ঢাকা থেকে অল্প সময়েই পৌঁছানো যায় এমন একটি সমৃদ্ধ ডে-লং ট্যুর গন্তব্য হলো কুমিল্লা। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সবুজ পরিবেশ এবং খাবারের স্বাদ—সব মিলিয়ে পরিবারসহ একদিনের ভ্রমণের জন্য কুমিল্লা অত্যন্ত উপযোগী।
কুমিল্লা ভ্রমণের মূল আকর্ষণ ময়নামতি–লালমাই প্রত্নাঞ্চল। এখানকার শালবন বিহার ছিল সপ্তম–দ্বাদশ শতাব্দীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। ধ্বংসাবশেষের মাঝ দিয়ে হাঁটলে প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সভ্যতার ছাপ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ইতিহাসপ্রেমী শিশু ও কিশোরদের জন্য এটি একটি জীবন্ত পাঠশালার মতো। এরপর ঘুরে দেখা যায় কুমিল্লা জাদুঘর, যেখানে অঞ্চলভিত্তিক ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। কাছেই অবস্থিত বাংলাদেশপল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)—শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশে হাঁটাহাঁটির জন্য দারুণ একটি জায়গা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চাইলে অবশ্যই সময় রাখতে হবে কুমিল্লা ওয়ার সেমেট্রির জন্য। এখানে সমাহিত কমনওয়েলথ সৈনিকদের স্মৃতিচিহ্ন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়। দুপুর বা বিকেলে বিশ্রামের জন্য উপযুক্ত স্থান ধর্মসাগর দীঘি। চারপাশের গাছপালা ও খোলা পরিবেশ পরিবারসহ সময় কাটানোর জন্য আরামদায়ক।

ভ্রমণের শেষাংশে কুমিল্লার বিখ্যাত রসমালাই না খেলে সফর অপূর্ণ থেকে যায়। শহরের পুরোনো মিষ্টির দোকানগুলোতেই পাওয়া যায় এর আসল স্বাদ।

যাতায়াতের দিক থেকে কুমিল্লা বেশ সুবিধাজনক। ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।সকালবেলা রওনা দিলে একদিনেই সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেখে রাতেই ঢাকায় ফেরা সম্ভব—এটাই কুমিল্লার ডে-লং ট্যুরের সবচেয়ে বড় সুবিধা

