বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ—যা আমাদের জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। এই বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী আমাদের জন্য এক অনন্য সম্ভাবনা ও শক্তির উৎস। কর্মক্ষম, উদ্যমী ও সৃজনশীল এই তারুণ্যই দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি এবং বর্তমান সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। একটি জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও যুব সংগঠনের সদস্যরা কমিউনিটি পুলিশিং এবং সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হলে অপরাধ প্রতিরোধ অনেক সহজ হয়। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ, মাদকাসক্তি এবং কিশোর গ্যাং-এর মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা কার্যকর হতে পারে। এতে একদিকে যেমন তরুণরা নিজেরা অপরাধ থেকে বিরত থাকার অনুপ্রেরণা পায় ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে, তেমনি অন্যদিকে তারা অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। তরুণদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের দক্ষতা পুলিশকে আধুনিক অপরাধ দমনে সহায়তা করতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষমতা আমরা দেখেছি। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা ভবিষ্যতেও পুলিশিং-এর নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারবে, যা একটি আধুনিক, মানবিক এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সহায়ক হবে।
ভুল তথ্য ও গুজব মোকাবিলা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও গুজব চিহ্নিত করে সঠিক তথ্য প্রচারে তরুণরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক।
স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সহায়তা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নারী ও শিশু সুরক্ষা কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মতো জনসেবামূলক কাজে তরুণরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশের সহযোগী হিসেবে তাদের কার্যকর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
আইন ও মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি: তরুণরা নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করতে পারে, যা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে এবং দেশে অপরাধপ্রবণতা দূর করতে সাহায্য করবে।
কমিউনিটি পুলিশিং: স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তরুণ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিলে তারা নিজেরা দায়িত্বশীল হবে।
সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন: স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনলাইনে সাইবার বুলিং, প্রতারণা ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার: পুলিশের ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরা এবং অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত।
যুব সংগঠনের মাধ্যমে সহযোগিতা: যুব সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করে তাদের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে পুলিশকে সহায়তা করা যেতে পারে।
লেখক
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
