বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২৬
28 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমদক্ষতা উন্নয়নসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় চাই যুগোপযোগী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় চাই যুগোপযোগী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

মোহাম্মদ এনামুল হক
,

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ।গত কয়েক দশক ধরে দেশে নগরায়ণ হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও অপরিকল্পিতভাবে। অপ্রশস্ত ও অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সংকটের ফলে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোয় যানবাহনের চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে।সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ও আইন প্রয়োগে শিথিলতার কারণে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।প্রতি বছর ঢাকায় প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় কেবল যানজটের কারণে। এর আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব আরও অন্তত একটি মেট্রোরেল (এমআরটি)।লাইন। এই হতাশাজনক পরিসংখ্যান শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকই নয়, বরং নগরজীবনের সময়, শক্তি ও উৎপাদনশীলতার ভয়াবহ অপচয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও এখনো প্রকট, যার ফলে আজও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতের ইশারায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন জনবহুল শহর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট মোকাবিলায় সফল হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পুলিশের জন্য কিছু কৌশলগত নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো।

ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ

সড়কে নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা অপরিহার্য। এই আইনের মাধ্যমে যানবাহনের নিয়ন্ত্রিত গতিসীমা, সঠিক লেন ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এবং হেলমেট ও সিটবেল্ট পরিধান নিশ্চিত করা হয়।পুলিশকে দৃশ্যমান উপস্থিতি বজায় রেখে নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন করতে হবে, যাতে আইন ভঙ্গকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। ট্রাফিক আইনের কার্যকর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জরিমানার অর্থের যথাযথ ব্যবহার। যদি ট্রাফিক জরিমানার একটি অংশ নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও ছোটখাটো জরুরি সড়ক মেরামতের কাজে ব্যবহারের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিকট প্রদান করা হয়, তবে আইন প্রয়োগ কেবল শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।নিয়মিত ও কৌশলগত চেকপোস্টের পাশাপাশি মোবাইল টিমের উপস্থিতি নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের প্রতি সচেতনতা বাড়ায় এবং চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। ট্রাফিক পুলিশের কঠোর ও ধারাবাহিক উপস্থিতি শুধু আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি করে না, বরং দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক হয়।এ ছাড়া নিয়মিত প্রচার ও জনসচেতনতা অভিযান চালালে জনগণও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুপ্রাণিত হয়।

ডাইভারশন ও ইউ-লুপের সাফল্য: সড়কের প্রবাহ ঠিক রাখার কৌশল

ঢাকার সড়কে যানজটের বড় একটি কারণ হলো মোড় ও সংযোগস্থলগুলোয় গাড়ির অতিরিক্ত চাপ। সামান্য ভুল টার্নিং বা সংকীর্ণ সংযোগ পথই তৈরি করে ‘গ্রিডলক’, যেখানে চারপাশের গাড়ি একে অন্যকে আটকে দেয়।এই সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে ট্রাফিক বিভাগ ডাইভারশন ও ইউ-লুপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনা ছিল সহজ—কিছু মোড়ে এক বা দুইটি ছোট প্রবেশপথ বন্ধ করা, টার্নিং পয়েন্ট সামান্য সরানো, আর ইউ-লুপ স্থানান্তর করে এমন জায়গায় নেওয়া, যেখানে দৃশ্যমানতা ভালো ও গাড়ি ঘোরানোর সুবিধা বেশি।এই পরিবর্তনগুলো স্থায়ী নয়; বরং অস্থায়ী উপকরণ ব্যবহার করে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনে সহজেই আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে প্রধান সড়কগুলোর গড় গতি বেড়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে কিছু সিগন্যালে অপেক্ষার সময় কমেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, সবসময় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; বরং কখনো কখনো ছোট ও বুদ্ধিদীপ্ত পরিবর্তনও সড়কের প্রবাহ সচল রাখতে পারে।সঠিকভাবে পরিকল্পিত ডাইভারশন ও ইউ-লুপ ব্যবস্থাপনা যানজট কমানোর এক বাস্তবসম্মত ও স্বল্পব্যয়ী সমাধান হিসেবে এরই মধ্যে কার্যকারিতা দেখিয়েছে। 

হকারদের জন্য নাইট মার্কেট: মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান

শহরের যানজটের আরও বড় একটি কারণ হলো সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের দোকান বসানো। এতে পথচারীরা ফুটপাতে চলতে না পেরে রাস্তায় নেমে যান, ফলে গাড়ির গতি কমে যায় ও যানজট বাড়ে।

কিন্তু এই সমস্যা কেবল উচ্ছেদ অভিযানে সমাধান হয় না। কারণ হকাররাও নগর ব্যবস্থার একটি অংশ।

তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরগুলো এ সমস্যার সমাধান করেছে নাইট মার্কেট পদ্ধতির মাধ্যমে। ব্যস্ত সড়কগুলোয় দিনের বেলার গাড়ির চাপ রাতে যখন কমে যায়, তখন সেই স্থানগুলোয় সীমিত সময়ের জন্য হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়।

এতে যেমন রাস্তা দিনভর অবরুদ্ধ থাকে না, তেমনি নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার পথও খোলা থাকে। বাংলাদেশেও এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে যানজট কমানোর পাশাপাশি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। স্পিড গান, সিসিটিভি

গুরুত্বপুর্ণ মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগসমূহ ও তাদের কর্মপরিধি:

      মেট্রোপলিটন  ইউনিট  ট্রাফিক বিভাগ (ডিভিশন) নেতৃত্ব ও জনবল কাঠামো আওতাধীন এলাকা
সিএমপি (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) ৮টি বিভাগ: (রমনা, মতিঝিল, লালবাগ, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা) প্রধান: অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)। কমান্ড: ট্রাফিক নর্থ এবং সাউথ (যুগ্ম কমিশনারের অধীনে)। মাঠ পর্যায়: প্রতিটি বিভাগের নেতৃত্বে থাকেন একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)। রাজধানী ঢাকার পুরো এলাকা। প্রতিটি বিভাগ আবার বিভিন্ন জোনে (যেমন: রমনা জোন, শাহবাগ জোন) বিভক্ত, যার নেতৃত্বে থাকেন সহকারী কমিশনার (এসি)।
সিএমপি (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ) ৪টি বিভাগ: ট্রাফিক উত্তর, ট্রাফিক দক্ষিণ, ট্রাফিক পশ্চিম, ট্রাফিক বন্দর প্রধান: অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)। মাঠ পর্যায়: প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকেন একজন ডিসি (ডিসি)। চট্টগ্রাম বন্দরনগরী। “বন্দর বিভাগ” মূলত পোর্টে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
জিএমপি (গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ) ২টি মূল বিভাগ: ট্রাফিক উত্তর, ট্রাফিক দক্ষিণ প্রধান: ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক)। মাঠ পর্যায়: সহকারী কমিশনাররা (এসি) টঙ্গী এবং গাছা জোনের দায়িত্বে থাকেন। গাজীপুর শহর, শিল্প এলাকা এবং ঢাকার প্রবেশপথ (যেমন: টঙ্গী ব্রিজ, গাজীপুর চৌরাস্তা) নিয়ন্ত্রণ করে।
এসএমপি (সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ) ১টি বিভাগ (জোনে বিভক্ত): ট্রাফিক নর্থ জোন, ট্রাফিক সাউথ জোন প্রধান: ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক)। মাঠ পর্যায়: এডিসি এবং এসি-গণ জোনগুলো পরিচালনা করেন। সিলেট শহর, পর্যটন এলাকা এবং চা বাগান সংলগ্ন রুটগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে।
কেএমপি (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) ১টি বিভাগ: ট্রাফিক সেকশন (উত্তর ও দক্ষিণ সেক্টরে বিভক্ত) প্রধান: ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক)। খুলনা শহর এবং মোংলা বন্দর অভিমুখী মহাসড়কের সংযোগস্থল।
বিএমপি (বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ) ১টি বিভাগ: ট্রাফিক বিভাগ প্রধান: ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক)। বরিশাল শহর এবং লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা।
আরএমপি (রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ) ১টি বিভাগ: ট্রাফিক বিভাগ প্রধান: ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক)। রাজশাহী নগরী ও প্রশাসনিক এলাকা।

 

গ্যারেট এ. মর্গান ছিলেন আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথিকৃৎ। ১৯২২ সালে তিনি সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রথম তিন ধাপের ট্রাফিক সিগন্যাল আবিষ্কার করেন—Stop,Waitএবং Go— যা বর্তমান সকল দেশের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি।

 

তার এই উদ্ভাবন সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা কমানো এবং পথচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে আইন প্রয়োগে গতি আনা সম্ভব। স্পিড কন্ট্রোল ক্যামেরা স্থাপন ও ভিডিও মামলা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে মানবিক হস্তক্ষেপ কমবে, প্রমাণভিত্তিক মামলা বাড়বে এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এসব আধুনিক সরঞ্জাম ট্রাফিক পুলিশের কাজকে আরও কার্যকর ও সহজ করে তুলবে।উঁচু ভবনের উচ্চতাভিত্তিক ক্যামেরা ট্রাফিক পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে কার্যকর। এগুলো থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দৃশ্য দেখা যায়, ফলে রাস্তায় কোনো গাড়ি অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বা পথ আটকাচ্ছে কিনা, তা সহজেই শনাক্ত করা যায়। ক্যামেরার লাইভ ফিড ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে পৌঁছালে পুলিশ দ্রুত প্রতিবন্ধকতা সরানোর নির্দেশ দিতে পারে বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মোবাইল টিম পাঠাতে পারে।উচ্চ রেজল্যুশনের প্যান-টিল্ট-জুম (পিটিজেড) ক্যামেরা ব্যবহার করলে দূরের ছোট ঘটনা—যেমন নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ, যানজটের ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা বা স্থবিরতার কারণ খুঁজে বের করা—আরও সহজ হয়।ড্রোন ও উঁচু ক্যামেরার সমন্বয় শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকে আরও কার্যকর করে তোলে। ড্রোন দ্রুত চলমান ঘটনার লাইভ ভিউ সরবরাহ করে, আর উঁচু ক্যামেরা স্থায়ী কভারেজ দিয়ে বিশ্লেষণের জন্য তথ্য জমা রাখে। তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা মেনে চলা অপরিহার্য। ফিড কতদিন রাখা হবে, কারা দেখতে পারবে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা কী—এগুলো স্পষ্ট না হলে কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।উপরে উল্লিখিত বৃহৎ পরিবর্তনগুলো ছাড়াও কিছু ছোট ছোট সুপারিশ ও করণীয় থেকে যায়, যা ট্রাফিক পুলিশকে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগে সাহায্য করবে। যেমন—

তথ্য-ভিত্তিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন

বিভিন্ন সড়কের ট্রাফিক মনিটরিং সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত করে রেকর্ডেড ও রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন সময় ও কোন মোড়ে সবচেয়ে বেশি যানজট হয়, তা চিহ্নিত করা যায়। এই হটস্পটগুলোয় রুটিন ডিউটির বাইরেও অতিরিক্ত ও বিশেষ প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে, যেন যানজট শুরু হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। প্রয়োজনে তথ্যের ভিত্তিতে বিকল্প রুটও নির্ধারণ করা যেতে পারে।বর্তমানে পুলিশ চাইলে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেও বিভিন্ন রুটের যানজট পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। এছাড়াও পুলিশ কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তথ্য শেয়ার করা উচিত, যার ফলে চলাচলকারীরা পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের রুট পরিকল্পনা করতে পারে। এতে করে যানজট এড়ানো সম্ভব হবে।

অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়

রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ কাজ অথবা ভাঙা ট্রাফিক সিগন্যাল দ্রুত মেরামতের জন্য পৌরসভা/সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, রাজউক ও অন্যান্য প্রকৌশল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।সড়কে কোনো কাজ শুরু করার আগে ট্রাফিক বিভাগকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোয় ট্রাফিক পুলিশের অন্তর্ভুক্তি থাকলে পরিকল্পিত নগরে যানজট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সঠিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

সর্বোপরি সচেতনতা

শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতাও ট্রাফিক শৃঙ্খলার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। পথচারী ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা আয়োজন, স্কুল কারিকুলামে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন বিষয়ক অধ্যায় যোগ করা, ট্রাফিক সপ্তাহ পালন এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা ও কঠোর আইনের সমন্বয়েই সড়কে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

লেখক
যুগ্ম পুলিশ কমিশনার
(বর্তমানে ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)
ডিএমপি, ঢাকা।

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ