বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
33.5 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধপুলিশ সপ্তাহ ২০২৬বাংলাদেশ পুলিশে অদৃশ্য কাঠামো সংকট

বাংলাদেশ পুলিশে অদৃশ্য কাঠামো সংকট

মোঃ ইমরান আহম্মেদ, পিপিএম 
,

৫ আগস্ট ২০২৪- এর পর রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি বাংলাদেশ পুলিশ নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বাহিনীর ভেতরেও একটি প্রত্যাশা ছিল-সমালোচনা, আত্মসমালোচনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি অধিক পেশাদার, অধিক নিরপেক্ষ ও অধিক জনমুখী পুলিশে রূপান্তরিত হতে পারব। কিন্তু বাস্তবতা?

একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, আমরা কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বললেও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার একটি গভীর স্তর এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। সেই স্তরটি বোঝার জন্য ‘ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ’ ধারণাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমি এই লেখায় কোনো ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করতে চাই। কারণ টেকসই পরিবর্তন চাইলে আমাদের নিজেদের কাঠামোকে নিরপেক্ষভাবে বোঝা জরুরি।

ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ: আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক জোড়াতালির বাস্তবতা

ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ ধারণাটি বুঝতে হলে এর তাত্ত্বিক উৎসে যেতে হয়। ব্রিকোলেজ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রস তার গ্রন্থ ‘দ্য স্যাভেজ মাইন্ড’ (১৯৬২)-এ। তিনি ব্রিকোলিউর বলতে এমন এক কারিগরকে বোঝান, যিনি হাতে থাকা সীমিত উপকরণ দিয়ে জোড়াতালি করে নতুন কিছু নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ফ্রান্সেস ক্লেভার (২০০২) এই ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষণে প্রয়োগ করে দেখান, প্রতিষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিক আইন বা নীতিমালার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না। বরং সামাজিক রীতি, ক্ষমতার সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক অভ্যাস ও অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে একটি কার্যকর বাস্তব কাঠামো তৈরি হয়। অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী তার লিখিত কাঠামোর পাশাপাশি অতীত চর্চা ও দৈনন্দিন ক্ষমতার বিন্যাসের ফল, এই জটিল প্রক্রিয়াই ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ।

সহজ ভাষায় বললে, ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যখন কেবল তার আনুষ্ঠানিক আইন, বিধি ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না; বরং অনানুষ্ঠানিক রীতি, সম্পর্ক, অভ্যাস, ক্ষমতার ভারসাম্য ও অতীতের চর্চার সঙ্গে সেগুলোকে মিলিয়ে এক ধরনের ‘জোড়াতালি দেওয়া’ বাস্তব কাঠামো তৈরি করে। আমাদের পুলিশ আইনে যা লেখা আছে, পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গলে যা নির্ধারিত আছে, প্রশিক্ষণে আমরা যা শিখি, বাস্তব মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ অনেক সময় ভিন্ন রূপ নেয়। সেই ভিন্ন রূপটাই ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ। এটি সবসময় খারাপ কিছু নয়; বরং অনেক সময় এই অনানুষ্ঠানিক কাঠামো আমাদের সংকটের মধ্যেও টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন এই জোড়াতালি প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ কীভাবে উন্নতি বা ক্ষতি করে?

বাংলাদেশের মতো জটিল রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতায় ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ অনেক সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। প্রথমত, সংকটময় পরিস্থিতিতে অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে এটি সহায়ক হয়। কঠোর আমলাতান্ত্রিক নিয়ম মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে; কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ত, অভিজ্ঞতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ কার্যকর হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অঘোষিত জ্ঞান, অলিখিত অনুশীলন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি নতুন কর্মকর্তাদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে, যা কেবল বিধি-বিধানের বই থেকে শেখা সম্ভব নয়।

তৃতীয়ত, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ঘনঘন নীতি পরিবর্তন, রাজনৈতিক রদবদল বা সাংগঠনিক অস্থিরতার মাঝেও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতা বাহিনীকে সচল রাখতে সহায়তা করে। অর্থাৎ, এটি অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বাস্তবমুখী কৌশল হিসেবে কাজ করে। তবে ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজের নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়।

প্রথমত, এটি সংস্কার প্রক্রিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। নতুন নীতি বা কাঠামোগত পরিবর্তন প্রণয়ন হলেও যদি পুরনো অভ্যাস, ক্ষমতার অঘোষিত নেটওয়ার্ক ও অনানুষ্ঠানিক প্রভাববলয় অটুট থাকে, তাহলে বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটে না। বরং সংস্কার কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।

দ্বিতীয়ত, দায়বদ্ধতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যখন মৌখিক নির্দেশ, অঘোষিত প্রত্যাশা বা ‘ঊর্ধ্বতন সন্তুষ্টি’ লিখিত বিধি-বিধানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তখন সিদ্ধান্তের উৎস ও দায়িত্ব নির্ধারণ অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এর ফলে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তৃতীয়ত, পেশাগত স্বাতন্ত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে। যদি আইনের শাসনের পরিবর্তে সম্পর্কভিত্তিক শাসন বা অনানুষ্ঠানিক আনুগত্য প্রাধান্য পায়, তাহলে পেশাদারিত্ব ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ব্যক্তিনির্ভর হয়ে ওঠে। ফলে ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ একদিকে বাস্তবতায় অভিযোজনের উপায় হলেও অন্যদিকে তা দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ: কিছু স্পষ্ট বাস্তবতা

বাংলাদেশ পুলিশের ভেতরে ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক বিধি ও অনানুষ্ঠানিক প্রভাব পাশাপাশি কাজ করে। প্রথমত, ক্যারিয়ার ব্যবস্থায় অনানুষ্ঠানিক প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান
পদোন্নতি ও বদলির সুস্পষ্ট কাঠামো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা অদৃশ্য সমর্থন অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ফল নির্ধারণ করেছে। এর ফলে একটি দ্বৈত কাঠামো গড়ে উঠেছে—একদিকে লিখিত নিয়ম, অন্যদিকে অঘোষিত শক্তির বলয়।

দ্বিতীয়ত, মৌখিক নির্দেশনার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনেক সময় লিখিত আদেশের চেয়ে ‘ইঙ্গিত’ বা ‘বার্তা’ বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। এতে সিদ্ধান্তের উৎস আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ না হলেও তার বাস্তব প্রভাব গভীর হয় এবং দায় নির্ধারণ জটিল হয়ে পড়ে।

তৃতীয়ত, পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও একটি অঘোষিত সূচক ব্যবস্থা কাজ করে। কাগজে-কলমে আইনানুগ তদন্ত, নিরপেক্ষতা ও জনসেবা প্রাধান্য পেলেও বাস্তবে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’, ‘ঝুঁকি কমানো’ বা ‘ঊর্ধ্বতনকে সন্তুষ্ট রাখা’ অনেক সময় অগ্রাধিকার পায়। ফলে ঘোষিত মূল্যবোধ ও কার্যকর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক সৃষ্টি হয়।

চতুর্থত, নীরবতার সংস্কৃতি ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু শক্তিশালী উপাদান। অভ্যন্তরীণ সমালোচনা, সহকর্মীর অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা বিকল্প মত প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হয়। বাহিনীর ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি থাকলেও এর ফলে জবাবদিহিতার পরিসর সংকুচিত হয় এবং সমস্যা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

পঞ্চমত, আইনের প্রয়োগে প্রভাবের পার্থক্যও এই অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর অংশ হয়ে উঠতে পারে। আইন সবার জন্য সমান-এটি পুলিশ পেশার নৈতিক ভিত্তি। কিন্তু যদি সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক সংযোগ বা প্রভাবের ভিত্তিতে আইনের প্রয়োগে তারতম্য ঘটে, তাহলে সেটি কেবল বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম থাকে না; বরং ধীরে ধীরে একটি অনানুষ্ঠানিক মানদণ্ডে পরিণত হয়।

এসব বাস্তবতা দেখায় যে, ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ কেবল অভিযোজনের কৌশল নয়। বরং তা সংগঠনের ভেতরে ক্ষমতা, সংস্কৃতি ও পেশাদারিত্বের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিবর্তন কতটা গভীরে গেছে?

৫ আগস্ট, ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক পর্যায়ে কিছু দৃশ্যমান রদবদল ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাহ্যিকভাবে সংস্কারের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে—প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যে ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, তার প্রকৃত রূপান্তর কতটা ঘটেছে? আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বদলি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বদলির নীতির মৌলিক কাঠামো কতটা স্বচ্ছ, পূর্বনির্ধারিত ও মানদণ্ডনির্ভর হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিনির্ভরতা ও অঘোষিত প্রভাবের অবসান ঘটেছে কিনা, সে প্রশ্ন এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।

একইভাবে, অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সংস্কৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। লিখিত আদেশের পাশাপাশি ‘বার্তা’ বা অঘোষিত প্রত্যাশা এখনো সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা কাঠামোতেও মৌলিক পুনর্গঠন দেখা যায়নি। ফলে দায় নির্ধারণ ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন আগের মতোই প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে পেশাগত স্বায়ত্তশাসনকে স্পষ্ট নীতিমালা ও সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়নি। ফলে কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতিনির্ভর ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। অর্থাৎ, বাহ্যিক পরিবর্তন ও সাংগঠনিক রদবদল দৃশ্যমান হলেও অভ্যন্তরীণ জোড়াতালিভিত্তিক কাঠামো, যা দীর্ঘদিনের অভ্যাস, নেটওয়ার্ক ও অনানুষ্ঠানিক প্রভাবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, মূলত অক্ষত রয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

টেকসই পরিবর্তনের জন্য কী করা প্রয়োজন?

যদি আমরা সত্যিই একটি পেশাদার, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক পুলিশ চাই, তাহলে ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজের ইতিবাচক দিক ধরে রেখে নেতিবাচক দিকগুলো রূপান্তর করতে হবে:

ক্যারিয়ার ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ:
পদোন্নতি ও বদলির মানদণ্ড স্পষ্ট, লিখিত ও প্রকাশযোগ্য হতে হবে। একটি স্বাধীন ও বহুপক্ষীয় পুলিশ কমিশন বিবেচনা করা যেতে পারে।

লিখিত আদেশের বাধ্যবাধকতা:
মৌখিক নির্দেশকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম না চালানোর নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

জবাবদিহিতা ইউনিটের শক্তিশালীকরণ:
ইন্টারনাল ওভারসাইট ব্যবস্থাকে প্রকৃত স্বাধীনতা ও রিসোর্স দিতে হবে। তদন্তে স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে।

পারফরম্যান্স সূচকের পুনর্নির্ধারণ:
গ্রেপ্তার বা ‘সংখ্যা’ নয়; বরং তদন্তের মান, নাগরিক সন্তুষ্টি, অভিযোগ নিষ্পত্তির হার—এসবকে মূল্যায়নের সূচক করতে হবে।

পেশাগত স্বাতন্ত্র্যের সুরক্ষা:
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও পেশাগত সিদ্ধান্তের সীমানা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা:
যে কর্মকর্তা নৈতিক প্রশ্ন তোলে, তাকে দুর্বল নয়, বরং পেশাগতভাবে দায়বদ্ধ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।

শেষকথা: আত্মসমালোচনা থেকেই টেকসই সংস্কার

এই লেখাটি কোনো অভিযোগপত্র নয়; এটি একটি আত্মসমালোচনামূলক প্রস্তাব। আমরা যারা বাহিনীর ভেতরে আছি, তারা জানি যে বাংলাদেশ পুলিশ অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যদি সত্যিই একটি টেকসই পরিবর্তন চাই, তাহলে কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন বা বাহ্যিক সংস্কার যথেষ্ট নয়। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক জোড়াতালির কাঠামো, অর্থাৎ ইনস্টিটিউশনাল ব্রিকোলেজ চিহ্নিত করে সেটিকে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে হবে। ৫ আগস্ট আমাদের একটি সুযোগ দিয়েছিল। সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার এখনো সম্ভব, যদি আমরা সাহস করে নিজেদের ভেতরের কাঠামোকে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করি। কারণ, শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি বাহিনীর নয়, রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির। আর সেই ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে অদৃশ্য কাঠামোর সংস্কারই হবে টেকসই পথ।

লেখক
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, খ-সার্কেল
নারায়ণগঞ্জ

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ