খুন, ধর্মীয় ভিন্নমত ও রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সাম্প্রতিককালে যুক্ত হয়েছে আরেকটি অপরাধ। বিভিন্ন দেশে এখন ড্রাগস বা মাদকদ্রব্য, যেমন হেরোইন, কোকেন প্রভৃতি চোরাচালান ও কেনাবেচার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।২০২৫ সালে এই দেশগুলো ছিল-আফগানিস্তান, নর্থ কোরিয়া, সিরিয়া, ব্রুনেই, চায়না, কিউবা, ইজিপ্ট, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, কুয়েত, লাওস, ওমান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সোমালিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইউএই (ইউনাইটেড আরব এমিরেটস), আমেরিকা, ইয়েমেন, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ।
এ ছাড়া আরও কিছু কারণে বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। যেমন-পরকীয়া ও সমকামিতা (সৌদি আরব ও ইরান), জাদুবিদ্যা (সৌদি আরব), আর্থিক দুর্নীতি (চায়না), ধর্ষণ (সৌদি আরব), দেশদ্রোহিতা, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নকরণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ (ইরান, গাম্বিয়া, কুয়েত, লেবানন, নর্থ কোরিয়া, প্যালেস্টাইনি অথরিটি ও সোমালিয়া)।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধী
১৮ অনূর্ধ্ব বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সাম্প্রতিককালে খুব কমে গেছে। ১৯৯০-এর পর নয়টি দেশে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই নয়টি দেশ হলো-চায়না, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান, আমেরিকা, ইয়েমেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, কিছু দেশে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর সেটি কার্যকর করা হয় তাদের বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করার পর।
চায়নায় ১৮ অনূর্ধ্বদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন না থাকলেও কিছু অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ১৬ অনূর্ধ্ব অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করে। এর মানে দাঁড়ায়, ১৭, ১৮ এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। ২০০২ সালে আমেরিকা আরেকটি রায়ে বলে, যেসব অপরাধীর মস্তিষ্ক বিকৃতি (ইনটেলেকচুয়াল ডিসঅ্যাবিলিটি) ঘটেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।
২০০৫ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান এবং ইয়েমেনে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অধিকাংশ ছিল ইরানি। শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক সমঝোতা (জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ) অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এই সমঝোতায় শুধু আমেরিকা ও সোমালিয়া বাদে সব দেশ সই করেছে।
জাপানের আইনে ২০ অনূর্ধ্বকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক গণ্য করা হলেও জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ১৮ অনূর্ধ্বকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। উপরোক্ত জাতিসংঘ সমঝোতায় ইরান সই করলেও সবচেয়ে বেশি অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড তারা কার্যকর করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২-তে ইরানের পার্লামেন্ট এ সম্পর্কে তাদের বিতর্কিত আইনের পরিবর্তন করে। স্থির হয়, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিচার হবে নতুন একটি ভিন্ন আইনে, যেখানে বলা হয়েছে
নয়-ঊর্ধ্ব মেয়ে এবং ১৫-ঊর্ধ্ব ছেলে (চান্দ্র মাস অনুযায়ী) তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশ্বজুড়ে যেসব অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, এর দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ইরানে। ধারণা করা হয়, ২০১২ সালের শেষে প্রায় ১৪০ অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি ইরানের কনডেমড সেলে ছিল। মাহমুদ আসগারি, আয়াজ মারহোনি ও মাকওয়ান মলুদজাদেহ-এই তিন অপ্রাপ্ত বয়স্কের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
২০১৩ সালে একই ধরনের বিশ্ব সমালোচনার মুখে পড়েছিল সৌদি আরব, যখন সেখানে রিজানা নাফিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। শ্রীলংকার কিশোরী রিজানা নাফিক গৃহপরিচারিকার কাজ পেয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তিনি যখন অপরাধ করেছিলেন, ধারণা করা হয় তখন তার বয়স ছিল সতেরো।
সোমালিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন বা সংক্ষেপে আইসিইউ-এর রায়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অক্টোবর ২০০৮-এ আয়শা ইব্রাহিম ধুন্ডলো নামে এক মেয়েকে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে নিয়ে গিয়ে তাকে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। এরপর পাথর ছুড়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেখানে ১,০০০-এর বেশি দর্শক ছিল।
সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আইসিইউ নিয়ন্ত্রিত কিসমায়ো শহরে একটি শরিয়াহ আদালতে আয়শা পরকীয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছিল। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র জানায়, মৃত্যুর আগে আয়শা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কাঁদছিল এবং তাকে পোতার জন্য যে গর্ত খোড়া হয়েছিল, সেখানে সে নামতে চায়নি। সে বারবার প্রাণভিক্ষা করছিল। পরে অ্যামনেস্টি জানতে পারে, আয়শার বয়স ছিল মাত্র ১৩। আল-শাবাব নামে একটি গেরিলা দল তাকে ধরার পর তিন ব্যক্তি তাকে গণধর্ষণ করেছিল। তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য কারসাজি করে আয়শাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিভিন্ন পন্থা
ইংরেজিতে মৃত্যুদণ্ডকে বলা হয় ডেথ পেনালটি অথবা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট। কোনো বিশেষ অপরাধ সংঘটনের দায়ে কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্র যখন মৃত্যুদণ্ড দেয়, তখন তার আইনি ঘোষণা বা জুডিশিয়াল ডিক্রিকে বলা হয় ডেথ সেনটেন্স। এই আইনি রায় বা ঘোষণা যখন কার্যকর করা হয়, তখন তাকে বলা হয় এক্সিকিউশন। যেসব অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে, তাদের বলা হয় ক্যাপিটাল ক্রাইম অথবা ক্যাপিটাল অফেন্স।
ক্যাপিটাল শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ক্যাপিটালিস থেকে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘মাথা-সংক্রান্ত’, অর্থাৎ মাথা কেটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে। তবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন যুগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বিভিন্নভাবে। এখন যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো—
শিরশ্ছেদ (সৌদি আরব, কাতার)
ইলেকট্রিক চেয়ার (আমেরিকার আলাবামা, টেনেসি, ভার্জিনিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা ও কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে)
গ্যাস চেম্বার (আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, মিসৌরি ও এরিজোনা অঙ্গরাজ্যে)
ফাঁসি (আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ইরান, ইরাক, জাপান, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যালেস্টাইনি অথরিটি, লেবানন, ইয়েমেন, ইজিপ্ট, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, সিরিয়া, জিম্বাবুয়ে, সাউথ কোরিয়া, মালাওয়ি, লাইবেরিয়া, শাদ এবং আমেরিকার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে)
মরণ ইনজেকশন (গুয়াতেমালা, থাইল্যান্ড, চায়না, ভিয়েতনাম এবং আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে)
গুলি করে হত্যা (চায়না, ভিয়েতনাম, বেলারুস, লেবানন, কিউবা, গ্রেনাডা, নর্থ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইয়েমেন এবং আমেরিকার ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে)
পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক
বিংশ শতাব্দীতে মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে ক্রমেই বিভিন্ন দেশে জোরালো যুক্তিতর্ক উঠতে থাকে। বিশেষত মৃত্যুদণ্ড বিলোপের জন্য বিভিন্ন দেশে প্রভাবশালী কিছু সংগঠন গড়ে ওঠে। যেমন-ব্রিটেনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং আমেরিকায় আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, যাদের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করা।
কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেও মতামত আসতে থাকে। বিশেষত আমেরিকায় মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে সাধারণ যুক্তি দেওয়া হয়—এর ফলে অপরাধের সংখ্যা কমে যায়। এটি পুলিশ ও সরকারি উকিলের সহায়ক হয়। যেমন মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে অপরাধী তার অপরাধ স্বীকার করে বিনিময়ে জীবন রক্ষার চুক্তি করতে পারে। দণ্ডিত অপরাধী আর কোনো দিনই সেই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে না-সেটা মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করে। শিশুহত্যা,ধারাবাহিক খুন এবং নির্যাতনমূলক হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই হচ্ছে ন্যায় শাস্তি।
মৃত্যুদণ্ড-বিরোধীদের যুক্তি
এসব যুক্তির বিপরীতে আছে-হত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সবাই যে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড চায়, সেটা নয়। যেমন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীকে সোনিয়া গান্ধী ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ও বিত্তশালীরা বিভিন্নভাবে মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যায়; কিন্তু সংখ্যালঘিষ্ঠ ও গরিবরা মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়।
মৃত্যুদণ্ড সহিংসতার কালচারকে উৎসাহিত করে, ফলে দেশে সহিংসতা বেড়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। ২০০২ সালে এ ধরনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এনজিও, ট্রেড ইউনিয়ন, লোকাল কাউন্সিল, বার অ্যাসোসিয়েশনসহ সবাই মিলে ওয়ার্ল্ড কোয়ালিশন এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনালটি বা মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী বিশ্ব জোট গঠন করেছে।
প্রতিশোধপরায়ণতার প্রকাশ হয় মৃত্যুদণ্ডে
মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে দুই জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তাদের একজন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের সাবেক আর্চবিশপ এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডেসমন্ড টুটু।
১৩ নভেম্বর ২০০৭-এ লন্ডনের দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লেখেন—
“বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে অধিকাংশ দেশই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে এসে বিশ্বের উন্নত সমাজে প্রশ্ন উঠেছে-বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিজের দেশের নাগরিককে মেরে ফেলায় আদৌ কোনো লাভ হয় কি না? আমি আনন্দিত, পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মৃত্যুদণ্ড উঠে যাচ্ছে। ক্ষমার মধ্যেই প্রোথিত রয়েছে খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাস। তাই একজন খ্রিস্টান হিসেবে আমার কাছে মৃত্যুদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।”
আইনত অথবা কার্যত এখন ১৩০টি দেশ মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে। ১৯৯০-এর পর থেকে কোনো ধরনের অপরাধেই মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে না ৫০টি দেশ। তবে এখানে বলা উচিত, কিছু দেশ যেমন আমেরিকা, চায়না ও সিঙ্গাপুর এখনো মৃত্যুদণ্ড বজায় রেখেছে।
নৈতিক প্রশ্ন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
যারা মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে, তারা প্রায়ই একটি প্রশ্ন করেন-যদি আপনার সন্তান খুন হতো, তাহলে আপনি কী করতেন?
এটি একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন। যিনি খুন হয়েছেন, তার প্রিয়জনদের মধ্যে প্রচণ্ড রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছাটিও বোধগম্য। কিন্তু যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়-যে ব্যক্তিটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে, সে যদি আপনার সন্তান হয়, তাহলে আপনি কী করবেন? কেউই তো তার সন্তানকে বড় করে খুনি হওয়ার জন্য নয়। এরপরও অনেক পিতা-মাতাকে জানতে হয়, তাদের সন্তান একজন খুনি-এবং সেই কষ্ট তাদের সহ্য করতে হয়।
১৯৮৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কনডেমড সেলে বন্দিদের পিতা-মাতারা দেশের রাষ্ট্রপতিকে লিখেছিলেন—মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পিতা-মাতারা দোজখের আগুনে পুড়তে থাকেন, যখন তারা দেখেন তাদের সন্তান মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই যন্ত্রণার কোনো বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়; এই ব্যথা কারো পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব নয়।
এসব সন্তানকে হত্যা করা আমাদের অনুচিত। কারণ এই হত্যা তাদের পিতা-মাতাকে ভয়ংকর যন্ত্রণায় ফেলে দেয়। প্রতিহিংসা, ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণতার ফলে এই বিশ্বে আমাদেরই অনেক ভাইবোনের দেহ রক্তরঞ্জিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড এই ক্রিয়ারই একটি অংশ।
মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দাবি করা হয়, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এটি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এটি প্রতিশোধপরায়ণতাকে উৎসাহিত করে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সরকার-অনুমোদিত সহিংসতা বিলোপ করতেই হবে।
মৃত্যুদণ্ড বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ করার সময় এখন এসেছে। প্রতিটি বছর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধকরণের পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হচ্ছে। যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, সেখানে মানুষ ও সমাজ আরও নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডের ফলে কোনো দেশেই অপরাধের সংখ্যা অথবা রাজনৈতিক সহিংসতা কমে যাচ্ছে-এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
বিভিন্ন দেশে আনুপাতিকভাবে বেশি গরিব বা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেশের জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। অবধারিতভাবে কিছু নির্দোষ মানুষকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, এবং একবার এই দণ্ড কার্যকর হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা যায় না। ফলে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
(দি গার্ডিয়ান, ১৩.১১.২০০৭)
জাতিসংঘের উদ্যোগ
২০০৭ সালের জাতিসংঘের ৬২তম সাধারণ অধিবেশনে মৃত্যুদণ্ড বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধকরণের একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। ১৫ নভেম্বর ২০০৭-এ মানবাধিকার বিষয়ক তৃতীয় কমিটিতে এই প্রস্তাবের পক্ষে ৯৯ এবং বিপক্ষে ৫২টি ভোট পড়ে। ৩৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
এরপর ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭-এ প্রস্তাবটি সাধারণ অধিবেশনে ভোটের জন্য উপস্থাপন করা হয়। ২০ নভেম্বর ২০০৮-এ আবার জাতিসংঘে আরেকটি প্রস্তাব পেশ করা হয়, যেখানে সব মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশের আহ্বান জানানো হয়। এই প্রস্তাবের পক্ষে ১০৫টি ভোট, বিপক্ষে ৪৮টি ভোট পড়ে এবং ৩১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে কয়েকটি দেশ যেসব সংশোধনী প্রস্তাব আনে, সেগুলো বিপুল ভোটে পরাজিত হয়।
ইউরোপে নিষিদ্ধ
কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং কাউন্সিল অব ইউরোপ তাদের সদস্য হওয়ার জন্য মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করাকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
করেছে। এখন ইউরোপে ও রাশিয়ায়, কাজাখস্তান ও বেলারুসেই শুধু মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, যদিও রাশিয়া এবং কাজাখস্তানে (সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে) মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হয় না। রাশিয়ায় ১৯৯৬ সালের পর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। অর্থাৎ ইউরোপে শুধু বেলারুসেই এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যত চালু রয়েছে।
তুরস্ক যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে আগ্রহী ছিল, তখন তারাও মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দিকে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যায়। মে ২০০৪-এ তুরস্ক তার সংবিধান সংশোধন করে সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করে দেয়।
আফ্রিকার সাব-সাহারান দেশগুলো মৃত্যুদণ্ড বিলোপের দিকে এগিয়ে গেছে। ২০০৯ সালে বুরুন্ডি, ২০১০ সালে গ্যাবন এবং ২০১২ সালে বেনিন মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। নতুন রাষ্ট্র সাউথ সুদানও তাই করেছে। কিন্তু নর্থ সুদান বলেছে, তাদের সংবিধান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড বলবৎ থাকবে।
এই দেশে ১৫ মে ২০১৪-তে মিরিয়াম ইয়াহিয়া ইব্রাহিমকে ধর্মীয় ভিন্নমত পোষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড এবং একজন খ্রিস্টানকে বিয়ে করার জন্য ১০০টি বেত্রাঘাতের আদেশ দেওয়া হয়। মিরিয়াম তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সুদানের আইন অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাকে সন্তান প্রসব করতে হবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুই বছর তাকে লালন-পালন করতে হবে, এরপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিশ্বজুড়ে এর প্রতিবাদ চলছে।
পিতা-মাতার পরোক্ষ হন্তারককে ক্ষমা
আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর উপরোক্ত নিবন্ধের মূল বক্তব্য হলো-মৃত্যুদণ্ড এক ধরনের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং রাষ্ট্রের উচিত নয় বিচার বিভাগের মাধ্যমে ব্যক্তিকে হত্যা করা। বস্তুত, আমি নিজেও যখন মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেছি বা লিখেছি, তখন সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি-আপনার সন্তানকে যদি কেউ হত্যা করত, তাহলে আপনি কী করতেন?এই প্রশ্নের উত্তর আমি এভাবে দিই-আমার পিতা-মাতার পরোক্ষ হন্তারককে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার ফলে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং আমাকে সুদীর্ঘ সময়ের জন্য নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল।১৯৮৭ সালে আমার শোকার্ত পিতা সাইদুর রহমান অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে শেষ দেখার সুযোগ আমাকে দিয়েছিলেন জেনারেল এরশাদ। কিন্তু আমি লন্ডন থেকে এলেও পিতার অন্তিম সময়ে তাকে সেবা করার সুযোগ খুব কমই পেয়েছিলাম।তার মৃত্যুর পর আমি দেশে আমার বৃদ্ধা মা রওশন আরা রহমানের পাশে থাকতে চাইলেও তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল লতিফ আমাকে তার অফিসে ডেকে জানান, ওপরের নির্দেশে অবিলম্বে আমাকে লন্ডনে ফিরে যেতে হবে। আমি বাধ্য হয়ে ফিরে যাই। কিছুদিন পর লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়। তার অন্তিম সময়ে আমি তার কোনো সেবাই করতে পারিনি।আমার পিতামাতার মৃত্যুকে অকালমৃত্যু বলা যাবে না, কিন্তু তাদের মৃত্যু যে অসময়ে হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই বলা যায়। আমি কাছে থাকলে হয়তো তারা আরও বাঁচতেন-এমন ভাবনাও আমার ছিল। এজন্য আমি জেনারেল এরশাদকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করেছিলাম। তিনি ছিলেন আমার পিতা-মাতার পরোক্ষ হন্তারক। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কখনোই কোনো প্রতিহিংসামূলক লেখা বা আচরণ প্রকাশ করিনি।২০০৬ সালে যায়যায়দিন দৈনিকে রূপান্তরিত হলে একদিন এক রাজনৈতিক প্রতিবেদক আমার কাছে এসে জেনারেল এরশাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার এবং তা পত্রিকায় প্রকাশের অনুমতি চান। আমি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিই-যদি আমি সম্পাদক না হয়ে অন্য কেউ হতেন, তবে হয়তো পত্রিকার বিভিন্ন মতাবলম্বী পাঠকদের স্বার্থে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতেন।তাই আমি অনুমতি দিই সাক্ষাৎকার নিতে এবং প্রকাশ করতে। তবে তাকে বলেছিলাম, এরশাদকে একটি প্রশ্ন করতে-আমাকে নির্বাসনে পাঠানো এবং পত্রিকা নিষিদ্ধ করা ঠিক হয়েছিল কি না।এরশাদ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন এবং তা প্রকাশিত হয়। আমি যে সৌজন্যতা দেখিয়েছিলাম, এরশাদও তার পাল্টা সৌজন্য দেখিয়েছিলেন। ওই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “মি. রেহমানকে বলবেন, আই অ্যাম সরি।”আমার সেই প্রশ্ন এবং এরশাদের উত্তর তখন প্রকাশ করিনি। যারা আমার লেখালেখির সঙ্গে পরিচিত, তারা জানেন, এরশাদ শাসনামলে আমি নিগৃহীত ও নির্বাসিত হয়েছিলাম এবং আমার পত্রিকা নিষিদ্ধ হয়েছিল; তবুও তার প্রতি কোনো অসৌজন্য প্রকাশ করিনি। এরশাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর তার রাজনীতির সমালোচনা করেছি, কিন্তু প্রতিহিংসা প্রকাশ করিনি।
বাংলাদেশের নাগরিকরা কী ভাবছেন?
তাহলে বাংলাদেশের সভ্য নাগরিকরা কী ভাবছেন? দুটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে।২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে আওয়ামী সরকার পরিকল্পিত এবং আওয়ামী মিডিয়া পৃষ্ঠপোষিত শাহবাগ মঞ্চে মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে দেখা গিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশুদের মাথায় সাদা ব্যান্ডে ফাঁসির পক্ষে স্লোগান।২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটিএন নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে এই বিষয়টি উল্লেখ করে আমি টিভি উপস্থাপিকা মুন্নী সাহাকে প্রশ্ন করেছিলাম—এভাবে বাংলাদেশ থেকে যখন শিশুকালেই সুকুমারবৃত্তি হারিয়ে যাচ্ছে, তখন ভবিষ্যতে এই দেশ আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে কি?এর উত্তরে উপস্থাপিকা মুন্নী সাহা বলেছিলেন-“পাঁচ বছরের শিশু কেন? পাঁচ মাসের শিশুরও ফাঁসির দাবি জানানো উচিত!”একই সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমি প্রশ্ন করেছিলামদেশের তথাকথিত সুধী সমাজের অনেকেই তো শাহবাগে গিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। আপনার ওপর কি কোনো চাপ ছিল না? আপনি সেখানে যাননি কেন?ড. ইউনূস উত্তর দিয়েছিলেন—হ্যাঁ, চাপ ছিল। কিন্তু আমি সব মৃত্যুদণ্ডেরই বিরুদ্ধে। তাই সেখানে আমার যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তিলে তিলে মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়
আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনেক আগে, ১৯৫৬ সালে আরেক নোবেল বিজয়ী ফরাসি সাহিত্যিক অ্যালবার্ট কামু তাঁর Reflections on the Guillotine (Resistance, Rebellion and Death) বইতে লেখেন—
“একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সাধারণ একটি মৃত্যু নয়। যেমন, একটি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে (যেখানে ইহুদিদের জড়ো করে রাখা হতো এবং পালাক্রমে গ্যাস চেম্বারে পাঠিয়ে হত্যা করা হতো) কাউকে রাখা আর জেলখানায় কাউকে বন্দি রাখা তুলনীয় নয়।
কোনো খুনের সঙ্গে কোনো মৃত্যুদণ্ডকে তুলনা করা তখনই কেবল সম্ভব, যখন অপরাধী তার ভিকটিমকে আগাম জানিয়ে দেবে-কখন তার ভয়াবহ মৃত্যু ঘটবে, এবং সেই সময় থেকে ভিকটিম করুণার ওপর বেঁচে থাকবে। সাধারণত এ ধরনের ভয়ংকর মানুষ দেখা যায় না।”
অর্থাৎ অ্যালবার্ট কামু বলেন, কোনো ব্যক্তি যখন ঝোঁকের মাথায় হোক বা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হোক অন্য কোনো ব্যক্তিকে খুন করে, তখন ভিকটিম সাধারণত জানেন না যে তার মৃত্যু আসন্ন। কিন্তু রাষ্ট্র যখন কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তখন সেই ব্যক্তি (দোষী বা নির্দোষ) জানেন যে ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ে তার মৃত্যু ঘটবে। বলা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্র তিলে তিলে হত্যা করে।
এই মৃত্যুর অপেক্ষারত অবস্থা শুধু দণ্ডিত ব্যক্তিকেই অতুলনীয় যন্ত্রণায় ফেলে না, বরং তার পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও আত্মীয়স্বজন সবাই অপরিসীম মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। এ কারণেই রাষ্ট্র কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের নামে স্লো ডেথ বা তিলে তিলে হত্যাপ্রক্রিয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী আবদুল কালাম
ভারতের প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এ. পি. জে. আবদুল কালাম মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে ছিলেন। ১১ জুলাই ২০১৫-তে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মৃত্যুদণ্ড প্রতিরোধ বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় ভারতের কয়েকজন সাবেক বিচারপতি অংশ নেন।
সভায় আবদুল কালামকে মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী অবস্থানের জন্য উল্লেখ করা হয়। এই আলোচনা সভার ১৬ দিন পর, ২৭ জুলাই ২০১৫-তে এ. পি. জে. আবদুল কালাম পরলোকগমন করেন। তার মৃত্যুর পর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত লেখালেখি থেকে জানা যায়, তার জীবনে সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সম্মতি প্রদান।
লেখক
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
