সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬
23 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধদুর্যোগে আস্থাশীল সঙ্গী পুলিশ

দুর্যোগে আস্থাশীল সঙ্গী পুলিশ

মো: আতিকুর রহমান
,

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বর্ষায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়—উত্তরের নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী ও নোয়াখালী পর্যন্ত। একই সঙ্গে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এসব দুর্যোগের সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। দুর্যোগের আগে, চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে তারা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বরং উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ দেশ নিয়মিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে কৃষি, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বন্যা মৌসুমে ফসল ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি, রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির মতো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবেই নয়, বরং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে এক অপরিহার্য ও বহুমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২২-এর উদ্দেশ্য হলো একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে জননিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি Standing Order On Disaster(SOD), ২০১৯ অনুযায়ী, ওয়ার্ড পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে একজন স্থানীয় পুলিশ প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি তাদের ভূমিকাকে আরও সুসংহত করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের আইন ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া, সেই সঙ্গে সামাজিক অংশীদারিত্ব ও প্রতিরোধমূলক পুলিশিং পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজে অপরাধ ও অপরাধ প্রবণতা কমানো। কিন্তু পুলিশ তার গতানুগতিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে দুর্যোগকালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, ঠিক যেভাবে কোভিড মহামারির সময় তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়েও জনগণের কল্যাণে কাজ করার এই অঙ্গীকারই পুলিশের এই কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ভিত্তি প্রদান করে। দুর্যোগকালীন সময়ে পুলিশের প্রতিটি উদ্যোগ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নয়, বরং একটি মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানের প্রতিফলন হয়ে ওঠে।

দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি
দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করে। যেমন, ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’-এর সময় পুলিশ সদর দফতর একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিল। এছাড়াও, পুলিশ মাইকিং ও গণসংযোগের মাধ্যমে জনসাধারণকে সতর্ক করে এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।

দুর্যোগকালীন সাড়াদান ও মানবিক কার্যক্রম
দুর্যোগকালীন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা বহুমুখী এবং মানবিক সহায়তা-কেন্দ্রিক। এ সময়ে তারা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বরং ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা প্রদান এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা) অথবা জেলা পুলিশের হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও নৌ-পুলিশ হেলিকপ্টার, স্পিডবোট ও নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ দুর্গম অঞ্চলে সরাসরি পৌঁছে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে, যেখানে সাধারণত অন্য সংস্থাগুলোর পক্ষে যাওয়া কঠিন। দুর্যোগের সময় চুরি, লুটপাট কিংবা অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধেও পুলিশ সক্রিয় থাকে। তারা আশ্রয়কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যেমন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ (মে ২০২৩) এবং ‘রিমাল’ (মে ২০২৪)-এর সময় জেলা পুলিশ টহল বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছিল।

এছাড়া, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের মানবিক ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। তারা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের মতো দায়িত্ব পালন করেছে। এসব কার্যক্রম জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করেছে এবং কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার
দুর্যোগের তাৎক্ষণিক সাড়াদান শেষ হওয়ার পরও পুলিশের ভূমিকা শেষ হয় না। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার প্রক্রিয়ায় তারা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে। পুলিশ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা করে এবং দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। দুর্যোগের পর চুরি, পাচার বা সামাজিক বিশৃঙ্খলার মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই ঝুঁকি হ্রাস করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: উন্নত দেশগুলোর অনুশীলন ও প্রযুক্তি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। জাপান ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো তাদের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত ঝুঁকির কারণে দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছে। জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মডেলটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। জাপান পুলিশ এজেন্সি (NPA)-এর অধীনে রাইট পুলিশ ইউনিট (Kid-tai) এবং আন্তঃপ্রিফেকচারাল (নির্দিষ্ট প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে) জরুরি উদ্ধার ইউনিট (IERU) দুর্যোগকালীন সাড়াদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে J-Alert,Spectee Pro ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মতো ব্যবস্থা তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের মডেলটি একটি একক সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর ফর কাউন্টারটেরোরিজম অ্যান্ড সিকিউরিটি (NCTV)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। সেখানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল সার্ভিসগুলো নিরাপত্তা অঞ্চলে সমন্বিতভাবে কাজ করে এবং Waarschuwingsstelsel  ও NL-Alert- এর মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হয়। এছাড়াও, ইন্টারপোল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় হতাহতদের শনাক্তকরণে (Disaster Victim Identification – উঠও) সহায়তা করার জন্য বিশেষায়িত ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (IRT) সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিজেদের দক্ষতা ও পদ্ধতিগত উন্নয়নের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা নিতে পারে, যা তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ
বাংলাদেশ পুলিশ দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করলেও বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রথমত, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সম্পদের সীমাবদ্ধতা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিদ্যমান। যেমন, উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় স্পিডবোট, লাইফ ভেস্ট, ফার্স্ট এইড কিটের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা দুর্যোগকালীন সুষ্ঠু কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ততা ও সমন্বয়ের অভাব কার্যক্রমে বিলম্ব ও জটিলতা সৃষ্টি করে।

এরপরেও, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে যেমন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সফল সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে, তেমনি কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালী করে জনগণের আস্থায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি উন্নত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

দুর্ঘটনা ও দুর্যোগে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, অনুসন্ধান-উদ্ধার এবং মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ চালানো উচিত। একই সঙ্গে, অন্যান্য সংস্থার সাথে যৌথ মহড়ার মাধ্যমে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও কার্যকর করা যায়। তাছাড়া, পুলিশ বাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা অতীব জরুরি।

এমতাবস্থায় পুলিশ বিভাগের জন্য Standeard Operating Procedure(SoP)হিসেবে কিছু সুপারিশ করা যেতে পারে:

যোগাযোগ সম্পদের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ: সকল যোগাযোগ সরঞ্জাম যেমন রেডিও, মোবাইল ও পকেট রেডিও নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, এবং ব্যাকআপ ব্যাটারি ও নিরাপত্তায় বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

জরুরি উদ্ধার ও বন্যা প্রশাসন: বন্যা প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে আক্রান্ত জনগণকে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সরিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে জীবাণুমুক্ত রক্ষা সামগ্রী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধার দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

জরুরি তহবিল সংরক্ষণ: প্রতিটি থানায় দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল রাখতে হবে, যা অবিলম্বে উদ্ধার, ত্রাণ ও ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যয় করা হবে। তহবিল ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ও নিয়মিত পর্যালোচিত হতে হবে।

দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া দলের গঠন ও কার্যক্রম: দক্ষ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং স্পষ্ট দায়িত্ববিশিষ্ট একটি মূল দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া দল বিকাশ করা, যেখানে নেতৃত্ব, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও উদ্ধার কাজের জন্য বিশেষ দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে।

দুর্যোগ ক্ষতি পর্যালোচনা ও জরিপ: দুর্যোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতির পরিমাপের জন্য একটি দ্রুত ও সমন্বিত জরিপ চালানো, যার মধ্যে অবকাঠামো, সেতু-রাস্তা, জলবাহী ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং রিপোর্ট কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হবে।

প্রত্যেক থানায় জরুরি সামগ্রী সংরক্ষণ: টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, জরুরি ওষুধ, ফার্স্ট এইড কিট ও অন্যান্য আবশ্যকীয় সামগ্রী নিয়মিত পরিদর্শন ও পুনর্ভরণ নিশ্চিত করতে হবে।

গ্ধ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের অধীনে দুর্যোগ বিভাগ: গোটা দেশের পুলিশ বাহিনীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকি করবে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করতে হবে।

এই সুপারিশকৃত Standeard Operating Procedure(SoP)গুলো অনুসরণে, বাংলাদেশ পুলিশ দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আরও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণে তাদের সক্ষমতার উন্নয়ন দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর করে তুলবে। এমনকি জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশি সম্পৃক্ততা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, যা সামাজিক সংকটে সমন্বিত ও ফলপ্রসূ প্রতিক্রিয়ার রাস্তা সুগম করবে।

লেখক
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের ভরসার জায়গা বাংলাদেশ পুলিশ
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ