সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬
25 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপুলিশি সংস্কারআস্থার সংকট বনাম পেশাদারিত্ব: পুলিশি জবাবদিহিতার সন্ধানে

আস্থার সংকট বনাম পেশাদারিত্ব: পুলিশি জবাবদিহিতার সন্ধানে

ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী
,

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও পুলিশের ভূমিকা ও ভাবমূর্তি এখনও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এর দায় কার? বাস্তব দিক বিবেচনা ও নিরপেক্ষ আলোচনায় দেখা যায়, দায় এককভাবে পুলিশের ওপর বর্তায় না। পুলিশের নিজস্ব সীমাবদ্ধতার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী হলো বিভক্ত সামাজিক বাস্তবতা, সংঘাতময় রাজনীতি এবং কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্নীতি।

ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়, তখন পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুণ্ন হয়। জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য গঠিত এই প্রতিষ্ঠান প্রায়ই জনগণের কাছে নিপীড়নমূলক বাহিনী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে এটিও সত্য, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনেক সময় পুলিশের পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে তদন্ত কার্যক্রম, সন্ত্রাস দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নানা ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো পুলিশ। রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং সর্বোপরি সার্বক্ষণিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কল্যাণ রাষ্ট্রের কল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে সংযোগ ঘটানোর অন্যতম প্রধান বাহনও এই পুলিশ বাহিনী। একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উত্তরণ অনেকাংশে নির্ভর করে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির ওপর। আইনশৃঙ্খলার অবনতির সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নেতিবাচক সম্পর্ক সবারই জানা। কিন্তু বাংলাদেশে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকটে জর্জরিত। অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টার প্রভাব কর্মসম্পাদন থেকে শুরু করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সর্বত্র বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে। এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে মূলত আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে—বাংলাদেশ পুলিশকে পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কী ধরনের সংকট বিদ্যমান এবং তার উত্তরণের সম্ভাব্য পথ কী হতে পারে।

এক

সংজ্ঞা অনুযায়ী, পুলিশের প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এ কাজকে ‘প্রধান’ বলা হয় কারণ একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার মাত্রার ওপর অনেক ক্ষেত্রে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও তৈরি করে। সেই কারণে অপরাধ দমন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং জনগণের জীবন, সম্পদ ও স্বাধীনতা সুরক্ষায় পুলিশের পেশাদারিত্বের বিকল্প নেই। অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের প্রতি মূল প্রত্যাশা হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মৌলিক অধিকার রক্ষা করা এবং মানবিক মর্যাদাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে, তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সব দেশের মতোই বাংলাদেশের চিত্রও অভিন্ন। এখানে পুলিশ প্রায়শই ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হয়। ফলে পুলিশ জনগণের কাছে সেবাদানকারী নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের বাইরের জনগোষ্ঠীর কাছে ভয় ও নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে প্রতিভাত হয়, যা জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পুলিশ বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে বন্দি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রক্ষী বাহিনী, বিডিআর এবং পরবর্তীতে র‌্যাবের মতো বিভিন্ন সমান্তরাল বাহিনীকে অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োগের ফলে পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এক্ষেত্রে, কোনো একক রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ না করেই বলা যায়, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম বড় সমস্যা হলো দুর্নীতির পাশাপাশি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর দলীয়করণ। বিশেষ করে, ক্ষমতাসীন দল সরকারে থাকাকালীন সময়ে পুলিশকে প্রায়শই ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, আন্দোলন ভণ্ডুল করা, ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার, রিমান্ডের নামে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, ভিন্নমত দমনে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, এমনকি গুম-খুনের মতো কর্মকাণ্ড চালায়। সমস্যা এমন নয় যে, একটি বিশেষ সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা থেমে যায়। বরং নতুন সরকার আসার পর অনেক ক্ষেত্রে এই ধারা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নিকট অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এ বিষয়টি সহজেই অনুমান করা যায়। এর ফলে পুলিশ জনগণের আস্থা হারায় এবং একটি পক্ষপাতদুষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

দুই

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক কাঠামো ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব প্রায় সর্বত্র স্পষ্ট। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। সাংবিধানিকভাবে পুলিশ এক্সিকিউটিভ শাখার অধীনস্থ হলেও, তাদের কার্যক্রম আদর্শগতভাবে হওয়া উচিত নিরপেক্ষ, পেশাদার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পদোন্নতি, বদলি এবং দায়িত্ব বণ্টনে মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯১-২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সরকারই প্রশাসনিক কাঠামো, বিশেষ করে পুলিশকে, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর রিপোর্টগুলোতেও এ প্রবণতার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়, যেখানে পুলিশকে শাসকদলের রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম ও বিরোধী মত দমন করার উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুলিশের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও প্রায়ই রূপ নেয় রাজনৈতিক শত্রুতায়, ঠিক শত্রু নিধনের মতো। এর ফলে ভ্রাতৃঘাতী প্রবণতা জোরদার হয়, পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন হয় এবং বাহিনীর ভেতরে ভয়, পক্ষপাত ও অনৈতিক আনুগত্যের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি কেবল বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাই নষ্ট করে না, বরং বাহিনীকে পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে, পুলিশের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হয়ে ওঠে। ফলে জনগণের কাছে পুলিশ একটি নিরপেক্ষ নিরাপত্তা সংস্থা না হয়ে বরং প্রায়ই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ রাজনৈতিক চাপের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। এই বাস্তবতা কেবল পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তিন

বাংলাদেশে পুলিশের প্রতি জনআস্থা ও সুনামের সংকট অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই একটি বাস্তবতা। বিভিন্ন গবেষণা, জরিপ ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশ-জনগণের আস্থার ক্ষয়িষ্ণুতা প্রায়ই স্থান পায়। এই আস্থাহীনতার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য পুলিশের মাধ্যমে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার ও ভিত্তিহীন মামলা। মানবাধিকার সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায়শই পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তার সঠিক অনুসন্ধান ও জবাবদিহির অভাব থাকে; সরকারি অন্যান্য খাতের মতো পুলিশকেও দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগে প্রায়ই অভিযুক্ত করা হয়; অনেক সময় সাধারণ মানুষকে অভিযোগ দায়ের বা মামলা গ্রহণের জন্য ঘুষ দিতে হয় বলে সংবাদমাধ্যমে খবর উঠে আসে যার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জনসমক্ষে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ না করা; বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পুলিশের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে, যা জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে; সর্বোপরি, জনগণের নিরাপত্তার পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা পুলিশের ভাবমূর্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ফলশ্রুতিতে, বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে জনগণের কাছে ভয়, সন্দেহ ও অসন্তোষের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক বিকাশ এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে।

উত্তরণের পথ

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে, বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় এই সংকট নিরসনের পথ অনেকটাই বন্ধুর। তবে আশার কথা হল, এত অভিযোগ ও সংকট সত্ত্বেও পুলিশের একটি বড় অংশ প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে এবং প্রশংসিত হচ্ছে। সুতরাং, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশের কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধার খুব কঠিন হবে না।

একটি গণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও স্বাধীন পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা তখনই সম্ভব, যখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নীতিগত সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চুক্তি ও নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা সময়ের দাবি। সব ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি ন্যূনতম রাজনৈতিক চুক্তি প্রয়োজন, যাতে পুলিশ বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার অঙ্গীকার থাকবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার সংস্কারসহ কর্মঘণ্টা মানবিক পর্যায়ে এনে সম্মানজনক বেতন কাঠামোর মধ্যে রেখে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। পুলিশ যদি জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষক হতে না পারে, তবে রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশ ব্যাহত হতে বাধ্য। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভাবমূর্তিকে নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।

পুলিশের কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন নজরদারি করার জন্য কার্যকর বোর্ড বা কমিশন গঠন করা যেতে পারে। জনগণের অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থাপনা ও তদন্তের আধুনিকায়নও জরুরি। অভিযোগকারী অভিযোগের আপডেট অটোমেটেড পদ্ধতিতে অনলাইনে জানতে পারবে এমন কার্যকর প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। সার্বিক দিক বিবেচনায় তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়:

ক. রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিতকরণ, যেখানে গুরুত্ব পাবে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করা; প্রশিক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও পেশাদার নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা; প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রমাণভিত্তিক অপরাধ দমন কৌশল প্রবর্তন করা; এবং কর্মঘণ্টা মানবিক পর্যায়ে আনা এবং সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা।

খ. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য্যে প্রয়োজন পুলিশের কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন নজরদারি কার্যকর বোর্ড বা কমিশন গঠন; অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, যাতে অভিযোগকারী অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট জানতে পারে; এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ।

গ. জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে প্রয়োজন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকর বাস্তবায়ন; সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম চুক্তি, যেখানে পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার দৃঢ় অঙ্গীকার থাকবে।

পরিশেষে, পুলিশ যদি জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদার প্রকৃত রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তবে রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের পথে যাত্রা শুরু হবে। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার জন্য পুলিশকে নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে গণমানুষের সেবক হিসেবে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক
সহযোগী অধ্যাপক এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ