বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
30.9 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধসমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিং কৌশল: একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

সমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিং কৌশল: একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

রাকিবুল হাসান ইশান
,

পুলিশিং ব্যবস্থার ইতিহাস বহু পুরনো হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ধরন ও কৌশলে নানা পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের প্রচলিত পদ্ধতি ছিল রিয়েক্টিভ পুলিশিং, যেখানে কোনো অপরাধ বা অভিযোগ ঘটার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিত। অর্থাৎ অপরাধ সংঘটনের পরই মূলত পুলিশের কার্যক্রম শুরু হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, এই রিয়েক্টিভ পদ্ধতি সমাজের নিত্যনতুন ও পরিবর্তনশীল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধী দ্রুত পুলিশের নাগালের বাইরে চলে যায়। ফলে অপরাধ দমন শুধু সংঘটিত হওয়ার পর নয়, বরং আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।হয়ে ওঠে। একসময় রিয়েক্টিভ পুলিশিংয়ের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সামনে চলে আসে, এবং এর প্রেক্ষিতে এক সময়কার কার্যকর এই পুলিশিং পদ্ধতি ধীরে ধীরে নতুন প্রেক্ষাপটে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হতে থাকে।সমস্যাভিত্তিক পুলিশিং বা প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিং হলো এমন একটি পুলিশিং পদ্ধতি, যেখানে পুলিশ শুধু অপরাধ সংঘটনের পর প্রতিক্রিয়া দেখায় না; বরং যে সমস্যাগুলো থেকে বারবার অপরাধ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান খোঁজাই থাকে এর প্রধান লক্ষ্য। এই পদ্ধতিতে পুলিশ একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাজ না করে, সেই ঘটনার পেছনে থাকা বৃহৎ সমস্যা; যেমন পরিবেশ, অভ্যাস, সামাজিক পরিস্থিতি বা সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে। উদ্দেশ্য হলো, একই ধরনের অপরাধ যেন বারবার না ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন গবেষক ও পুলিশিং-বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারম্যান গোল্ডস্টাইন তাঁর দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পুলিশিংয়ের একটি নতুন পদ্ধতি প্রস্তাব করেন, যার নাম দেন সমস্যাভিত্তিক পুলিশিং। এই ধারণার পেছনে কাজ করে প্রচলিত রিয়েক্টিভ মডেলের দুর্বলতা, যা ১৯৭০-এর দশকে পরিচালিত ক্যানসাস সিটি প্রিভেন্টিভ প্যাট্রোল এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, পুলিশের কাছে আসা কলের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পারিবারিক কলহ বা জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত, যা সরাসরি অপরাধ নয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, পুলিশ তাদের কর্মসময়ের বড় একটি অংশ নিয়মিত টহলে ব্যয় করলেও খুব কম ক্ষেত্রেই সেই টহল অপরাধ প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছে। এসব তথ্য স্পষ্ট করে যে, শুধু ঘটনার পর সাড়া দেওয়ার বা রুটিন টহলের ওপর নির্ভরশীল পুলিশিং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

১৯৬৪ সালে শিকাগো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কাজ করার সময় গোল্ডস্টাইন উপলব্ধি করেন যে, প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিং ধারণা তুলে ধরেন। এই পদ্ধতিতে পুলিশের প্রধান লক্ষ্য শুধু অপরাধীর গ্রেফতার নয়; বরং অপরাধের পেছনে থাকা মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা। তাঁর মতে, অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণগুলো দূর করা গেলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। এ কারণে হারম্যান গোল্ডস্টাইন সমস্যাভিত্তিক পুলিশিংয়ের জনক হিসেবে পরিচিত।

গোল্ডস্টাইনের এই নতুন ধারণা পুলিশিংয়ের চিন্তাধারা ও উদ্দেশ্যে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনে। তবে এই পদ্ধতিকে কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি সুসংগঠিত ও ধাপে ধাপে অনুসরণযোগ্য কর্মপদ্ধতি। এই প্রয়োজন থেকেই পরবর্তীতে গড়ে ওঠে SARA মডেল, যা সমস্যা শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিংকে বাস্তব রূপ দেয়।

প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিংসমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিং বা প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিং হলো এমন একটি পুলিশিং পদ্ধতি, যেখানে পুলিশ শুধু অপরাধ সংঘটনের পর প্রতিক্রিয়া দেখায় না; বরং যে সমস্যাগুলো থেকে বারবার অপরাধ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান খোঁজাই থাকে এর প্রধান লক্ষ্য।এই পদ্ধতিতে পুলিশ একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাজ না করে, সেই ঘটনার পেছনে থাকা বৃহৎ সমস্যা, যেমন পরিবেশ, অভ্যাস, সামাজিক পরিস্থিতি বা সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে। উদ্দেশ্য হলো, একই ধরনের অপরাধ যেন বারবার না ঘটে।

SARA মডেলের ব্যাখ্যা

প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিংয়ের বাস্তব প্রয়োগকে সহজ করার জন্য জন ইক ও উইলিয়াম স্পেলম্যান তৈরি করেন SARA মডেল।SARA শব্দটি দিয়ে মূলত বোঝায় স্ক্যানিং, বিশ্লেষণ, রেসপন্স বা প্রতিক্রিয়া, অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন, এই চার ধাপকে। এই মডেলটি কেবল অপরাধ নয়, বরং অপরাধের কারণ চিহ্নিত ও সমাধানের একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রদান করে।

ক. স্ক্যানিং
এই ধাপে সমাজে কী কী সমস্যা বা আইনভঙ্গের ঘটনা ঘটছে, তা শনাক্ত করা হয়। পুলিশের নথিতে থাকা পূর্বের তথ্যও এই পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজন হলে কমিউনিটি সদস্য, ব্যবসায়ী, স্থানীয় সংগঠন অথবা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যাতে সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। এটিই SARA মডেলের প্রাথমিক ও মূল স্তর, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপগুলো গড়ে ওঠে।

খ. বিশ্লেষণ
প্রথম ধাপে যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়। এখানে সমস্যার মূল কারণ, সামাজিক প্রেক্ষাপট, মানসিক বা আচরণগত উৎস, সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি দেখা হয় কোন পরিস্থিতি, পরিবেশ বা সুযোগ অপরাধ ঘটতে সাহায্য করছে। এই বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই সমস্যাটি মোকাবিলার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল ঠিক করা হয়।

গ. প্রতিক্রিয়া
এই পর্যায়ে আগের দুটি ধাপে সংগৃহীত তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত দুটি দিক থেকে প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

প্রথমত, একই বা সমজাতীয় সমস্যার ক্ষেত্রে আগে কোথাও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। যদি নেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ছিল এবং ব্যর্থ হলে কেন ব্যর্থ হয়েছিল, সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

দ্বিতীয়ত, যদি এ ধরনের সমস্যার জন্য আগে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার রেকর্ড না থাকে, তবে সংগৃহীত তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নতুনভাবে একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

ঘ. মূল্যায়ন
এটি হলো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ, যেখানে পুলিশ মূল্যায়ন করে তাদের পরিকল্পনা সফল হলো কি না। ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা হয় সমস্যা কতটা কমেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। যদি পরিকল্পনা সফল হয়, ভবিষ্যতে সেই কৌশল বজায় থাকে; ব্যর্থ হলে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়। অনেক সময় মূল্যায়ন থেকে নতুন সমস্যা বা উপসমস্যাও শনাক্ত হয়, যা আবার সেই সমস্যা সমাধানের নতুন সাইকেল শুরু করার পথ তৈরি করে।

SARA মডেলের কার্যকারিতা

বছরের পর বছর ধরে অপরাধ কমানোর জন্য নানা ধরনের কৌশল ও মডেল তৈরি হয়েছে। কোনোটি ছিল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে, আবার কোনোটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িতও হয়েছে। তবে এতসব মডেল ও পদ্ধতির মধ্যে কোনটি প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে কার্যকর এবং কোন পদ্ধতিটি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের গবেষক এইডেন সাইডবটম ও নিক টিলি একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা পরিচালনা করেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিংয়ের সমস্যা-সমাধান কৌশলগুলো তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেন। সেই বিশ্লেষণ থেকেই একটি বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, SARA মডেলই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত কৌশল। অর্থাৎ, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বাস্তবে যে পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার উত্তর গিয়ে দাঁড়ায় SARA মডেলের দিকেই।

গবেষণার ফলাফলে SARA মডেলের কার্যকারিতা ছিল বেশ পরিষ্কার।

  • ৮৪ শতাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিংয়ে সমস্যার সমাধানে SARA মডেলই তাঁদের প্রথম পছন্দ।
  • ৬০ শতাংশ কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, SARA মডেল কোনো জটিল সমস্যাকে অতিরিক্ত সরলীকরণ করে না; বরং এটি সমস্যাকে কাঠামোবদ্ধভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
  • ৩০ শতাংশ কর্মকর্তা জানান, এই মডেলে তাঁদের মতে কোনো উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা নেই।

সাইডবটম ও টিলির গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা। তাঁদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে সমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিংয়ের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোও SARA মডেলকেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। অর্থাৎ শুধু গবেষণায় নয়, বাস্তব প্রয়োগেও SARA একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বিশ্বে SARA মডেলের বাস্তব প্রয়োগ

বিশ্বের বহু পুলিশ সংস্থা অপরাধ কমাতে SARA মডেলকে কার্যকর সমস্যা সমাধানের একটি কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখা যায় ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের অভিজ্ঞতায়। ২০০৫-০৬ সালে লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থায় হঠাৎ অপরাধের হার প্রায় ৭২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যার একটি বড় অংশে জড়িত ছিল ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রচলিত রিয়েক্টিভ পদ্ধতিতে চললে সমস্যা সাময়িকভাবে কমতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর সমাধান সম্ভব নয়। তাই তারা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে SARA মডেল অনুসরণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

প্রথমে তারা সমস্যাটিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেন, কোথায় এবং কী ধরনের অপরাধ বাড়ছে, তা নির্ধারণ করা হয়। এরপর তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখার চেষ্টা করেন কেন কিশোররা এ ধরনের অপরাধে বেশি জড়াচ্ছে এবং পরিবহন ব্যবস্থার কোন কোন অংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারা বাস্তবসম্মত কৌশল গ্রহণ করেন। নিরাপত্তা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে কিশোরদের সচেতন করা, এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়।

এরপর শুরু হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, মূল্যায়ন। নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা হতে থাকে, গৃহীত কৌশলগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে। কৌশল বাস্তবায়নের কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবর্তনটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, কিশোরদের অপরাধ-সম্পৃক্ততাও হ্রাস পায় এবং জনসাধারণের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও নিরাপদ হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যাকে বৈজ্ঞানিক ও কাঠামোবদ্ধভাবে মোকাবেলার এই সাফল্যের জন্য ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের এই উদ্যোগকে প্রদান করা হয় গোল্ডস্টেইন অ্যাওয়ার্ড, যা প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিংয়ে উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থাগুলো এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিং মডেল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসরণ করে না; তাদের কার্যক্রম এখনো অনেকটাই

রিয়েক্টিভ। তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে এখানে প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে। এসব পদক্ষেপ সমস্যা-ভিত্তিক পুলিশিং ও SARA মডেলের সঙ্গে স্পষ্ট মিল রাখে।

স্ক্যানিং: সন্ত্রাসী কার্যকলাপের উৎস, নেটওয়ার্ক ও ব্যাকগ্রাউন্ড শনাক্ত করা।
বিশ্লেষণ: কোন কারণে তরুণরা এতে জড়াচ্ছে এবং কোথায় তাদের রিক্রুট করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা।
প্রতিক্রিয়া: দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা,ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া, জনগণকে সচেতন করা এবং বিশেষত তরুণদের জন্য ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ।
মূল্যায়ন: ধারাবাহিক কয়েক বছরে বড় ধরনের হামলা না হওয়াই কৌশলটির সফলতার প্রমাণ।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ঘাটতি। প্রবলেম অরিয়েন্টেড বা প্রোঅ্যাকটিভ পুলিশিং কার্যকর করতে সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য; তবে বাজেট, ক্ষমতা ও জুরিসডিকশন সীমাবদ্ধতার কারণে পুলিশের এককভাবে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত বা অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় না। যদি প্রবলেম অরিয়েন্টেড পুলিশিং ও SARA মডেলকে কাঠামোগতভাবে ও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে অপরাধ প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হতে পারে।

লেখক
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
ঢাকা জেলা

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ