষমতা প্রদর্শন, নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যের অনুভূতি ধারাবাহিক খুনের ক্ষেত্রে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। আর এই ধরনের আধিপত্যমূলক আচরণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের দিকেই বেশি পরিচালিত হয়। নারীদের শারীরিক দুর্বলতা নয়, বরং সামাজিক অবস্থান, নির্ভরশীলতা এবং প্রতিবাদ করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই তাদের তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে ফেলে। এই কারণে বাংলাদেশের অনেক ধারাবাহিক খুনের ঘটনায় দেখা যায়, ভিকটিম নির্বাচন এলোমেলোভাবে না হয়ে পরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে হয়।
এতে বোঝা যায়, ধারাবাহিক খুন কেবল ব্যক্তিগত বিকৃতি নয়; বরং সমাজের ভেতরে থাকা ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, প্রান্তিকতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা একটি অপরাধ-প্রবণ আচরণগত চক্র।
কোনো একজন পৈশাচিক খুনির অস্তিত্বের কারণে ধারাবাহিক খুন আমাদের বেশি ভীত করে মূলত এর ভেতরে থাকা অজানা প্যাটার্নের জন্য। সাধারণ অপরাধে মানুষ কারণ, উদ্দেশ্য বা পরিস্থিতির একটি ব্যাখ্যা খুঁজতে চায়; কিন্তু ধারাবাহিক খুন বা সিরিয়াল কিলিংয়ের ক্ষেত্রে মানুষের সেই ব্যাখ্যাগুলো সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।
কখন খুন হবে, কোথায় হবে, বা কে হবে পরের ভিকটিম-এই অনিশ্চয়তাই জনমনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করে। এই ভয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে সীমাবদ্ধ না থেকে ধীরে ধীরে পুরো সমাজকে গ্রাস করে, যেখানে প্রত্যেকে নিজেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ভাবতে শুরু করে।
ঠিক এই কারণেই ধারাবাহিক খুন সাধারণ অপরাধের তুলনায় বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং সমাজের ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করে সমাজের ভেতরে।
লেখক
এডিশনাল পুলিশ সুপার
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স

