রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬
32 C
Dhaka

ডিটেকটিভ পাবলিশার

হোমপ্রবন্ধস্মার্ট প্রযুক্তিতে নিরাপদ সমাজ

স্মার্ট প্রযুক্তিতে নিরাপদ সমাজ

ড. মোসাদ্দেক হোসাইন কামাল
,

পুলিশের অপরাধ তদন্ত ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে ফেসিয়াল রিকগনিশন, বিকৃত বা ঝাপসা আঙুলের ছাপ পুনরুদ্ধার, সম্ভাব্য অপরাধের পূর্বানুমান ইত্যাদি কৌশল যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই অপরাধ দমন কৌশলের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা করছে এআই।

বিশেষ করে সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন, রিয়েলটাইম ট্র্যাকিং ও গাড়ির নাম্বার প্লেট শনাক্তকরণের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতাকে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি করেছে। এআই-নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু রেকর্ডিংই নয়, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্দেহজনক আচরণ বা অস্বাভাবিক গতিবিধি চিহ্নিত করে অপরাধ ঘটার আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করে।

রিয়েলটাইম ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ডেটাবেসে থাকা অপরাধীদের মুখমণ্ডল মুহূর্তের মধ্যে শনাক্ত করতে পারে, যা বিমানবন্দর, শপিং মল ও গণপরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার করে। স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ (এএনপিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে চুরি হওয়া বা সন্দেহভাজন গাড়ির নম্বর দ্রুত শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা সম্ভব হয়, যা যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তায় বিশেষভাবে কার্যকর। এছাড়া মাল্টি-ক্যামেরা ট্র্যাকিং সিস্টেম বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে অপরাধীর চলাচলের পথ নির্ণয় করে তাকে দ্রুত আটক করতে পুলিশকে সহায়তা করে। এসব সমন্বিত প্রযুক্তি অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, যা আধুনিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

সাম্প্রতিক সময়ে পহেলা বৈশাখের আগ মুহূর্তে মোটিফ পোড়ানোর ঘটনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাম্য হত্যাকাণ্ড অথবা দেশের বিভিন্ন স্থানে মব ভায়োলেন্স যদি আগেই শনাক্ত করা যেত, তবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। এআই ব্যবহার করে এসব স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মানুষের আচরণ, অডিও-ভিডিও ডেটার পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণ করলে সহিংসতা শুরু হওয়ার আগেই সংকেত প্রদানের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। অন্যদিকে ঘটনা ঘটার পর এসব অডিও-ভিডিও তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করাও সম্ভব। তাই বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ আগাম প্রতিরোধ ও ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত করা যেতে পারে।

সম্ভাবনাময় টুলস

বর্তমান বছরগুলোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে সাইবার অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্যাকিং, ফিশিং, অনলাইন প্রতারণা, ট্রলিং ও ভুল তথ্য প্রচার বর্তমানে ডিজিটাল সমাজে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এআই ডেটা বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং ও ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ব্যবহার করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি হঠাৎ অস্বাভাবিক কার্যকলাপ, ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা অনৈতিক পোস্ট চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা প্রদান করতে পারে। ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে অবৈধ বা হুমকিমূলক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক ‘ফাইন্ডিং ডোরা’ প্রতিবেদনের কথা। এতে দেখা যায়, একটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণার ঘটনায় এআই-চালিত চ্যাটবট ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছিল, যা তাদের অর্থ হারাতে বাধ্য করে। এছাড়া আরেকটি ঘটনায় ২০২৪ সালে এআই-জেনারেটেড ফিশিং ইমেইলে প্রায় ৬০ শতাংশ ইমেইল ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হয়, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনসহ (আইটিএফ) বিভিন্ন সংস্থা এআই-চালিত সিস্টেম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২ হাজারের বেশি অপব্যবহারমূলক বার্তা শনাক্ত করেছে এবং প্রায় আট হাজার খেলোয়াড়কে সুরক্ষা প্রদান করেছে। ডার্কট্রেসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম বিগ ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে হুমকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে, এআই অনলাইন দুনিয়াকে নিরাপদ রাখা, সাইবার অপরাধ কমানো ও সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার শনাক্তকরণে দ্রুত, কার্যকর ও স্বয়ংক্রিয় সমাধান দিতে সক্ষম।

রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ

এআই অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে অমূল্য অবদান রাখছে, তবে এর ব্যবহারে কয়েকটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে—যেগুলো মোকাবিলা না করলে প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রথমত, গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা। এআই সিস্টেম সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডেটা ও অনলাইন কার্যক্রমসহ বিপুল ব্যক্তিগত তথ্য প্রক্রিয়া করে; ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, পক্ষপাতের ঝুঁকি। এআই মডেল পূর্ববর্তী ডেটার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঐতিহাসিক পক্ষপাত অ্যালগরিদমে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ, লিঙ্গ বা আঞ্চলিক গোষ্ঠী অযথা সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ন্যায়সংগত আইন প্রয়োগের পরিপন্থি।

তৃতীয়ত, নির্ভুলতার সীমা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সর্বদা নিখুঁত নয়; কখনো অপরাধ শনাক্তকরণে ব্যাঘাত ঘটে, যা তদন্ত ধীর করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি করে।

চতুর্থত, আইনি ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার অনুমতি ছাড়া নজরদারি, ট্র্যাকিং বা ডেটা বিশ্লেষণ কঠোরভাবে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; তাই বৈধ ম্যান্ডেট, ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা নীতি ও নৈতিক নির্দেশিকা মানা অপরিহার্য।

সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো জেনারেটিভ এআই ও ডিপফেক। অপরাধীরা ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, যা মূল কনটেন্টের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যায়; সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে ধরা কঠিন। এ ধরনের কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, সামাজিক অশান্তি বা আর্থিক প্রতারণা ঘটাতে পারে—যা আইনি ও নৈতিকভাবে গুরুতর সমস্যা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্বয়ংক্রিয় টুল দিয়ে সন্দেহজনক কনটেন্ট শনাক্তের চেষ্টা করলেও, ভুয়া কনটেন্ট ক্রমে এত বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে যে অনেক সময় টুল ব্যর্থ হয়; আবার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় আসল কনটেন্টও ভুলক্রমে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

সুতরাং, এআই অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী হাতিয়ার হলেও এর প্রয়োগে কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, স্পষ্ট নিয়মাবলি ও নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত জটিলতা, আইনি সীমা এবং জনমতের প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রেখে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ করা গেলে—এআই আধুনিক আইন প্রয়োগে কার্যকারিতা ও ন্যায়সংগততা একসঙ্গে নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

 

এআইতেই ভবিষ্যৎ নির্ভরশীলতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এরই মধ্যে অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সিসিটিভি বিশ্লেষণ, ফেসিয়াল রিকগনিশন, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং ও গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ বর্তমানে এআইয়ের শক্তিশালী ব্যবহারের উদাহরণ। তবে এই প্রযুক্তির এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ডিপফেক, জেনারেটিভ কনটেন্ট ও অন্যান্য জটিল সাইবার অপরাধ পুরোপুরি শনাক্ত করতে এখনো মানুষের নজরদারির প্রয়োজন হয়।

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি হবে। উন্নত মেশিন লার্নিং, জেনারেটিভ এআই ও বিগ ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও নিখুঁতভাবে অপরাধের প্যাটার্ন চিহ্নিত করতে পারবে। ডিপফেক ভিডিও, ফেক কনটেন্ট প্রায় বাস্তবের হুবহু হলেও ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি তা দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এছাড়া প্রাক-প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, হুমকি পূর্বাভাস ও স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা প্রবর্তন করতেও এটি আরও কার্যকর হবে।

মানবজাতির কল্যাণে নতুন এআই প্রযুক্তির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত না করে, সরকারি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারকে এআই নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে যথেষ্ট অর্থায়ন করতে হবে, যেন এই প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত থাকে এবং সমাজের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়।

একই সঙ্গে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নিয়ন্ত্রিত নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা সম্পর্কিত রেজোলিউশন বা নীতি প্রণয়ন জরুরি। এই ধরনের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ এআইভিত্তিক নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানবাধিকার, গোপনীয়তা ও নৈতিক সীমার মধ্যে পরিচালিত হওয়া নিশ্চিত করবে।

সঠিক বিনিয়োগ ও নীতিমালা থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উদ্ভাসিত হবে।

উপরন্তু, দ্রুততর মেশিন, নতুন নতুন এআই প্রযুক্তি ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের উদ্ভাবন ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এই উন্নত প্রযুক্তি অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করে তুলবে। উদাহরণস্বরূপ, বিগ ডেটা বিশ্লেষণ, জটিল প্যাটার্ন শনাক্তকরণ ও সন্দেহজনক কার্যকলাপ আগে থেকেই চিহ্নিত করা আরও দ্রুত সম্ভব হবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সাহায্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার সম্ভাব্য অপরাধের নমুনা যাচাই করতে পারবে, যা সাধারণ কম্পিউটারের পক্ষে করা কঠিন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন, ডিপফেক শনাক্তকরণ, সাইবার অপরাধ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনৈতিক কার্যকলাপ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা ও প্রাক-প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ আরও কার্যকর হবে। তবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করার সময় গোপনীয়তা, নৈতিকতা ও আইনি সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা অপরিহার্য, যাতে করে প্রযুক্তির উন্নয়ন মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে।

শেষকথা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপরাধ প্রতিরোধে বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং অপরাধ শনাক্তকরণ, পূর্বাভাস ও প্রতিক্রিয়া আরও উন্নত করেছে। এটি নিরাপত্তা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা প্রদান করলেও নৈতিক উদ্বেগের জায়গাও রয়েছে। ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় এসব উদ্বেগের সমাধান করতে হবে। সরকার ও প্রযুক্তি উন্নয়নকারীদের এক সঙ্গে কাজ করে এমন সুষম এআই ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যা ব্যক্তি অধিকার ক্ষুণ্ন না করেই জননিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে। সঠিক নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি সহায়ক ব্যবস্থা হয়ে নিরাপদ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক

অধ্যাপক
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সম্প্রতি

নাগরিক সংযোগ