বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
33.5 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধপুলিশ সপ্তাহ ২০২৬বাংলাদেশ পুলিশ কোন পথে?

বাংলাদেশ পুলিশ কোন পথে?

মোঃ মাজহারুল হক, পিপিএম
,

থানা এলাকায় এক ভূমিদস্যুর দোর্দণ্ড প্রতাপ। থানার ওসিকে অপবাদ দেওয়া হয়, ‘বিশেষ’ স্বার্থের কারণে তিনি আসামিকে ‘শায়েস্তা’ করেন না। জেলার এসপিও যেন কেমন দ্বিধাগ্রস্ত। যাহোক, একদিন নতুন পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভূমিদস্যু গ্রেফতার হলেন। তারপর নতুন এক দৃশ্যের অবতারণা।

এতদিন যারা পুলিশকে লোকদেখানো ‘দোষারোপ’ করতেন, ছোট-বড় নেতা, জনপ্রতিনিধি, ‘সমাজসেবী’ এবং অন্যরা থানায় উপস্থিত-আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। অভিযোগকারী ভয়ে কম্পমান; ‘ভিক্ষার কাম নাই, কুকুর সামলান’-অবস্থা তার। তারপর যা হওয়ার, তা-ই হলো। সকলকে বিগড়ানো ওসির পক্ষে সম্ভব না।

এটাকে কী ধরনের পুলিশিং বলব? পুলিশিং বাই কনসেন্ট? দুর্দমনীয় বা বিত্তশালী কোনো অপরাধীকে জেলে পাঠানো যে কত কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষ করে, এমন প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এ ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতার করার দায়িত্ব থানার পুলিশ একা পালন করতে পারে না। বরং এটি বিশেষ কোনো ইউনিট, যেমন-র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি বা পিবিআই-এর মতো তৃতীয় কোনো পক্ষকে অর্পিত হওয়া উচিত।

অতীতে এর থেকে পরিত্রাণের জন্য যে ব্যবস্থা ছিল, তা তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘এনকাউন্টার’, যা এক ধরনের অস্থির, জঙ্গলের শাসন হিসেবে পরিচিত ছিল। বিদ্যমান ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের দ্রুত কোনো সমাধান দেখছি না। আগেই বলে নিই, আমি নিবর্তনমূলক আইনের পক্ষে নই। কিন্তু বিদ্যমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে দুর্বিনীত এবং দুর্ধর্ষ অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিবারণমূলক ডিটেনশনের আপাতত কোনো বিকল্প দেখছি না। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ কথা বলতে চান না।

ভয়ে কেউ সাক্ষ্য না দিলে দুর্ধর্ষ অপরাধীর সাজা হবে কীভাবে? কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের বিরুদ্ধে নয়টি মারাত্মক অপরাধের মামলার মধ্যে আটটিতে খালাস পাওয়ার পর পুলিশ ‘নড়ে-চড়ে’ বসে এবং নবম মামলায় সাজা হয়। এ ধরনের দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিবারণমূলক ডিটেনশন ভারত, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়ায় চালু আছে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে বন্ধ থাকার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দু-একটি ক্ষেত্রে পুনরায় ব্যবহার হতে দেখেছি। ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো আইনবহির্ভূত ব্যবস্থার বিপরীতে, আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিবারণমূলক ডিটেনশনের চেয়ে আর কোনো ভালো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ পুলিশের বিকাশ বা আধুনিকায়নের ধারণাগত দুর্বলতা (১৯৭২–২০২৫)

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কমবেশি মাত্র ৩১,০০০ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ যাত্রা শুরু করে। সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশ তখনো ১৮৬১ সাল থেকে ১৯০৩ সময়কালের ঔপনিবেশিক কাঠামোগত বিন্যাসে দাঁড়িয়ে। বিগত পঞ্চান্ন বছরের পথপরিক্রমায় দেশে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ২,১৪,০০০ জন।

এ সম্প্রসারণকে কেউ কেউ আধুনিকায়ন বললেও, বস্তুত একে সংখ্যাগত বৃদ্ধি বলাই সঙ্গত হবে। বিদ্যমান ইউনিটগুলোর জনবল বৃদ্ধি ছাড়াও নতুন কিছু ইউনিট যুক্ত হয়েছে। কিন্তু কর্ম-কৌশল এবং ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও অনুশীলন, এমনকি মূলধারার আইন-কানুনগুলোও ঔপনিবেশিক সময়ের রয়ে গেছে।

গুণগতভাবে বিবেচনা করলে পুলিশের সেবার মান প্রত্যাশার তুলনায় অধঃপতিত হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে, এমনকি পাকিস্তান আমলেও থানা পুলিশ অপরাধের ঘটনাস্থলে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফুটপ্রিন্ট, জুতার ছাপ ইত্যাদি খুঁজত; এখন তা কল্পনাতীত। অথচ এ সময়ে বৈজ্ঞানিক তদন্তের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল।

যেমন, প্রতিটি থানায় অন্তত তিনজনের একটি করে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম থাকা, জেলার ডিবিতে অন্তত দুজন করে সাইবার অপরাধ তদন্তকারী এবং প্রতিটি মহানগর/রেঞ্জে পোস্ট-ব্লাস্ট ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম থাকা প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ, এ সময়ে সংখ্যাগতভাবে পুলিশের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি ব্যতীত প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিটি সদস্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণে সার্বিক সক্ষমতার প্রত্যাশিত পর্যায়ে উত্তরণ ঘটেনি। অবশ্য এটা দেশের সামগ্রিক চিত্র থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বল প্রয়োগের বর্তমান প্র্যাকটিস কী বার্তা দেয়—

পুলিশের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করতেন, পুলিশের অস্ত্র ‘শো-পিস’ হিসেবে রাখার জন্য দেওয়া হয়নি। পুলিশ মনে করে, ‘অবৈধ’ ঘোষিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য প্রয়োজনে গুলি করা যাবে। আইন এবং রেগুলেশনেও তাই বলা আছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এসব আইন ও রেগুলেশন কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কার স্বার্থে তৈরি করেছিল? সমাজ কি ১৮৬১ (দণ্ডবিধি) কিংবা ১৯৪৩ (পিআরবি)-এ ‘ফ্রিজ’ হয়ে আছে?ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যে কোনো উপায়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা অথবা যে কোনো উপায়ে বেনিয়া স্বার্থ ‘ম্যাক্সিমাইজ’ করা; যেমন-কৃষককে ধান চাষ বাদ দিয়ে নীল চাষে বাধ্য করা। স্বাধীন বাংলাদেশের জনপ্রশাসন বা পুলিশি ব্যবস্থার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই ভিন্ন। কিন্তু দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, আমরা এখনো যেন লর্ড ম্যাকলের (১৮০০–১৮৫৯) সময়ে আটকে আছি।

ব্রিটিশদের তৈরি কোনো কিছুতে হাত দিতে গেলেই ‘না না, এসবে হাত দেওয়া যাবে না’-বলাটা যেন বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের মানুষের অধিকারবোধ, আত্মমর্যাদা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা সার্বজনীন তথা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনে সৃষ্ট পুলিশের দর্শন, কাঠামো, কার্যাবলি ও কর্মকৌশলের বিবেচনায় তো বটেই, এমনকি মনস্তাত্ত্বিকভাবেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এখানে প্রসঙ্গত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ না করে পারছি না—

১. পুলিশের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য বেআইনি বল প্রয়োগ।
২. শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষামূলক দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ।

পুলিশের নিকট আসামির দোষ স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। সবকিছুর উন্নতি হয়েছে, বদলেছে, কিন্তু সাক্ষ্য আইনটা ১৮৭২ সালেরই রয়ে গেছে। সে অর্থে আমরা এখনো লর্ড ম্যাকলে বা জর্জ বার্নার্ড শ-র ইউরোপের মধ্যযুগের বাসিন্দাদের সমতুল্য।

নয়তো ধরুন, একজন পুলিশ পরিদর্শক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সত্যায়ন করলে তা মিথ্যা হয় না, কিন্তু তার নিকট আসামির দোষ স্বীকারোক্তি সত্য বলে গণ্য করা যায় না। এটাই আমাদের সাক্ষ্য আইনের বিধান। সাক্ষ্য আইনের দোষ স্বীকারোক্তি-সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন, যদি আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোতে চাই।

শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ

পুলিশ ধারাবাহিকভাবে যা দেখেছে, শিখেছে এবং রপ্ত করেছে, তা হলো-জনগণ কথা না শুনলে বল প্রয়োগ করা; সব দেশেই তা-ই। কিন্তু পুলিশ কনস্টেবলকে এটা শেখানো হয়নি কখন গুলি করতে হবে, বা শটগানের গুলিতেও কখন মানুষ মরতে পারে। এখানে পুলিশ তার অন্য সহকর্মীদের দেখে, বা ভুল রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার কারণে, পেশাদারিত্ব ভুলে এবং ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ থেকে ছত্রভঙ্গ হতে থাকা জনতাকে পেটায়, এমনকি পিটুনি খেয়ে পড়ে যাওয়ার পরও। এটাই যেন ‘স্বাভাবিক’। কারণ এ নিয়ে খুব বেশি উচ্চবাচ্য হতে দেখি না। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

পুলিশের লাঠিপেটা। এ বিষয়ে বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যকে জিজ্ঞেস করেছি-পুলিশকে লাঠি দেওয়া হয় কেন? কেউ কেউ উত্তরে প্রথমে বলেন, ‘পেটানোর জন্য’। ‘আসলেই কি?’ পরে বলেন, আত্মরক্ষার জন্য। তাহলে পলায়নপর মানুষকে পেটায় কেন পুলিশ, এবং যত্রতত্র-নাকে, মুখে, বুকে ইত্যাদি? আপনি ছত্রভঙ্গ হতে নির্দেশ দেওয়ার পরও কেউ ছত্রভঙ্গ না হলে তাকে গ্রেফতার করতে পারেন; তা করেন না কেন? তখন এটা-সেটা বলতে থাকেন।দাঙ্গা দমনকালে আরও অপকর্ম করে থাকে পুলিশের কিছু সদস্য। এসবের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। এগুলো এখন জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, নয়তো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অধরাই থেকে যাবে।

প্রশিক্ষণ: সমস্যার আঁতুড়ঘর

সমস্যার শুরু প্রশিক্ষণে। কনস্টেবল প্রশিক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সাধারণত পদোন্নতি পাওয়া প্রাক্তন কনস্টেবল। উচ্চশিক্ষিত, উচ্চপদস্থদের কনস্টেবল প্রশিক্ষণে খুব একটা নিয়োজিত করা হয় না। তাদের প্রশিক্ষণে ধারণাগত ত্রুটি হচ্ছে এর ‘ফোকাস’, যা মূলত শারীরিক ফিটনেসকেন্দ্রিক; মানসিক বিকাশ নয়।

চারটি পিটিসির প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিকায়নের জন্য সরকার পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির জন্য একশত কোটি টাকার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে। সাবেক আইজিপি শ্রদ্ধেয় জনাব মো. নুরুল হুদা প্রস্তাবের খসড়া তৈরির দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে নিয়ে জিরানীতে অবস্থিত ইকঝচ সফর করেন তাদের ‘মাল্টি-পারপাস ড্রিল শেড’ দেখার উদ্দেশ্যে। ট্রাসের কাঠামোর ওপর একটি বৃহদাকার টিনশেড কাঠামো, প্রায় ৩৫ ফুট উঁচু। ইনডোর গেমস, এমনকি ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলাসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় পিটি প্যারেড করা এবং মিলনায়তন হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায়।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে টাঙ্গাইল পিটিসিতে বদলি সূত্রে গিয়ে নতুন নতুন ভবন দেখতে পাই। জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, এগুলো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত ভবনাদি। একটি নির্মাণাধীন ব্যারাক ভবনের একটি ফ্লোরে প্রায় ৩০০ প্রশিক্ষণার্থীর একটি ‘শ্রেণিকক্ষে’ একজন এসআইকে পাঠদানরত দেখতে পাই। ‘একাডেমিক ভবনটি কোথায়’-জিজ্ঞেস করলে একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাব অনুমোদনের সময় একাডেমিক ভবন বাদ দেওয়া হয় এই বলে যে, ‘কনস্টেবল লাঠি নিয়ে ডিউটি করবে, তার জন্য একাডেমিক ভবন কেন?’

এ ধরনের স্কুল-চিন্তার ফসলই জনগণকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বা অপেশাদারিভাবে লাঠিপেটা করা। শান্তিরক্ষা মিশনে বসনিয়া ও পূর্ব তিমুরে পুলিশ একাডেমিতে কাজ করার সুবাদে দেখেছি, কতটা যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত প্রশিক্ষক টিম দ্বারা কতটা যত্নের সাথে কনস্টেবলদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে হাতে-কলমে শেখার লক্ষ্যে প্রত্যেককে একজন কোচের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা হয়। এদেশেও স্বাধীনতা-পূর্বকালে কনস্টেবলদের মৌলিক প্রশিক্ষণের পর বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য প্রথমে থানায় প্রেরণ করা হতো এবং জ্যেষ্ঠ কনস্টেবলদের তত্ত্বাবধানে পুলিশিংয়ের আইনগত, আদর্শিক, মানবিক, পেশাগত দক্ষতা, জনসংযোগ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করত। কানাডায় এ কার্যক্রমকে ‘কোচিং’প্রোগ্রাম বলা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সবকিছু দিক হারাতে থাকে।১৯৭৬ সালে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এপিবিএন এর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অর্থাৎ শারীরিক উপযুক্ততা, অস্ত্র চালনা, টহল ডিউটি করার সক্ষমতা অর্জন করাই যেন পুলিশ হয়ে ওঠা।এখনো কনস্টেবলদের প্রশিক্ষণে ব্রিটিশ-পাকিস্তান সময়ের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়।কোনো অপরাধের ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের আচরণ এবং সাধারণের আচরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে না।এভাবে পুলিশ একটা অদক্ষ বাহিনীতে এবং ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানদণ্ডে বুদ্ধিবিবেচনাহীন,নিয়ন্ত্রণহীন একটা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।আরো পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য আগামী ৫/১০/১৫ বছরের জন্য কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে বলে আমার জানা নেই।ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমল থেকেই পুলিশের সংস্কার “ফায়ার ফাইটিং”এর মতো তাৎক্ষণিকতা বা অ্যাডহকিজমনির্ভর।আগামী বিশ-ত্রিশ বছরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন রূপকল্পকে বিবেচনায় রেখে বাহিনীর সকল পর্যায়ের সদস্যদের জন্য একটি বিজ্ঞানসম্মত ক্যারিয়ার প্ল্যানিং অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন প্ল্যান-এর মাধ্যমে অর্থবহ, আধুনিক পুলিশ বাহিনী গঠনের পথ চলার সূচনা হতে পারে এখনই।পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতা-উত্তরকালে পুলিশ কলেজে প্রশিক্ষিতদের দায়িত্ব পালনের কিছুটা নমুনা গণমাধ্যমে দেখে খুশি হয়েছিলাম।বিক্ষোভ দমনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মাটিতে পড়ে যাওয়া দুজন বিক্ষোভকারীকে ঘিরে রেখেছে, পেটাচ্ছে না, অনেকটা শিকারে অনভ্যস্ত পোষা বেড়াল সামনে ইঁদুর পেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে।এর কারণ সদ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি পর্বে পুলিশকে বিক্ষোভ দমনে করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আধুনিক কৌশলাদি শেখানো হয়েছিল।এখানে প্রশিক্ষণই মূল বিষয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাম্রাজ্যবাদী জাপানের আত্মাহুতিদানকারী ‘কামিকাজি’বা ‘কামাকাজি’ যুদ্ধবিমান চালকদের কথা আমরা অনেকেই ইতিহাস থেকে জানি।আমরাও বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম আধুনিকায়নের মাধ্যমে বল প্রয়োগের নতুন নীতিমালাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিতে পারি।

আমাদের পুলিশি ব্যবস্থার মূলভিত্তি কী?‘কোবান’ ব্যবস্থা হতে পারে পথপ্রদর্শক

 নগর দেশ সিঙ্গাপুর, জাপানের কোবান ব্যবস্থাকে মূলধারার পুলিশিং বা কমিউনিটি পুলিশি ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে।এ ব্যবস্থার শক্তি হচ্ছে তথ্যগত ‘অন্ধকার’ দূর করে তথ্যের ব্যবস্থাপনা ও আইনসম্মত ব্যবহার।ধরুন, আপনার প্রতিবেশী কী করেন-সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই, আপনি এক ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। ‘কোবান’ ব্যবস্থায় বিট কর্মকর্তা বা পুলিশ স্টেশনগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কে কী করেন-এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য বা ধারণা রাখেন।সাধারণত নেইবারহুড ওয়াচ গ্রুপস এবং হোম ভিজিটের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যগণ তা করে থাকেন। বাংলাদেশ পুলিশে বর্তমানে কর্মরত অন্তত ১৬ জন কর্মকর্তা জাপানে কোবান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যাদের নেতৃত্বে একটি পাইলট প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপযোগী একটি যথোপযুক্ত অপরাধ প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব

লেখক
সাবেক ডিআইজি

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ