জমিয়ে রাখা কোনো এক স্মৃতি যেন হঠাৎ ঝলসে ওঠে মনের আয়নায়। প্রায় ছয় বছর হলো শান্তিরক্ষার মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছি, কিন্তু কঙ্গোর সেই দিনগুলো আজও জীবন্ত। সময় দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের মিশনে অংশগ্রহণও ক্রমেই কমে আসছে। হয়তো আর কোনো দিন মিশনে যাওয়া হবে না, কিন্তু জীবনের এই অনন্য অভিজ্ঞতা চিরকাল মনের গভীরে গেঁথে থাকবে।
জাতিসংঘের হয়ে কাজ করার সুবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার এক বিশাল সুযোগ হয়েছিল আমার। ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি পেয়েছিলাম তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব। আমার মিশন-যাত্রা শুরু হয়েছিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে। দিনটি ছিল ২০১৮ সালের ১৮ মে। এর আগে ১১টি কন্টিনজেন্ট মিশন সম্পন্ন করে এসেছে। আমি ছিলাম দ্বাদশ রোটেশনের ডেপুটি কমান্ডার। গভীর রাতে আমাদের চার্টার বিমান এসে পৌঁছায় কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার বিমানবন্দরে।
রাত তখন গভীর। ঘুমন্ত কিনশাসাকে এক ভৌতিক নগরী বলে মনে হচ্ছিল। রাতের আঁধার সরে যখন দিনের আলো ফুটল, তখন মনে হলো, ‘এ আমি কোথায় এলাম! এই অচেনা দেশে কীভাবে কাটাব একটি বছর?’ এখানকার মানুষগুলোকে খুব দুঃখী মনে হয়েছিল। তবে বছর শেষে আমি আমার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছিলাম। কঙ্গো অসম্ভব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা একটি দেশ। যেন আয়তনে বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণ বড় আরেক বাংলাদেশ! এই দেশটিতে আনন্দ আর বেদনার এক মিশ্র অভিজ্ঞতায় কেটেছিল আমার একটি বছর। একদিকে যেমন কঙ্গোর নয়নাভিরাম প্রকৃতি আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তেমনি মিশনের শেষ দিকে এসে এক গভীর কষ্ট পেয়েছিলাম। বাংলাদেশ পুলিশের দ্বিতীয় নারী অতিরিক্ত আইজিপি রওশন আরা বেগম পিপিএম, এনডিসি কিনশাসাতে এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পুরো কন্টিনজেন্ট শোকস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে পলকম, অর্থাৎ পুলিশ কমিশনারসহ জাতিসংঘের সকল সহকর্মীর কাছ থেকে আমরা শতভাগ সহযোগিতা ও সহমর্মিতা পেয়েছিলাম।
বিদেশিদের কাছ থেকে পেয়েছি অনেক সম্মান, অনেক ভালোবাসা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করতে গিয়ে একটি বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝেছিলাম-ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও আন্তরিক বন্ধুত্ব স্থাপনের পথে এগুলো কোনো বাধাই নয়। কিনশাসা থেকে মাত্র ত্রিশ মিনিটের পথ পেরোলেই শুরু হতো সবুজ পাহাড়ের সারি। পাহাড়ের চূড়ায় তাকালে মনে হতো, মেঘ আর রোদ যেন লুকোচুরি খেলছে। আর পাহাড়ের পাদদেশে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে সুবিশাল কঙ্গো নদী। মাঝে মাঝে নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখতাম। সে কী এক অসহ্য সুন্দর দৃশ্য! প্রথম দিকে মনে হতো, কঙ্গো নদী ছাড়া এই শহরে মূল্যবান আর কিছু নেই। প্রায়ই শহর থেকে অনেক দূরে চলে যেতাম। একবার দেখা পেলাম এক কালো নদীর, যার তলদেশে কয়লা থাকার কারণে নদীর পানি কালো দেখায়। সেখানকার স্থানীয়রা সেই ঠান্ডা, টলটলে পানিতে গোসল করছে। কত স্মৃতি, কত আনন্দ! এক বছরের স্মৃতি লিখে শেষ করা যাবে না। আজ শুধু লিখব ইউএন পিসকিপারস ডে বা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস নিয়ে।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতে বাংলাদেশ পুলিশের নারী কন্টিনজেন্ট অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের প্যাট্রোল ডিউটি ছাড়াও পুলিশ কমিশনারের অফিসে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন। আমাদের রোটেশন কিনশাসায় পৌঁছানোর কিছুদিন পরই ছিল ‘ইউএন পিসকিপারস ডে’। বেশ জমকালোভাবেই এখানে এই দিবসটি পালিত হয়।
‘ইউএন পিসকিপারস ডে’ ঘনিয়ে আসছিল। সেই উপলক্ষে আমাদের কমান্ডার স্যার কঙ্গোর আরেকটি প্রদেশ বুনিয়াতে চলে গেলেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ আর্মির অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, যেখানে বাংলাদেশের
‘ইউএন পিসকিপারস ডে’ কী?
প্রতি বছর ২৯ মে ‘ইউএন পিসকিপারস ডে’ বা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন করা হয়। এই দিনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সকল নারী-পুরুষকে শান্তিরক্ষায় তাঁদের সর্বোচ্চ পেশাদারি মনোভাব, কর্তব্যপরায়ণতা, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং আত্মত্যাগের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও যথাযথ সম্মানসহকারে স্মরণ করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হবেন এবং ফিমেল কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে আমাদের সিও স্যার রাষ্ট্রপতির সামনে বক্তব্য রাখবেন।
সিও স্যার বুনিয়াতে থাকায় কিনশাসায় অ্যাক্টিং কমান্ডার হিসেবে কন্টিনজেন্টের দায়িত্বভার ছিল আমার ওপর। ২৯ মে ২০১৮, ‘ইউএন পিসকিপারস ডে’ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি ছিল এবং কমান্ডার হিসেবে আমাকে সবগুলোতে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল।
২৯ মে ২০১৮, সকাল ৯টায় আমি চলে গেলাম কিনশাসায় অবস্থিত ইউএন হেডকোয়ার্টারে। কিনশাসায় আসার মাত্র ১১ দিন হয়েছে তখন। এই প্রথম জাতিসংঘের এত বড় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে দেখলাম কত দেশের, কত বর্ণের, কত ধরনের মানুষ! বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগল। এত বর্ণের মানুষকে একসঙ্গে দেখার সৌভাগ্য কেবল মিশনে আসার কারণেই হয়েছিল। তিন ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান চলল। সেখানেই পরিচয় হলো ইজিপশিয়ান এবং সেনেগালিজ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডারদের সঙ্গে। বাংলাদেশ এফপিইউসহ এই দুটি এফপিইউও কিনশাসায় কাজ করছে।
দুপুরে ক্যাম্পে ফিরে এসে খাবার খেলাম। তারপর ইউনিফর্ম বদলে সিভিল পোশাকে রওনা হলাম পুলিশ কমিশনারের (পলকম) অফিস অনাত্রায়। তখন পবিত্র রমজান মাস চলছে। এখানেও অনুষ্ঠান হবে এবং ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। পলকমের অফিসটি কঙ্গো নদীর ধারে অবস্থিত। অফিসের পাশেই একটি নদীবন্দর আছে। কিন্তু বন্দরটি কেমন ধূসর, মলিন। বিচ্ছিন্নভাবে দুই-তিনটি স্টিমার দাঁড়িয়ে আছে, আছে কিছু পুরোনো নৌকা। স্টিমারের ডেকে গুটিকয়েক লোককে অলসভাবে বসে থাকতে দেখা গেল। বন্দরের এখানে-সেখানে ঘাসের ঝোপ গজিয়ে উঠেছে। রেললাইনও আছে। দেখেই বোঝা যায়, বহুদিন ধরে এই লাইনে কোনো ট্রেন চলেনি। রেললাইনের ওপর গজিয়ে ওঠা ঘাসের ঝোপ বাতাসে দুলছে। মানুষজন নেই বললেই চলে; দু-চারজন যা আছে, তাদেরও কোনো তাড়া নেই, তারা ঝিমোচ্ছে। রাজধানী শহরের বুকে এমন জনমানবহীন নদীবন্দর থাকতে পারে, ভাবাই যায় না। পলকমের অফিসের সামনে বাঁশ এবং করিমেক দিয়ে উঁচু করে খোলা ছাদের মতো একটি জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘গাজেবো’। ওপরে করিমেকের ছাদ, কিন্তু চারপাশ খোলা। ছাদ থেকে ফুলের টব ঝুলছে, নানা রকমের ফুল ফুটে আছে। জায়গাটি বেশ সুন্দর, স্বীকার করতেই হবে। এখান থেকে কঙ্গো নদী দেখা যায়।ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে নিচতলায়। ‘গাজেবো’তে বসে কঙ্গো নদীর বুকে সূর্যাস্ত দেখলাম। ইঙ্কাল ক্যাম্প আর শহর, সবখানেই দমবন্ধ পরিবেশ। কিন্তু নদীটাকে দেখলে শান্তি পাই। দেশের কথা মনে পড়ে।কিনশাসার এক পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বিশাল চওড়া কঙ্গো নদী। নদীর অপর পাশে রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী ব্রাজাভিল। নদীটা কোথাও শান্ত, আবার কোথাও খরস্রোতা। যেখানে পাথর বেশি, সেখানেই স্রোত বেশি।
কঙ্গো নদী আফ্রিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। কঙ্গো নদী দেখলেই ভূপেন হাজারিকার গানটা মনে পড়ে যায়-
কৃষ্ণকায়া আফ্রিকা মোর কৃষ্ণকলি মা কান্না-ভেজা দু’চোখ তোমার ব্যথায় ভরা বুক তোমায় দেখে মনে পড়ে আমার মায়ের মুখ ইথিওপিয়ার ক্ষুধার জ্বালা কান্না হয়ে শেষে কঙ্গো নদীর স্রোতের ধারায় গঙ্গাতে আজ মেশে প্রাণের সুতোয় গাঁথা মোদের দুঃখ এবং সুখ তোমায় দেখে মনে পড়ে আমার মায়ের মুখ
“কঙ্গো নদীর স্রোতের ধারা গঙ্গাতে আজ মেশে”-নদীটা দেখে প্রথম এই লাইনটাই মনে হয়েছিল। সত্যি, কঙ্গো নদী, তোমায় দেখে মনে পড়ে আমার মায়ের মুখ। কিনশাসায় সন্ধ্যা নেমে এসেছে। পাশের দেশ রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী ব্রাজাভিলের ঝুলন্ত ব্রিজের ঝলমলে আলো ‘গাজেবো’ থেকে দেখা যাচ্ছে। নদীতে সেই আলোর প্রতিফলন পড়ে জল ঝিকমিক করছে। নদীর ঠান্ডা মিষ্টি বাতাস এলোমেলো বইছে। সেই বাতাস চোখে-মুখে আছড়ে পড়ছে, এলোমেলো করে দিচ্ছে চুল, এলোমেলো করে দিচ্ছে সব ভাবনা। কিছু কিছু সৌন্দর্য সারাদিন ধরে দেখলেও যেন মনের আশা মেটে না। এই সময় আইপিও, অর্থাৎ ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার আশরাফ (জর্ডানিজ), আমাকে সেনেগাল এফপিইউ এবং ইজিপ্ট এফপিইউর কমান্ডারের পাশে বসতে বললেন। তিনি বললেন, “তোমরা তিন কমান্ডার একসঙ্গে থাকো।” হাসিমুখে আমরা তিনজন ইফতার সামনে নিয়ে বসে পড়লাম। ইফতারের আয়োজন ছিল বিশাল। মনুস্কোতে জাতিসংঘের ২৫টি দেশের প্রতিনিধি কাজ করেন। আজকের ইফতারে প্রতিটি দেশের প্রতিনিধি তাঁদের দেশের বিশেষ সব খাবার নিয়ে এসেছেন। চারদিকে শুধু খাবার আর খাবার। বাতাসে বিভিন্ন ধরনের খাবারের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। সব দেশের প্রতিনিধিরা খাবার নিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রতিটি ডিশের ওপর খাবারের নাম লেখা। সারি সারি টেবিল। সবার মধ্যে উৎসব-উৎসব ভাব। ব্যানএফপিইউয়ের (বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিট) পায়েস এবং চিকেন বিরিয়ানি এখানে বেশ জনপ্রিয়। তাই ক্যাম্প থেকে পায়েস আর বিরিয়ানি রান্না করে পাঠানো হয়েছে।
ঘুরে ঘুরে প্রতিটি টেবিলের খাবার দেখলাম। পুলিশ কমিশনার (পলকম) আওয়ালে আব্দুল নাসের স্যার ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে এলেন। পলকম স্যার মুসলিম এবং জিবুতির নাগরিক। ছয় ফুট লম্বা, বিশালদেহী। তাঁর সামনে আমাদের বাঙালিরা রীতিমতো বেঁটে মনে হয়। কিনশাসার ইউএন পুলিশ কমিশনার স্যার জেনারেল পদমর্যাদার। ইউনিফর্মের বাইরে তিনি সব সময় সাদা আলখাল্লা পরে থাকেন। আজও আলখাল্লা পরে এসেছেন। তিনি ‘গাজেবো’তে প্রবেশের পর সবার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেন। আমার দিকেও হাত বাড়িয়ে দিলেন। দেশে আমরা নারী কর্মকর্তারা সাধারণত হ্যান্ডশেক করি না। কিন্তু এখানে কেন যেন একটুও সংকোচ বোধ হলো না। নির্দ্বিধায় পলকমের বাড়ানো হাতের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। ইতিমধ্যে ইফতারের সময় হয়ে গিয়েছে। পলকম এসে খাবার নেওয়ার পর সবাই লাইন ধরে খাবার নেওয়া শুরু করল। আমিও নিলাম। সব দেখে দেখে ব্যানএফপিইউয়ের টেবিল থেকে খাবার নিলাম। এরপর মুসলিম দেশগুলোর দু-একটা খাবার নিলাম। কিন্তু অভ্যস্ত না হওয়ায় সেই খাবার ভালো লাগল না।
রাত দশটায় ক্যাম্পে ফিরলাম। রোজা রেখে সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে ভীষণ ক্লান্ত। কিন্তু মনের মাঝে এক দারুণ ভালো লাগা কাজ করছিল। যখন দেখি এই কিনশাসায়, এই মনুস্কোতে আমি আমার দেশের প্রতিনিধি, আর আমার মাধ্যমেই অন্য দেশের মানুষ আমার দেশকে চেনার, জানার চেষ্টা করছে, তখন খুব গর্ব অনুভব হয়। আসলে দেশের বাইরে এলেই বোঝা যায়, একটি মানুষের জীবনে জন্মভূমির প্রভাব কতখানি! এখানে আসার পর থেকে জন্মভূমির কথা মনে পড়লে বুকের মাঝে অসহ্য কষ্ট আর তীব্র মমতা অনুভব করেছি সব সময়। পলকমের অফিসের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি পতাকা উড়ছে। সেখান থেকে মাঝে মাঝে নিজের দেশের পতাকা ছুঁয়ে দেখি আর মনে মনে বলি-এই পতাকা সমুন্নত রাখা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য।
“Ask not what your country can do for you-ask what you can do for your country.”
—John F. Kennedy
লেখক
পুলিশ সুপার
রেলওয়ে জেলা, চট্টগ্রাম

