বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
30.9 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬

গাজী জসীম
,

কিছুদিন আগেই ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শুরু করল গণতন্ত্রের এক নতুন পথচলা। তবে এই পথচলার সূচনা এতটা মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কাছে নির্বাচন মানেই যেন ছিল নিরাপত্তার শঙ্কা, বিশৃঙ্খলা আর হানাহানির আরেক নাম। তবে এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা প্রস্তুতি যে জনমনের সেই শঙ্কা দূর করতে পেরেছিল, তার প্রমাণ মিলেছে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়েই।

নির্বাচন-পূর্ব উত্তেজনা থেকে শুরু করে ভোটের দিন এবং ফলাফল-পরবর্তী সময় পর্যন্ত সহিংসতা প্রতিরোধ করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠিন কাজটি তারা করেছে পেশাদারিত্বের সঙ্গে, নিরপেক্ষভাবে। এই প্রেক্ষাপটটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ যে ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাহিনীর উচ্চাভিলাষী একটি অংশের বিতর্কিত ভূমিকা পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থায় গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। ২০২৬-এর নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা সেই আস্থার অনেকটাই ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। আর এই ফিরে পাওয়া আস্থাই পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।

বাংলাদেশের এই নতুন গণতান্ত্রিক পথচলার অন্যতম সহযাত্রী হবে বাংলাদেশ পুলিশ, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও ন্যায্য সমাজ গড়ে তুলতে জনগণের সঙ্গে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারলেই ‘জনতার পুলিশ’ কথাটি যথার্থ অর্থ পাবে। সেই লক্ষ্যেই পুলিশ সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ডিটেকটিভের এই বিশেষ সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো এই নতুন বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিকেই ধারণ করে। এই নবগণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় পুলিশের অভিজ্ঞতা, ভূমিকা, জাতীয় প্রত্যাশা এবং সুধীজনদের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের যথার্থ মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন পুলিশ নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অতিক্রম করে যাবে।

ডিটেকটিভের এই বিশেষ সংখ্যা সেই পথেরই পথনির্দেশক হয়ে উঠুক, এটাই আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ