সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬
25 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধজল কাহিনী

জল কাহিনী

আনসার উদ্দিন খান পাঠান
,

প্রায় তিন দশক ধরে গৃহযুদ্ধ চলার পর অ্যাঙ্গোলায় সরকার ও বামপন্থি সশস্ত্র গেরিলাদের মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন তখন এই শান্তিচুক্তি তদারকির দায়িত্ব পায়। ৩৫ দেশের বিশাল বাহিনীর একজন নগণ্য সদস্য হিসেবে ১৯৯৭ সনে অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডায় যাই, ততদিন মিশনের বেশ কয়েক বছর শেষ, কিন্তু শান্তির তেমন দেখা নেই। জাতিসংঘ বাহিনীর ওপর সরাসরি আক্রমণ তেমন ছিল না, কিন্তু সরকার আর বিদ্রোহীদের মাঝে থেমে থেমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছিলই। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, ধর্ষণ, অপহরণ প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। চাকরিজীবনের প্রথম মিশনে কাজ করতে যাওয়া। ভিন্ন মহাদেশ, ভিন্ন ভাষা- তাঁরা ছিলেন পর্তুগিজভাষী। সব মিলিয়ে এক প্রায় অজ্ঞাত জনপদ। তারপরও। খানিক আশার বিষয় ছিল মিশনের পুলিশপ্রধান ছিলেন বাংলাদেশি। পুলিশ সুপার জনাব আনোয়ার ইকবাল (যিনি পরে আইজিপি ও বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন) সদ্য মোজাম্বিক মিশনে কাজ শেষ করে অ্যাঙ্গোলায় যান টঘ গুরুত্বপূর্ণ কমিশনার পদে আসীন হয়ে। তিনি চট্টগ্রাম জেলায় কর্মকালে আমার পুলিশ সুপার ছিলেন। সেই সুবাদে আমার সাথে পরিচয় ছিল বেশ গাঢ়। আশা করেছিলাম রাজধানী লুয়ান্ডাতেই মিশন হেডকোয়ার্টার্সে কোথাও বসে যাব। কিন্তু সে আর হলো না। হৃষ্টচিত্তে স্বাগত জানালেন এবং দপ্তরে আপ্যায়ন করলেন ঠিকই, কিন্তু পোস্টিং দিলেন রাজধানী থেকে প্রায় কয়েকশ কিলোমিটার দূরে দেশের উত্তরের এক ছোট্ট এলাকা কাবিন্দায়। স্যার কথা দিলেন অর্ধেক মিশন কাবিন্দায় গত হলেই তিনি আমাকে রাজধানীতে নিয়ে আসবেন। এই কাবিন্দা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর মধ্যে অ্যাঙ্গোলার একটি ছিটমহল। কঙ্গোর পেটের মধ্যে এই ছোট্ট জায়গাটি সেই ঔপনিবেশিককাল থেকেই অ্যাঙ্গোলার অংশ। বামনেতা সাবিম্বির সশস্ত্র গেরিলা যোদ্ধারা ছাড়াও সেখানে ছিল কাবিন্দা লিবারেশন আর্মি, যারা লড়ছিল এই ছোট্ট ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য। এদিকে কঙ্গোতে আবার তখন চলছিল বিদ্রোহী লরেন্ট কাবিলার (বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোনেফ কাবিলার পিতা) নেতৃত্বে ভয়াবহ যুদ্ধ। কাবিন্দা তেলসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় ফ্রান্স এবং আমেরিকার বড় বড় তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো কাজ করত সেখানে, তারাও ছিল সব পক্ষের টার্গেট। আটলান্টিকের একেবারে পাড়ে খালি পণ্যবাহী কনটেইনার আর বালির বস্তা দিয়ে বানানো অস্থায়ী ক্যাম্পে আমাদের আবাস। কাছেই আছে তেল কোম্পানির এয়ারফিল্ড। সপ্তাহে একদিন একটি ছোট্ট ফ্লাইট আসে রাজধানী লুয়ান্ডা থেকে ইউএনের লোকজন ও রসদ নিয়ে। কোম্পানির এয়ার ফিল্ডেই এসে নামে। চারপাশে বিপজ্জনক কঙ্গো থাকায় সড়কপথে সেখানে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে দুরু দুরু বুকে যখন কাবিন্দা এয়ারপোর্টে নামলাম। প্রথমেই যে স্নেহের এবং ভরসার হাত আমার দিকে এগিয়ে এল সেটি মেজর তাওয়ের। আমাদের ক্যাম্প কমান্ডার। দশজন পুলিশ আর পাঁচজন মিলিটারি অফিসার এই নিয়ে আমাদের ক্যাম্প। সরকারি মিলিটারিরা অবশ্য সারাক্ষণ পাহারায় থাকে

ক্যাম্পে। মেজর তাওয়ের দেশ মালি, কথা বলে ফরাসি ভাষায়। ইংরেজি জ্ঞান একেবারে সামান্য। ভাষার ফারাক সত্ত্বেও আন্তরিকতার একরত্তি কমতি নেই। প্রায় সবগুলো মিশনে কাজের মূল ভাষা ইংরেজি হলেও কতিপয় দেশের সদস্য ছাড়া এই ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারা পুলিশ বা মিলিটারি খুব বেশি থাকে না। ভাঙা ইংরেজিতেই চলে ভাববিনিময়। কথার মাঝে অঙ্গভঙ্গি যোগ হয়ে একজন আরেকজনের বন্ধু হতে খুব বেশি সময়ের দরকার হয় না। কাজেও একসময় কোনো সমস্যা থাকে না। কিন্তু ইউনিট কমান্ডার পর্যায়ে যারা থাকেন তারা ইংরেজি বা ফরাসিতে দক্ষ হন। তাদের ইউএন-এর নির্ধারিত ভাষ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। মি. তাওরে কি করে ক্যাম্প কমান্ডার হলেন তা ভেবে প্রথম তো অবাক হয়েছিলাম। পরে জানলাম মিশনের যিনি প্রধান (স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভটু দ্য সেক্রেটারি জেনারেল) তার বাড়ি মালিতে। তিনিই ক্ষমতাবলে নিজ দেশের প্রচুর মিলিটারি আর পুলিশ অফিসারকে মিশনে নিয়ে এসেছেন। এদের প্রায় কারোরই ইংরেজি ভাষায় ন্যূনতম দক্ষতা নেই। যাক আমার ভাষার চেয়েও এই বৈরী বিভুঁই-এ দরকার ছিল একজন দক্ষ ও হৃদয়বান কমান্ডারের। তাওরে সেরকমই ছিলেন। এয়ারপোর্ট থেকে নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন তিনি। পাশে আমি। আমার পিঠ ছুঁয়ে বললেন, ‘মাই ফ্রেন্ড দিস ইজ নট এ সেফ প্লেস।’ নানাবিধ বিপদের বয়ান করলেন। নামার সময় কাঁধে জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, ‘ভয় পেও না একদম। আমি তোমার বন্ধু। ২০ বছর মিলিটারিতে চাকরি, ট্রেনিং করেছি ফ্রান্সে। আগে আমি মরব, তারপর তুমি। আমি একজন মুসলমান আর জানি তুমিও তাই। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। তোমার যা কিছু সমস্যা আমাকে বলবে।’ এটুকু ভরসা আমার কাছে বিশাল প্রাপ্তি ছিল। ক্যাম্পে গিয়ে অন্য দুজন সদস্যকে দেখে পুলকিত হলাম। তাদের একজন ভারত পুলিশের ডিএসপি জগৎ নারায়ণ কলি আর জর্ডান পুলিশের মেজর কারিম। কলি আর কারিম দুজনেই আমার জন্য রান্না করে রেখেছিল। কারিম আবার আমার রুম। ঝাড়মোছ করে একদম তৈরি করে রেখেছে। মেজর তাওরে আমাকে তাদের করা খাবার খেতে দিলেন না। বললেন, ‘তুমি আমার এখানে খাবে, আমি রান্না করেছি। কমান্ডার হিসেবে এ আমার অনুরোধ।’

তাওরের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে হলো। কমন রান্নাঘর। কেউ কেউ একা আবার কেউ কেউ ছোট গ্রুপে নিজে নিজেই রান্না করে খায়। এই হলো বিধান। পনেরো জনের বাড়ি পনেরো দেশে। খাবারের তেমন সাযুজ্য নেই। উত্তর ভারতের কলি আবার নিরামিষভোজী। তাই পরের ছয় মাস একসাথে থাকলেও রান্না আর এক হাঁড়িতে করা হয়ে ওঠেনি।

মেজর তাওরের সাথেই আমার ভাব জমে ওঠে। খুব কষ্ট করে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে স্রেফ হাত-মুখ নাড়িয়ে ভাব প্রকাশে পটুত্ব তার। তার ছিল প্রকাণ্ড এক ভুঁড়ি। খর্বাকায় থুতনিতে সামান্য এক গাছি দাঁড়ি।

আর্মি অফিসারদের সুঠাম দেহের প্রয়োজন অন্তত মালিতে নেই, স্পষ্ট বুঝতে পারতাম। দেশে তার রয়েছে তিন স্ত্রী। পুত্র-কন্যা তেরো জন। ছেলেমেয়েদের অনেকেই বিয়ে করেছে। দেশের উত্তরে তার বাড়ি হলেও স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সহযোগে থাকেন রাজধানী বামাকোয়, চাকরিও তার সেখানে। আমার সঙ্গে তার বিশেষ খাতিরের অন্যতম কারণ হলো, তার হয়ে মিশনের পরিস্থিতি সম্পর্কে সাপ্তাহিক ও বিশেষ রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়া। তার বিশ্বাস আমি ভালো ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারি।

সপ্তাহের যেদিন প্রতিবেদন রচনা ও প্রেরণের দিন আসতো, সেদিন সকাল থেকেই আমার যত্ন ও খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। আমারও তার সম্পর্কে বিস্তর কৌতূহল। কেমন তার দেশ, কী তাদের খাদ্য, কেমন তাদের

সংস্কৃতি, বিশ্বাস, ধর্ম, বিয়ে, পরিবার, রাষ্ট্রব্যবস্থা এসব নিয়ে আমার অজস্র প্রশ্নের উত্তর দিতেন তিনি অম্লান বদনে, যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে।

আটলান্টিকের একেবারে সৈকতঘেঁষা ডেরা থেকে সামান্য ভেতরে গেলেই কঙ্গো অঞ্চলের ঘন অরণ্য। তার বুক চিরেই মোটরগাড়ি চলার মতো মেঠোপথ। মাটি শক্ত হওয়ায় বর্ষা ছাড়া বাকি সময়ে আমাদের ইউএন জিপ চলত সেদিকে অনায়াসে। বন এত ঘন যে, দিনের বেলাতেও গাড়ির হেড লাইট জ্বালাতে হতো। অনেক দূর ঘন অরণ্য পার হবার পর হঠাৎ কোনো গ্রাম। গাদাগাদি ঘরবাড়ি, খানিক দূরে একটা চার্চ, তাকে ঘিরে অসংখ্য ক্রশবিদ্ধ কবর, কোথাও একটা দুটো দোকান এবং সামনে পানরত কিছু বর্ষীয়ান লোক। মহিলারা মাথায় এক টুকরো কাপড় বেঁধে নানা কাজে গলদঘর্ম। এই ছিল কাবিন্দার বনাঞ্চলের গ্রাম। তাদের নিরাপত্তার জন্য মাঝে মাঝে আমাদের টহল দিতে হতো। কমান্ডার তাওরে যেদিন যাবেন, সেদিন আমার তার সাথে যাওয়া অবধারিত ছিল। ফিরে এসেই রিপোর্ট লিখতে হবে, সেটা আমারই দায়িত্ব।

যেতে যেতে তার সাথে কত কথা। অ্যাঙ্গোলার ইতিহাস তার জানা। তার আক্ষেপ তিন দশকের যুদ্ধে অন্তত দুটি জেনারেশন ধ্বংস হয়ে গেছে। লেখাপড়া নেই। সংঘাতে পরিবারগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীন মানুষ সবকিছু ভুলে নিজের জীবন বাঁচাতে তটস্থ থাকে। যুদ্ধ, হিংসা আর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আফ্রিকার প্রায় সব দেশে জেঁকে বসেছে, সম্পদের বিশাল সম্ভার সত্ত্বেও দারিদ্র্যের তলানিতে চলে যাচ্ছে তারা। তার গর্ব নিজের দেশ মালি নিয়ে। যাটের দশকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহের নানা ছোটখাটো কাণ্ড ঘটেছে বটে তবে এখন পুরো শান্ত। মরুপ্রবণ দেশ হলেও নাইজার নদীর জলে ফসলের সজীব সমারোহ। মাটির তলায় আছে ইউরোনিয়াম আর সোনা। সব মিলে মুসলিম দেশ মালি তখন শান্তির মডেল। এই অ্যাঙ্গোলা তার চেয়েও ধনী দেশ, তারপরও মানুষ এখানে শান্তিতে নেই। যুদ্ধ থামানোর প্রয়াসে

তিনিও একজন ক্ষুদ্র কর্মী, এ তার আরেক অহংকার। আফ্রিকা সব কালিমা দূরে ঠেলে একদিন বিশ্বে সমৃদ্ধির শিখরে উঠবেই, এই তার বিশ্বাস।

তার দুই দশক পর মেজর তাওরের স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ল। যুদ্ধ বাধল মালিতেও। উত্তর জনপদ আজওয়াদ নাম নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করল। বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিয়েছে আল কায়েদা সমর্থিত কয়েকটি ইসলামিক উগ্র দল। ২০১৩ সনে সাবেক উপনিবেশ শাসক ফ্রান্স রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে উত্তরাঞ্চল ফিরিয়ে আনে বটে কিন্তু দেশ হয়ে পড়ল লণ্ডভণ্ড।

আবার আমার যাত্রা মালি। একই কাজ, শান্তিরক্ষা। রাজধানী বামাকো থেকে ১২০০ কিমি দূরে তিমবন্ধু এলাকায় আমার অবস্থান। গিয়েই খোঁজ করতে থাকলাম মেজর তাওরের। আমি নিশ্চিত এত বছর পর আর তিনি সেনাবাহিনীতে নেই। তবু যদি দেখা হতো- ভাবছিলাম কেবল। মালির অবস্থা অ্যাঙ্গোলার চেয়েও খারাপ। হত্যাকাণ্ড, গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া, অপহরণ, ধর্ষণ চলছে দেদারসে। নিজ ভূমিতেই মানুষ পরবাসী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যুদ্ধের চেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় মানুষের আর নেই। আফ্রিকা আর ইউরোপের যুদ্ধ দেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তা বুঝতে পেরেছি। বামাকোতে ইউএন মিশন হেডকোয়ার্টার্সে মালিয়ান মিলিটারি লিয়াজোঁ অফিসারের সাথে দেখা করে আমার স্মরণে থাকা তথ্য দিয়ে মি. তাওরের দেখা পাওয়ার ইচ্ছের কথা জানালাম। তিনি ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার হদিস দিলেন। ফোনে কথা হলো। উচ্ছ্বসিত হলেন। ব্রিগেডিয়ার পর্যন্ত উঠে অবসরে আছেন তিনি। অবশেষে বামাকোর নাইজার নদীর তীরে এক বনেদি রেস্তোরায় তার সাথে দেখা। কুড়ি বছর পর। ভিন্নদেশে শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করতে যাওয়া প্রাণচঞ্চল সেই কর্মকর্তা আজ বয়সের ভারে খানিক ন্যুজ। চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। অনেকক্ষণ আমাকে বুকে জড়িয়ে রাখলেন। তারপর

তার একনাগাড়ে কথা বলে যাওয়া। চোখে হতাশা স্পষ্ট। কখনো ভাবেননি তার দেশের এই করুণ অবস্থা হবে, তার ভূমিতে শান্তিরক্ষীরা আসবে দলে দলে আগুন নেভাতে। আমি তাকে অন্য প্রসঙ্গে ফেরাতে চাই। কফি খেতে খেতে পাশের নাইজার নদীর দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘দেখেন এর পানিটা কী স্বচ্ছ, সুন্দর। কত শত মাইল পেরিয়ে আসা নদী বামাকোর পাশ ঘেঁষে যাচ্ছে, তারপরও একটু ময়লা নেই পানিতে।’ তিনি স্থিরদৃষ্টিতে নদী দেখলেন। বললাম, ‘আমাদের ঢাকাতেও এক নদী আছে, নাম বুড়িগঙ্গা। শিল্প-কারখানা আর মনুষ্যসৃষ্ট বর্জ্যের ভারে সে নদীর পানি এখন আর স্বচ্ছ নেই। তার পাশে বসে এমন স্বস্তি পাই না। তোমাদের নদীটা কী সুন্দর!’ তিনি একটুখানি চুপ হলেন। ভাবলাম আর যুদ্ধ নয়, এবার অন্যকিছু নিয়ে কথা হবে। হঠাৎ তিনি বললেন, ‘বুড়িগঙ্গার পানিতে কি কখনো লাল রক্ত ভেসে আসে? যুদ্ধে বিক্ষত নারী-পুরুষ-শিশুর লাশ ভেলার মতো জড়াজড়ি করে ভেসে আসে? নিশ্চয় না। নাইজারের জলে সে দৃশ্য নৈমিত্তিক। এই নাইজার চাই না।’ আমার হাত চেপে ধরে বললেন, ‘মি. পাঠান পারলে এই স্বচ্ছ জলের নদী নিয়ে তোমাদের কালো নোংরা জলের বুড়িগঙ্গা আমাকে দিয়ে দাও।’ তার চোখের কোনায় একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলো। আমার চোখেও তখন কিসের যেন একটা জ্বালা।

লেখক

কোঅর্ডিনেটর (গ্রেড-১)

তদন্ত সংস্থা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ

 

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ