সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. হাসানুজ্জামান (৩৫), ঝিনাইদহ জেলার বাদপুকুরিয়ার বাসিন্দা এবং মো. আলমগীর শিকারী (৪৬), খুলনার কয়রা উপজেলার ভাগবা এলাকার বাসিন্দা। গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম শাখার একটি দল তাদের গ্রেফতার করে।সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি বা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের অপহরণ, মারধর, চাঁদা আদায় এবং ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল করে আসছিল। ভুক্তভোগী জামাল (ছদ্মনাম) কাকরাইলের তাবলিগ জামাতের একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে অভিযুক্ত সামসুল হক খানের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় জামালকে কৌশলে আটক করে সিআইডি পরিচয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।অপহরণকারীরা জামাল ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার রেজাউল করিমকে ঢাকার হাসনাবাদ এলাকার একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। মারধরের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে জামালের কাছ থেকে নগদ ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং রেজাউল করিমের কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এ সময় জামালকে বিবস্ত্র করে এক নারীর সঙ্গে বসিয়ে ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয় এবং ১৮টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে এসব ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা নং-১৬, তারিখ ৬ নভেম্বর ২০২৫, ধারা ১৪৩/৩৬৪/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হলে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। তদন্তের একপর্যায়ে মো. হাসানুজ্জামান ও মো. আলমগীর শিকারিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ধৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
