সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬
25 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধঅচেনা ওটিপি: এক প্রতারণার কৌশল

অচেনা ওটিপি: এক প্রতারণার কৌশল

মো: কামরুল আহসান
,

ফারুক খান একজন সাবেক ব্যাংকার। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় তিনি খুঁটিনাটি ভালোভাবে যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। তবে একদিন তার জীবনে ঘটে গেল এক রহস্যময় ঘটনা। হঠাৎ তার মোবাইলে একের পর এক অচেনা ওটিপি মেসেজ আসতে থাকে। মেসেজগুলো পাঠানো হচ্ছিল সেই ব্যাংক থেকেই, যেখানে তিনি একসময় কাজ করতেন। প্রথমে সকালবেলার মেসেজগুলোকে তিনি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু রাতে আবার একই মেসেজ আসতে শুরু করলে সন্দেহ জাগে। দ্রুত তিনি ব্যাংকের কল সেন্টারে ফোন করলে জানা যায়, কেউ তার ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করছে। সৌভাগ্যবশত তারা সফল হতে পারেনি। ব্যাংক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়—যদি ওটিপি শেয়ার না করেন, তবে চিন্তার কিছু নেই। এতে কিছুটা স্বস্তি পেলেও, তার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে প্রশ্ন, কে তার নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইছে? তাদের কাছে তার তথ্যই বা এলো কোথা থেকে?

পরদিন সকালে এক অচেনা মহিলার ফোন আসে।
নিজেকে ব্যাংকের কর্মী পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, ফারুক সাহেবের ক্রেডিট কার্ডটি হ্যাক হয়েছে এবং ব্লক করা জরুরি। তিনি ই-মেইল ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর চাইতে শুরু করেন। ফারুক প্রায় তথ্যগুলো দিতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় মনে পড়ে যায়—তার ই-মেইল আগেই ব্যাংকের ডেটাবেসে সংরক্ষিত আছে। তিনি মহিলাকে সেটা বললে, ফোনের অপরপ্রান্তে কণ্ঠ থমকে যায়। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে জানান, সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে আপডেট করবেন। হতাশ হয়ে মহিলা ফোন কেটে দেন।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়
কিছুক্ষণের মধ্যে নতুন একটি নম্বর থেকে আবার কল আসে। এবার ট্রুকলারে ভেসে ওঠে “হ্যাকার” শব্দটি। কলকারী নিজেকে রায়হান নামে এক ব্যাংকার পরিচয় দিয়ে হুমকি দেয়—কার্ড ব্লক না করলে ব্যাংক কোনো দায় নেবে না। এরপর সে ফারুক সাহেবকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিংক পাঠিয়ে তাতে ক্লিক করতে এবং মোবাইলের ক্যামেরার নিচে একটি চিহ্ন চাপতে বলে। আসলে এটি ছিল ফোন হ্যাক করার ফাঁদ।
ফারুক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বলেন যে তিনি স্মার্টফোন নয়, একটি সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রতারক অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তখনই ফারুক নিশ্চিত হন—এটি একটি বড় প্রতারক চক্র, যারা ভয় দেখিয়ে ও ফাঁদ পেতে তার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে চাইছিল।

লেখক
ডিআইজি (গোপনীয়)
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স
ঢাকা

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ